ঢাকা, শুক্রবার,২৬ মে ২০১৭

নগর মহানগর

রূপগঞ্জে মহিলা লীগের ২ গ্রুপে সংঘর্ষ ভাঙচুর লুটপাট, আহত ১৫

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের (প্রস্তাবিত রাসেলনগর ইউনিয়ন) আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি দাবি করে এবং এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহিলা লীগের দুই গ্রুপের মাঝে দুই দফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহিলা লীগ নেত্রীসহ নিরীহদের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার রাত ও সোমবার দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি দাবি করে আসছেন মহিলা লীগ নেত্রী ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি ও অপর মহিলা লীগ নেত্রী নাজমা বেগম। সভাপতির পদ ও এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিউটি আক্তার কুট্টির সঙ্গে নাজমা বেগমের বেশ কয়েক দিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
রোববার সন্ধ্যা ও সোমবার দুপুরে বিউটি আক্তার কুট্টিসহ তার বাহিনীর লোকজন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজমা বেগমসহ তার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। নাজমা বেগমের লোকজনও পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের মাঝে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের রহিম, জুয়েল, শাহিন, কামাল, নাঈম, রমজান, জীবনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ দিকে উভয় পক্ষের লোকজন মহিলা লীগ নেত্রী ইয়াছমিনের পাঁচটি দোকান ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। পরে রিমি বেগম, রহিম, মোকসেদ, রহিমুনের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকাসহ মালপত্র লুট করেছে বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বিউটি আক্তার কুট্টি ও নাজমা বেগমের দ্বন্দ্বের কারণে নিরীহ মানুষকে মামলা-হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও আহতের শিকার হতে হচ্ছে। এলাকায় মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিউটি আক্তার কুট্টি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে এলেও পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ওই দুই নেত্রীর হুমকি-ধমকিতে এলাকাবাসী দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। তাদের কথা মতো কাজ না করলেই দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। এ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইতে গেলে উল্টো ফাঁসিয়ে দিচ্ছে নিরীহদের। তাই এখন প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়।  

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫