ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৫ মে ২০১৭

নগর মহানগর

রাবিতে ভিসি ও প্রোভিসির পদ শূন্য : ভিসি হতে দৌড়ঝাঁপ

তাসলিমুল আলম তৌহিদ রাবি

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও প্রোভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান গতকাল রোববার তাদের কার্যকালের চার বছর মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। ফলে গত সোমবার থেকে শূন্য হয়েছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ দু’টি। রোববার শেষ কর্মদিবসে প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স রুমে তারা দফতরপ্রধানদের সাথে মতবিনিময়ে মিলিত হন। এ দিকে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কারা আসছেন, পুরো ক্যাম্পাসে এখন তা আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আর নতুন পদ পেতে আগ্রহী শিক্ষকেরাও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, শিক্ষা, গবেষণার মান ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা যাদের ভালো, তারাই যেন নেতৃত্ব আসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ১০-১১ জন প্রফেসর ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষ পদে পরবর্তী প্রশাসনে দায়িত্ব পেতে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করছেন। এর আগে প্রশাসনের একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন শিক্ষকেরাও চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। সাবেক একজন ভিসিও নতুন করে সে পদটি নিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তবে গোয়েন্দা ও বিভিন্ন সূত্র বলছে, ‘বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ভিসি মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও প্রোভিসি চৌধুরী সারওয়ার জাহান আবারো একই পদে থাকতে পারেন। তাদের দায়িত্বে গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিকভাবে যে উন্নতি হয়েছে, তা এরই মধ্যে সরকারের নজর কেড়েছে। তাই বর্তমান সরকার হঠাৎ করে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে না-ও পারে।
বর্তমান প্রশাসনের বাইরে ভিসি বা প্রোভিসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি মো: আবুল কাশেমের নাম উঠে এসেছে। তিনি ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরবর্তী প্রশাসনে দায়িত্ব পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর সাদেকুল আরেফিন। তিনি বর্তমানে সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর রকীব আহমেদ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদটি পেতে অনেকের সাথেই যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হেকেপ প্রজেক্ট শেষ হলে তিনি কয়েক লাখ টাকার হিসাব দিতে পারেননি বলে অভিযোগ আছে।
সাবেক ভিসি এম আবদুস সোবহান দৌড়ঝাঁপ করছেন নতুন করে আবারো সেই পদটি নিতে। তিনি ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন পদে বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে একাধিক নিয়োগ দিয়েছিলেন। নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে এই ভিসিকে আদালতের কাঠগড়ায়ও দাঁড়াতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু, টিএসসিসিসহ বিভিন্ন স্থায়ী তহবিলের কোটি কোটি টাকা শেষ করেছিলেন আবদুস সোবহান। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর ওই তহবিলের অর্থ পরিশোধ করেন। দায়িত্ব শেষ করে ভিসি বাসভবন থেকে চলে যাওয়ার সময় তিনি ওই বাসভবনের অনেক আসবাবপত্র নিয়ে যান। এ ঘটনায় পরবর্তীকালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর মুশফিক আহমেদও পরবর্তী প্রশাসনে দায়িত্ব পেতে ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছেন। বর্তমান প্রশাসনে তিনি ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স’ সেলের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আনন্দ কুমার সাহা চেষ্টা করছেন পরবর্তী প্রশাসনে আসতে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তবে তিনি বলেন, আমি বিভেদ নয়, দলের ইউনিফিকেশনের ব্যাপারেই বরাবর কাজ করেছি।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার চেষ্টা করছেন দায়িত্ব পেতে। তিনি গত প্রশাসনের সময় (২০০৯-১৩) ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ওই প্রশাসনে নিয়োগবাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এই শিক্ষকের স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর তানজিমা ইয়াসমিন ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে হেকেপ প্রজেক্টে কয়েক লাখ টাকার হিসাব দিতে পারেননি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে।
ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মো: রোস্তম আলী এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পাণ্ডে আগামী প্রশাসনে দায়িত্ব পেতে বিভিন্ন মাধ্যমে ওপর মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
এ ছাড়া প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর সেলিনা পারভীন ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর শাহ আজম শান্তনুর কথাও শোনা যাচ্ছে।
২০১৩ সালের ২০ মার্চ তৎকালীন ভিসি প্রফেসর আব্দুস সোবহান ও প্রোভিসি প্রফেসর নুরুল্লাহর কাছ থেকে বর্তমান ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও প্রোভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান দায়িত্বভার প্রহণ করেন। তারা আজ সোমবার থেকে নিজ বিভাগে ফিরে যাবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫