ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৯ জুন ২০১৭

প্রথম পাতা

ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি

২৬ মার্চ অথবা কুসিক নির্বাচনের পর ঘোষণার সম্ভাবনা

মঈন উদ্দিন খান

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি। একাধিকবার কমিটি ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েও রহস্যজনক কারণে তা শেষ মুহূর্তে এসে আটকে গেছে। কমিটি গঠন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে একাধিক বলয় সক্রিয় থাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর ক্ষেত্রে একবার একজনের নাম ঢুকছে, আবার আরেকটি নাম কাটা পড়ছে। মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ দু’টি অংশে সভাপতি-সেক্রেটারি পদ নিয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে দলের হাইকমান্ড। উত্তরে সভাপতি পদ চূড়ান্ত হলেও সেক্রেটারি পদ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। দক্ষিণে সভাপতি ও সেক্রেটারি কোনো পদই এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি কেন্দ্র। মহানগর কমিটি নিয়ে শীর্ষ কিছু নেতার ভিন্ন ভিন্ন পছন্দের কারণে এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দিয়েছে। অন্য দিকে মহানগরের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল কারাগারে থাকায় এবং সামনে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন হওয়ায় কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কমিটি গঠনের সাথে যুক্ত একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, দ্রুত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মূলত নেতাদের মধ্যে মতের অমিল। কোনো একজনকে সভাপতি কিংবা সেক্রেটারি হিসেবে চূড়ান্ত করে আনা হলে, এদেরই কেউ আবার বাদ সাধছেন। সাথে যোগ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পদে না রাখার নানা যুক্তি। এর ফলে হাইকমান্ড স্পষ্ট কোনো বার্তা পাচ্ছে না।
মহানগর উত্তরে সভাপতি হিসেবে সাবেক কমিশনার বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা এম এ কাইয়ুমের নাম বরাবরই আলোচিত হচ্ছে। জানা গেছে, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও কাইয়ুমকে সভাপতি পদে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে রেখেছেন। তবে দলের ভেতরে একটি অংশ তাকে সভাপতি না করার জন্য নানা যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। এরা বলছেনÑ কাইয়ুম দেশের বাইরে রয়েছেন, তার বিরুদ্ধে রয়েছে অনেক মামলা। তিনি শিগগিরই দেশে ফিরতে পারবেন না। জানা গেছে, দলের হাইকমান্ডের কাছে এ ধরনের বার্তা দেয়ার পরও খুব একটা কাজে আসেনি। উত্তরের সভাপতি হিসেবে কাইয়ুমই দলের প্রথম পছন্দ। হাইকমান্ড মনে করছে, কাইয়ুম ব্যক্তিগত কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণেই দেশের বাইরে রয়েছেন। উত্তরে দল পরিচালনায় তার বিকল্প নেই।
জানা গেছে, উত্তরের সভাপতি হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব:) কামরুল ইসলামকেও কেউ কেউ সামনে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রে তারা তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। মহানগরের রাজনীতিতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় হাইকমান্ড সরাসরি এ ধরনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
উত্তরে সেক্রেটারির পদ নিয়ে চলছে নানা দেনদরবার। প্রথম দিকে কাইয়ুমের সাথে কমিশনার আহসান উল্লাহ হাসানের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে, এমন শোনা গেলেও এখন এ তালিকায় যোগ হয়েছেন আরো দু’জন। এরা হলেন সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু। সাবেক এই দুই কমিশনারেরও মহানগর উত্তরে ভালো আধিপত্য রয়েছে। কমিটি গঠনের সাথে যুক্ত নেতাদেরকে একটি পক্ষ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আহসানউল্লাহ হাসান অধিকাংশ সময়ই দেশের বাইরে থাকেন। কাইয়ুমের সাথে তাকে সেক্রেটারি করা হলে দল পরিচালনা করা কঠিন হবে। সিনিয়র নেতাদের মধ্যেও সেক্রেটারি পদ নিয়ে মতদ্বৈততা রয়েছে। এ অবস্থায় তিনজনের যে কেউই হতে পারেন উত্তরের সেক্রেটারি।
আহসানউল্লাহ হাসান নয়া দিগন্তকে বলেছেন, আমি একেবারেই দেশে চলে এসেছি। পদের জন্য লালায়িত নই। দীর্ঘ দিন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যদি যোগ্য মনে করে আমাকে দায়িত্ব দেন, তাহলে তা নিষ্ঠার সাথে পালন করব।
অন্য দিকে একাধিক বলয়ের কারণে মহানগর দক্ষিণে সভাপতি ও সেক্রেটারির কোনো পদই চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। সভাপতি হিসেবে সর্বশেষ যার নাম যুক্ত হয়েছে, তিনি হলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। দলের সিনিয়র বেশির ভাগ নেতাই এখন সালাহউদ্দিনকে সভাপতি করার পক্ষে। এ ক্ষেত্রে ঢাকার রাজনীতিতে তার দীর্ঘ দিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সালাহউদ্দিন নিজেও চেয়ারপারসনের সাথে দেখা করে দক্ষিণের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। সালাহউদ্দিনের পাশাপাশি বর্তমান মহানগর কমিটির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও দক্ষিণের সভাপতি হতে চান। বিএনপি চেয়ারপারসনও তাকে মহানগরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে আগ্রহী। সোহেলের ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, সভাপতি ছাড়া অন্য কোনো পদে থাকতে চান না তিনি। জানা গেছে, সালাহউদ্দিন অথবা সোহেল যেকোনো একজন দক্ষিণের সভাপতি হচ্ছেন। সালাহউদ্দিনকে সভাপতি পদে চূড়ান্ত করা হলে সোহেলকে সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাব দেয়া হতে পারে। হাবিব উন নবী খান সোহেল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের পদেও রয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেছেন, দীর্ঘ ১২ বছর মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম, এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছি। নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার এখন আর কিছু নেই। নেত্রী আমাকে মহানগরের দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। আমাকে সভাপতি করা হলে দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করব।
দক্ষিণের সেক্রেটারি হিসেবে আরো আলোচনায় আছেন মহানগরের নেতা ইউনুস মৃধা, হারুন অর রশীদ হারুন. নবী উল্লাহ নবী ও সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রশীদ হাবীব।
জানা গেছে, উত্তর ও দক্ষিণে সুপার সেভেন অথবা সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ইতোমধ্যে একটি শর্ট লিস্ট তৈরি করেছেন, যেখান থেকে নেতা বাছাই করা হবে।
উত্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে যারা তৎপরতা চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আলীম নকী, আতিকুল ইসলাম মতিন, এ জি এম শামছুল হক, এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ, শাহিনুর আলম মারফত, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাসুদ খান, রুহুল আমিন জাহাঙ্গীর, গোলাম কিবরিয়া মাখন, আলী আকবর আলী, খন্দকার জিল্লুর রহমান, শাহ আলম মোল্লা, শেখ হাবিবুর রহমান হাবিব ও এম এস আহাম্মদ আলী।
মহানগর দক্ষিণে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে যারা দেনদরবার করছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন মীর হোসেন মিরু, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, সাবেক কমিশনার মোশাররফ হোসেন খোকন, তানভীর আহমেদ রবীন, মো: মুজিবুর রহমান খান, জয়নাল আবেদিন রতন চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর আনোয়ার পারভেজ বাদল, শেখ আমির হোসেন, হাজী মো: মনির হোসেন চেয়ারম্যান, মো: শামসুল আলম চিনু, এম এ হান্নান, মো: জুম্মন মিয়া চেয়ারম্যান, সাবেক কমিশনার আবদুল লতিফ, লতিফ উল্লাহ জাফরু, শামসুল হুদা, সাজ্জাদ জহির, আতিকুল্লাহ আতিক ও গোলাম হোসেন।
দল পুনর্গঠনের দায়িত্বে নিয়োজিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। আমরা সতর্কতার সাথে কাজ করছি। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সিনিয়র নেতাদের সাথে পরামর্শ করে কমিটি ঘোষণা করা হবে। জানা গেছে, ২৬ মার্চের পর অথবা ৩০ মার্চ কুসিক নির্বাচনের পর কমিটি ঘোষণা করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫