এরশাদের রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলায় দুদকের রিভিউ খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা বিমানের রাডার ক্রয়সংক্রান্ত্র দুর্নীতি মামলায় পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
গতকাল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এরশাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
পরে খুরশিদ আলম খান জানিয়েছেন, রাডার ক্রয়সংক্রান্ত মামলাটি বিচারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে এ মামলায় নতুন করে সাক্ষ্য নেয়ার আর কোনো সুযোগ থাকল না।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের এক আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট অভিযোগপত্রে থাকা সব সাক্ষীর সাক্ষ্য পরীক্ষার জন্য প্রসিকিউশনকে (দুদক) সুযোগ দিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিচার শেষ করতে নির্দেশ দেন। গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের এই রায় বাতিল করে দেন আপিল বিভাগ।
আইনজীবীরা জানান, ওই মামলার অভিযোগপত্রে প্রসিকিউশন (দুদক) পক্ষে ৩৮ জন সাক্ষী ছিল। এর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পরে সাক্ষ্য নেয়া শেষ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। এ অবস্থায় বাকিদের সাক্ষ্য নেয়ার জন্য যুক্তিতর্ক পর্যায় থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে নিতে বিচারিক আদালতে আবেদন করে দুদক, যা গত বছরের ৭ নভেম্বর খারিজ হয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। এই আবেদন নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশনাসহ আদেশ দেন।
জানা যায়, ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ওই মামলা করে। এতে অভিযোগ করা হয়, এরশাদসহ আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থমসন সিএসএফ কোম্পানির রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কেনেন। এতে সরকারের ৬৪ কোটি চার লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। তদন্ত শেষে ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে এরশাদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অন্য আসামিরা হলেনÑ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ, তৎকালীন সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.