ঢাকা, শনিবার,২৫ মার্চ ২০১৭

শেষের পাতা

দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ২৩ নৌরুটে চলছে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ ট্রলার

আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট
বরিশালের ডেঞ্জার জোনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ ট্রলারে পারাপার হচ্ছেন উপকূলবাসী :নয়া দিগন্ত

বরিশালের ডেঞ্জার জোনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ ট্রলারে পারাপার হচ্ছেন উপকূলবাসী :নয়া দিগন্ত

দক্ষিণাঞ্চলের ১৮টি নদীর তিন হাজার কিলোমিটার নৌ-পথের ঝুঁকিপূর্ণ ২৩ রুটে এমএল টাইপের লঞ্চসহ ছোট নৌ-যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। নিষিদ্ধ এসব নৌ-পথে বিআইডব্লিউটিসি’র সি-ট্রাকসহ বে-ক্রসিং ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও তার কোনো দেখা নেই। যে কারণে এসব রুটে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ ট্রলার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে উপকূলীয় সার্ভিসে আসছে না বে-ক্রসিং জাহাজ। বিআইডব্লিউটিসির ১৩টি সি-ট্রাকের মধ্যে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে মাত্র চারটিতে। এসব রুটে চলাচলকারী বেসরকারি কোম্পানির ১১টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সুযোগে প্রতি বছরের মতো এবারো ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে অবৈধ নৌযান সিন্ডিকেটের লোকজন। ফলে আগামী সাত মাস এসব অবৈধ ট্রলার ও নৌকায় উপকূলবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডেঞ্জার জোন পাড়ি দিতে হবে।
সূত্রে আরো জানা গেছে, নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে ২০০০ সালে উপকূলীয় এলাকার তিন হাজার কিলোমিটার নৌ-পথকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ডেঞ্জার জোনে সি-ট্রাক ও বে-ক্রসিং ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ছাড়া অন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম চালু করা হয়। নিয়ম বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, উপকূলের তিন হাজার কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-পথে ২৩টি রুট রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল-ইলিশা-মজুচৌধুরীরহাট, দৌলতখাঁ-চরআলেকজান্ডার, মির্জাকালু-চর আলেকাজান্ডার, তজুমদ্দিন-চর আলেকজান্ডার রুটে এমভি চন্দ্রদ্বীপ, এমভি উপবন, এমভি সঞ্চিতা-২, এমভি রাজপাখি, এমভি প্রিন্স অব বরিশাল, এমভি জনতা, এমভি গ্রিন ওয়াটার-৫, এমভি সোহেলী-১, এমভি ইম্পেরিয়াল, এমভি মুঈন ও এমভি রামগতি এক্সপ্রেস চলাচল করে আসছিল। বিআইডব্লিউটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাত মাস নৌ-যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সি-ট্রাকের বাইরে বেসরকারি মালিকানাধীন বে-ক্রসিং ক্ষমতাসম্পন্ন এমভি টিপু-৫ ও পানামা-৫ লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সাত মাস ডেঞ্জার জোনে চলাচলের কথা থাকলেও বর্তমানে তা মনপুরা ও হাতিয়া রুটে চলাচল করছে। অতীতে ডেঞ্জার জোন ঘোষণার পর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কুতুবদিয়া এ রুটে চলাচলের জন্য পাঠানো হতো। গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি ছোট লঞ্চ ও ট্রলারের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ব্যয়বহুল এ জাহাজগুলো পরিচালনা করা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এসব রুটে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনের জন্য যে ১৩টি সি-ট্রাক রয়েছে তার মধ্যে ৯টিই যাত্রী পরিবহনের বাইরে রয়েছে। ভোলার বিচ্ছিন্ন উপদ্বীপ মনপুরায় যাতায়াতকারী সি-ট্রাক শেখ কামাল, বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটের এসটি খিজির-৮, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের এসটি খিজির-৫ ও খিজির-৭ দীর্ঘদিন ধরে সংস্থার ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য রয়েছে। এর মধ্যে এসটি খিজির-৫ ও খিজির-৭ নৌযান দুইটি ইজারাদার নিয়োগ করে শিগগিরই ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি এসব নৌযানের নেই সার্ভে সনদ। এমনকি খিজির-৭ দীর্ঘদিন ধরে ডকিং না করায় এর তলার অবস্থা খুবই নাজুক। এ অবস্থায় নৌযানটির তলায় সিমেন্ট প্লাস্টার করে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রী পরিবহনের আয়োজন করা হচ্ছে। বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটে খিজির-৮ পরিচালনার জন্য এখনো ইজারাদার নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ নৌযানটি কবে থেকে যাত্রী পরিবহন করবে তা বলতে পারছে না সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব ডা: মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে প্রতি বছরের মতো এবারো আগামী সাত মাস ডেঞ্জার জোন দিয়ে উপকূলবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ নৌকা ও ট্রলারে পারাপার হতে হবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫