ঢাকা, রবিবার,২৬ মার্চ ২০১৭

নগর মহানগর

সাতক্ষীরা থেকে নিখোঁজ ডা: মোখলেছকে খুঁজে বের করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

জঙ্গি সন্দেহে তিন দিন আটক রাখার পর সাতক্ষীরা সদর থানার হেফাজতখানা থেকে নিখোঁজ মোখলেছুর রহমান জনিকে খুঁজে বের করে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের কুখরালী গ্রামের নিখোঁজ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনির স্ত্রী জেসমিন জাহানের উচ্চ আদালতে দায়ের করা এক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি মাহমুদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
নিখোঁজ জনির স্ত্রী জেসমিন জাহান জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট এলাকা থেকে তার স্বামী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনিকে জঙ্গি সন্দেহে আটক করে সদর থানার এসআই হিমেল। ওই রাতে তাদের বাড়িতে তল্লাশি করে সদর থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ তার স্বামীর ডাক্তারি-সংক্রান্ত কিছু কাগজ নিয়ে যায়। এরপর গত ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট থানায় গিয়ে তিনি তার স্বামীর সাথে দেখা করেন এবং খাবার দিয়ে আসেন। কিন্তু ৮ আগস্ট থানায় গিয়ে তিনি তার স্বামীকে আর দেখতে পাননি। তখন থানা থেকে তাকে জানানো হয়, জনি নামে থানায় কেউ নেই। বিষয়টি তিনি ২৪ আগস্ট পুলিশ সুপারকে জানালেও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
জেসমিন বলেন, পুলিশ সুপার কোনো খোঁজ না দেয়ায় ২৬ ডিসেম্বর তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। তৎকালীন ওসি এমদাদুল হক শেখ (বর্তমানে সাতক্ষীরার কলারোয়া থানায় কর্মরত) জিডি নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ওসি তাকে ডেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বলেন, টাকা দিলে স্বামীকে পাবে, তা না হলে আর কোনো দিন তাকে খুঁজে পাবে না। এ ব্যাপারে চলতি বছর ৩ জানুয়ারি তিনি সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন।
তিনি আরো জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার স্বামী উদাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মানতে পারেননি। সাত মাস ধরে তার স্বামী কোথায় আছেন তা জানতে না পেরে একপর্যায়ে গত ২ মার্চ তিনি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার নম্বর-২৮৩৩/১৭। রিট পিটিশন দায়েরের পর গত ৬ মার্চ শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি নিখোঁজের বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যা চেয়ে ১৯ মার্চ রোববার দিন ধার্য করেন। রোববার আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, নিখোঁজ মোখলেছুর রহমান নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আল্লাহর দল’-এর সাথে যুক্ত এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। আদালতে উপস্থাপনকৃত যুক্তিতর্ক শেষে বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি মাহমুদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে জনিকে হাজির করার নির্দেশ দেন। একই সাথে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো: মতিয়ার রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। আগামী ৯ মে শুনানির জন্য এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
জেসমিন আরো জানান, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি একটি কন্যাসন্তানের জননী হয়েছেন। তার সন্তানের বয়স ৩৭ দিন। তার স্বামী নবাগত এই সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। এ শিশুর ভবিষ্যৎ কী হবে? তাকে নিয়ে তিনি কোথায় দাঁড়াবেন? সেটি তার ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছে বলে জানান।
জনির মা আনোয়ারা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলে কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল না। কলারোয়ার লাঙ্গলঝাড়া বাজারে প্রগতি হেলথ কেয়ার নামে হোমিওপ্যাথিক একটি চেম্বার ছিল তার। বিনা দোষে তার ছেলেকে থানায় আটক রাখা হয়েছিল। এখন সে কোথায় আছে তা তারা জানেন না। তিনি আরো জানান, পুলিশ তাকে লুকিয়ে রাখবে কেন? সে যদি দোষী হয় তাহলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে না কেন?
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্ল্যা জানান, বিষয়টি আমার পূর্বতন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সময়কার। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল হক জানান, এ সম্পর্কে কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে থানা মানুষের জন্য নিরাপদ স্থান। এখানে কোনো মানুষের হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়া হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫