ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ অক্টোবর ২০১৭

প্রথম পাতা

বগুড়া ও লক্ষ্মীপুরের পর আজ মাগুরায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাকির হোসেন লিটন

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট
 নির্বাচনী প্রচারে মাঠে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী প্রচারে মাঠে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারই অংশ হিসেবে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী বিভিন্ন দলীয় জনসভায় যোগ দিচ্ছেন। এসব সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তৃতা করছেন তিনি। একই সাথে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ও প্রতীক নৌকা মার্কায় জনগণের কাছে ভোটও চাইছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার মাগুরায় জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। এর আগে ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা থেকে আগামী সব নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মূলত গত মাসে উত্তরবঙ্গের অন্যতম জেলা এবং বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত বগুড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারের এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দলটি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওই দিন বগুড়ায় দলীয় জনসভায় আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে সরাসরি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সারা দেশে জনসভার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে আগামী দুই মাসে বিভিন্ন জেলায় প্রধানমন্ত্রীর অন্তত ছয়টি জনসভার কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে দলটি। এর মধ্যে চলতি মাসের ১৪ তারিখ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুর জেলায় জনসভা করেছেন। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী খুলনা বিভাগের মাগুরায় জনসভা করবেন। এরপর ২৮ মার্চ মঙ্গলবার ফরিদপুর, আগামী মাসের ১৫ তারিখ শনিবার দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে, ২৩ তারিখ রোববার বরিশাল বিভাগের বরগুনায় এবং সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল শনিবার চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ সভাপতির জনসভার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগ ও সরকারের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও সরকারি কর্মসূচিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
দলের সিনিয়র এক নেতা আলাপকালে জানান, আওয়ামী লীগ বেশ আগ থেকেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিশেষ করে গত অক্টোবর মাসে জাঁকজমকভাবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুই দিনব্যাপী দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন শেষের মধ্য দিয়েই এ প্রস্তুতি শুরু করে ক্ষমতাসীনেরা। দলীয় কাউন্সিলের পর থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন জেলায় সংবর্ধনায় যোগ দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানান। তবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার মধ্য দিয়েই মূলত এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দলটি।
দলের সম্পাদকমণ্ডলীর প্রভাবশালী একজন সদস্য জানান, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা থেকে সব এমপিকে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামার নির্দেশ দেন। একই সাথে বিতর্কিত এমপিদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কে কী করছে আমার কাছে সব রিপোর্ট আছে। আগামী নির্বাচনে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। এরপর থেকেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা যার যার নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারসহ সব ছুটির দিনে নিজ নিজ এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা।
নির্বাচনী প্রচার সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘গত অক্টোবরে দলীয় কাউন্সিলেই আমাদের সভানেত্রী নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা সারা দেশে যার যার মতো এলাকায় ছুটে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, জনসভাগুলোও নির্বাচনী প্রচারের অংশ।
দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেজন্য নিয়মিত জনসভার আয়োজনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে নির্বাচনী প্রচার হিসেবে দেখলেও দোষের কিছু নেই। আর সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরা হলে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়াও স্বাভাবিক।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫