ঢাকা, বুধবার,২৪ মে ২০১৭

নগর মহানগর

৩২৩ সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প

ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা; বিদেশ সফরে বরাদ্দ ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা; প্রতিটিতে একাডেমিক ভবন নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১২ কোটি টাকা

হামিদ সরকার

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:২৯


প্রিন্ট

দেশের ৩২৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। অবকাঠামো সমস্যা ও শিক্ষক-জনবল সঙ্কটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষাদানের জনবল অনেক কম। তাই চার হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ মঙ্গলবার প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। প্রকল্পে প্রতিটি স্কুলে একাডেমিক ভবন নির্মাণে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে।
প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, বতর্মানে বাংলাদেশে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার তিনটি ধারা চালু আছে। এগুলো হলো, সাধারণ শিক্ষা, মাদরাসা শিক্ষা ও ভোকেশনাল বা কারিগরি শিক্ষা। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই দু’টি শিক্ষার ধারায় বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে।
বর্তমানে দেশের মোট ৩৩৫টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টি বিদ্যালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের অধীন ভিন্ন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত আছে। অবশিষ্ট ৩২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে বিরাজমান আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা, প্রকল্পভুক্ত বিদ্যালয়গুলোতে প্রতি বছর ৭৬ হাজার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীসহ তিন লাখ ২৯ হাজারের বেশি অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা, যাতে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।
এক জরিপে দেখা গেছে, ৩২৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ২০১৫ সালের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী ৬৮ হাজার ৮৩৯ জন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীসহ মোট ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১০৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এসব বিদ্যালয়ে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা সামগ্রী সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুলাই মাসে শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা থেকে প্রত্যয়ন না পাওয়ার কারণে একনেকে পেশ করা যায়নি। ফলে অনুমোদনও আটকে ছিল।
প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে, ৩২৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ ভূমি উন্নয়ন, ১২৫টি বিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ২৪টি বিদ্যালয়ের হোস্টেল ও একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টার্স নির্মাণ, কম্পিউটার্স ল্যাব, সায়েন্স ল্যাব, লাইব্রেরি, ইন্টারনেট সুবিধা ও স্মার্ট কাস রুম, মাল্টিমিডিয়া কাস রুম করা। সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তির হার ২০১৪ সালে ১৩ শতাংশ ছিল। এটা ২০২০ সালে ২০ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ব্যয় ২ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আগামী ২০২০ সালে ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ৫০ জনের বৈদেশিক শিক্ষা সফরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, বিদ্যালয়ের জন্য অফিস আসবাবপত্র কিনতে ব্যয় ১৭৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, বিদ্যালয়গুলোর জন্য কম্পিউটার, কম্পিউটার সামগ্রী, ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর কিনতে ব্যয় হবে ১৬৪ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ৩২০টি বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ব্যয় ৩ হাজার ৮১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ১২৫টি বিদ্যালয়ের ভবন ঊর্ধ্বমুখী করতে ২৮৭ কোটি ২৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা, ৫০ শয্যার ছাত্রছাত্রীর হোস্টেল নির্মাণে ৮৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নেই এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫