পিতার দাবি

বরগুনার আবু হানিফ মৃত্যুর ১৯ দিন আগে অপহৃত হন

বরগুনা সংবাদদাতা

র্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর মৃত্যুবরণকারী মো: হানিফ মৃধা ওরফে হানিফাকে (৩২) ডিবি পরিচয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অপহরণ করা হয় বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। এ সময় সোহেল হোসেন মন্টু নামে আরো এক যুবককে অপহরণ করা হয়। যার খোঁজ এখনো মেলেনি। মৃত্যুর ১৯ দিন আগে বরিশাল থেকে রাজধানীর বাসায় ফেরার পথে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে অপহৃত হন মো: আবু হানিফ। বরিশালে চরমোনাই পীরের মাহফিলে যোগ দান শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। আবু হানিফের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আবু হানিফ মৃধার বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া গ্রামে। সেখানে থাকেন আবু হানিফের বাবা আ: ছোবাহান, মা লিলি বেগম, হানিফের প্রথম স্ত্রী লাইলি বেগম এবং তিন সন্তান সুমাইয়া (৬), জান্নাতী (সাড়ে ৪) ও হাবিবা (দেড় বছর)। তার ছোটভাই আ: হালিম ও হালিমের পরিবারও গ্রামের বাড়িতেই থাকে।
হানিফের বাবা আ: ছোবাহানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবু হানিফ ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে কাজের জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান। প্রথমে ফুটপাথে ব্যবসা করতেন। পরে যাত্রীবাহী বাসের হেলপার, কন্ডাকটর ও ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করেন। পরে হানিফ নিজে তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেট কারের মালিক হন। ঢাকার বিভিন্ন রুটে এসব বাস ও প্রাইভেট কার ভাড়ায় চালানো হয়। ঢাকায় তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন।
হানিফের বাবা বলেন, ‘গত মাসে (২৭ ফেব্রুয়ারি) চরমোনাই হুজুরের মাহফিলে যায় হানিফ। সেখানে মাহফিল শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে ঢাকা থেকে এক লোক বাড়িতে ফোন করে জানায়, হানিফকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই খবর শুনে হানিফের মা ও ছোট ভাই হালিম ঢাকায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে। এমন সময় হানিফেরে প্রাইভেট কারের ড্রাইভার জানান, কাঁচপুর ব্রিজের ওপর থেকে হানিফের গাড়িতে একদল লোক উঠে বসে। কিছু পথ যাওয়ার পর ড্রাইভারকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে গাড়িসহ হানিফকে নিয়ে যায়। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা বলতে পারেনি ড্রাইভার।’
আ: ছোবাহান আরো বলেন, ‘হানিফ গ্রামের আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে। পরে আর কোথাও লেখাপড়া করেনি। স্থানীয় সাহেববাড়ী বাসস্ট্যান্ডে চায়ের দোকান ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালাত হানিফ। পরে ভালো কাজের জন্য ঢাকায় পাড়ি জমায়।’
ছেলে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল কি না, জানতে চাইলে আ: ছোবাহান বলেন, ‘আমার ছেলে খুব নিরীহ। তার আচার-আচরণ ভালো। সে এমন কোনো কাজ করতে পারে না। তবে আমি আমার ছেলের লাশ বাড়িতে আনতে চাই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু হানিফের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের একটি মামলা রয়েছে। তবে পরিবারের কেউ মামলা সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি।
আবু হানিফের প্রথম স্ত্রী লাইলি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে আমার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। গত দুই বছর ধরে তার সাথে আমার কোনো কথা হয়নি। সে আমার ভরণপোষণও দেয় না। শ্বশুরের সংসারে আছি। আমার শ্বশুর আমার ও আমার সন্তানদের ভরণপোষণ চালাচ্ছেন।’
হানিফ সম্পর্কে জানার জন্য তার ছোট ভাই আ: হালিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চাইলে সে পুলিশ স্টেশনে আছে বলে ফোন কেটে দেয়। পরে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
আমতলী থানার ওসি মো: শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘আবু হানিফ সম্পর্কে আমাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। আমরা তদন্ত করে তার বিষয়ে জানতে চেষ্টা করছি।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.