ঢাকা, শুক্রবার,২৩ জুন ২০১৭

প্রথম পাতা

ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে সরকার : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সরকার ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছে। তারা প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আন্তরিক নয়। এভাবে দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। তিনি সরকারকে আগুন নিয়ে না খেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আজকে জঙ্গিরাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান উপমহাদেশের এই তিনটি রাষ্ট্রকে আমেরিকা জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আমরা মনে করি, জঙ্গিবাদকে এই সরকার ব্যবহার করছে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার জন্য। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ঘটনার সত্য ব্যাখা দাবি করেন।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের স্বাধীনতা হলে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন, মির্জা ফখরুল। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) উদ্যোগে এই সভা হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্র্যাটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, এনপিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এম অহিদুর রহমান, নজরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনপিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আ হ ম জহির হোসেন হাকিম।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সীজার হত্যার পরে আমরা বলেছিলাম- এই আগুন নিয়ে খেলবেন না। জঙ্গিবাদের আগুন ভয়াবহ আগুন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের লেশ মাত্র নাই। সুফিবাদের মধ্য দিয়ে, শান্তির মধ্য দিয়ে এ দেশের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, পরস্পরের সহনশীলতার মধ্যদিয়ে এ দেশ গড়ে উঠেছে। এখানে ধর্মপ্রিয়তা আছে, ধর্মান্ধতা নেই। আমরা সরকারকে স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, জঙ্গিবাদকে নিয়ে খেলবেননা। এর সুষ্ঠু তদন্ত করুন। কোথায় এর মূল কারণ, সেটি বের করুন। কোথায় জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে, এটা বের করতে হবে এবং এর সমাধান করতে হবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর নিহত, হানিফকে আগেই তুলে নেয়ার দাবি পরিবারের। বলা হচ্ছে-হানিফকে আশকোনোর নির্মাণাধীন র্যাব হেডকোয়াটারেরর কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার কয়েক ঘণ্টা পরে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি র্যাবের দাবি। এরপর হানিফের বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাকে পাশের কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়, সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, হানিফের পরিবার বলছে যে, ২৭ ফেব্রুয়ারি সাদা পোশাকে র্যাবের লোকেরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। শীতলক্ষা নদীর কাঁচপুরে চরমোনাইয়ের জলসা থেকে ফিরছিলো, সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দাবি করছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে- কোনটি সত্য? র্যাবের ব্যাখ্যা সত্য না কী তার পরিবারের সদস্যের ব্যাখ্যা সত্য। যদি পরিবারের কথা সত্য হয়ে থাকে আমরা কোন দেশে বাস করছি? তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং জঙ্গিবাদ দমনে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান, আমরা সেটিও চাই। আমাদের সাথে ভারতের যে সমস্যা তার সমাধান চাই। আমরা তিস্তা নদীর পানি চাই। আমরা ফারাক্কা বাঁধে যে সর্বনাশ হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা অভিন্ন নদীর যে ন্যায্য হিৎসা আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য সঙ্গত যে দাবি রয়েছে, আমরা যেন পাই, তার ভাগ-বাটোয়ারা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সীমান্তে যেন অন্যায়ভাবে বেআইনিভাবে হত্যা করা না হয়, সেটিকে বন্ধ করতে হবে এবং অন্যান্য যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোর সমাধান করতে হবে। কিন্তু কোনো মতে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করে, আমাদের স্বার্থকে নষ্ট করে নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন চাই। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবেন, তারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন, সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে- তার কোনো কারণ নেই। তাই আমরা বলেছি স্পষ্টভাবে যে আমরা নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার চাই, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন দিতে পারবে, জনগণ তা গ্রহণ করতে পারবে। এই ইস্যুতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁত শিল্প শেখ মুজিবুর রহমান চলে যাওয়ার পরে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঐতিহাসিক সত্যটা কী? শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তাঁত বোর্ড গঠন করেছিলেন, সেই বোর্ড গঠন করার মধ্য দিয়ে পরে তাঁত শিল্পে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। পোশাক শিল্পসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থনীতির নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন জিয়া; একদিকে কৃষিতে বিপ্লব এনেছিলেন, অন্য দিকে শিল্প বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন।
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ২০ দলীয় জোট আগামী নির্বাচনে যেতে চায়। কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশটির সাথে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি ও প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে কিনা, দেশবাসী তা জানতে চায়। তবে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি দেশবাসী মানবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫