ঢাকা, সোমবার,২৪ এপ্রিল ২০১৭

নগর মহানগর

জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতেই জঙ্গিবাদের ঘটনা : ড. মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যখনই সরকার কোনো সমস্যায় পড়ে তখনই জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে ধাবিত করার জন্য জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে; অন্যায়ভাবে গায়ের জোরে টিকে থাকার জন্য তারা জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে। তিনি গতকাল এক সভায় বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবেই সরকার জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘চেতনায় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ সংগঠনের উদ্যোগে ‘স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ব্যারিস্টার ফারজানা শাকিলা।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জঙ্গিবাদের যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। জঙ্গিবাদ তাদেরই সৃষ্টি, তাদেরই নির্দেশে এ জঙ্গিবাদ এখানে প্রচার হচ্ছে। আর জঙ্গি সৃষ্টি করে বিদেশে গিয়ে তারা তা দমনের নামে একটা নাটক করে দেখাতে পারছে যে, আমাদের ক্ষমতায় থাকা দরকার। আমরা থাকলে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করব, জঙ্গিবাদকে আমরা মোকাবেলা করছি।
সাম্প্রতিক কয়েকটি উগ্রবাদী ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে কেন প্রয়োজন হলো এ ধরনের ঘটনা ঘটনোর। কেননা আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাবেন। গিয়ে তো বলতে হবে, আপনারা দয়া করে তিনবারে ডেট পরিবর্তন করে আমাকে আসতে দিয়েছেনÑ আমি যদি সেখানে না থাকি এ যে দেখেন জঙ্গিবাদের অবস্থা, বাংলাদেশে সব জঙ্গি হয়ে যাবে। এ যে ক্ষমতায় থাকার একটা উছিলা সৃষ্টিÑ এটার জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড হচ্ছে।
ভারতকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে অভিহিত করে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত যাচ্ছেন। ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখা বিভিন্ন কারণে আমাদের প্রয়োজন। আমাদের যেখানে ন্যায্য দাবি তা আমাদের পেতে হবে। সম-অধিকার ও সমসুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করা হয়, তা সমান সমান বন্ধুত্ব। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার প্রধান সেই দিকটা চিন্তা করবে এবং পদক্ষেপ নেবে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জনগণের জন্য একমাত্র অগ্রাধিকার চুক্তি হচ্ছে পানি চুক্তি। আমাদের বাঁচা-মারার সাথে এটার সম্পর্ক। পানি না হলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। ফারাক্কার সমস্যার কারণে আমাদের কী হচ্ছে, তা টের পাচ্ছি। এখন আমরা তিস্তার পানি পাচ্ছি না, এটা আমাদের জীবন-মরণ সমস্যা। আমরা আশা করি তিস্তা চুক্তি হবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন জনগণের প্রশ্নÑ আমাদের তিন দিকে বন্ধুপ্রতিম ভারত। সেখানে আমরা কোন দিক থেকে নিরাপত্তার অভাব যার জন্য একটা নিরাপত্তা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক হতে হবে। এটা একটি স্পর্শকাতর বিষয়, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-নিরাপত্তার সাথে এটা সম্পর্কিত। এ বিষয়ে চুক্তি করতে হলে এ দেশের মানুষকে জানিয়ে করতে হবে। কেন নিরাপত্তার চুক্তি করতে হবে তা জনগণকে জানিয়ে করতে হবে। জনগণকে অন্ধকারে রেখে কোনো চুক্তি হলে দেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, শিগগিরই খালেদা জিয়া সহায়ক নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করবেন। ওই সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।  

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫