ঢাকা, সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭

ক্রীড়া দিগন্ত

অনেক প্রশ্নের উত্তরে যে ‘জয়’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে অসাধারণ মুহূর্ত উপহার দেয়া দুই ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মিরাজ  :এএফপি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে অসাধারণ মুহূর্ত উপহার দেয়া দুই ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মিরাজ :এএফপি

জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা সিরিজেই সব সমালোচনার জবাবদানের যে প্রত্যয়, সেটার জন্যই মূলত জয়ের প্রয়োজন ছিল। ইংল্যান্ডকে ঘরের মাটিতে হারানোর পর থেকে টেস্ট ক্রিকেটেও প্রত্যাশার ব্যাপ্তি ঘটে। ওয়ানডেতে এখন প্রতিটা সিরিজে জয় মূল টার্গেট। আর না হোক সিরিজে একটি ম্যাচ হলেও চাই জয়Ñ এমন লক্ষ্যমাত্রা কিন্তু বছর দুইয়েক আগেও ছিল না। এখন তা হচ্ছে। এবার টেস্টম্যাচেও সে প্রত্যাশা। সিরিজ না হোক, অন্তত একটি টেস্টম্যাচ হলেও চাই জয়Ñ এমনটা লক্ষ্যমাত্রায় এখন মুশফিক-তামিম ইকবালরা। নিউজিল্যান্ড সফরে জয়ও আসতে পারত। কিন্তু দায়িত্বশীল ক্রিকেটারদের দায়িত্বহীনতায় তা হয়নি। নতুবা নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ৫৯৫/৮ রান করে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে সে ম্যাচে হারতে হয়েছে। এক ইনিংসে ব্যাটিংয়ে বিশ্বের সেরা দলের মতো ব্যাটিং। পরের ইনিংসে আবার ফিরে আসা নিজেদের মার্কে। এভাবেই হেরেছিল তারা প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের সুযোগ ছিল। ভারতেও ভালো খেলে হেরেছে বাংলাদেশ। এমনকি শ্রীলঙ্কা সফরের প্রথম ম্যাচেও ফ্রন্টফুটে থেকেও ব্যর্থতা দেখিয়েছেন। সব হিসাব-নিকাশের পর টেস্ট ম্যাচে অন্তত একটি জয় ছিল প্রত্যাশায়। যা পেছনের সব ব্যর্থতার জবাব দিয়ে দেয়ার জন্যও। মুশফিকেরা সেটাতে সক্ষম হয়েছেন। তবে প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েই জিতেছে বাংলাদেশ পি সারা ওভালে। এর চেয়েও সহজে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বিগত সিরিজে।
তবে রেজাল্ট যা-ই হোক না কেন, যে জয়টা তারা পেয়েছে শ্রীলঙ্কাতে সেটা শুধু মুশফিকদের পারফরম্যান্সের জবাবই নয়, আন্তর্জাতিক মহলে অনেক সমালোচনার জবাবও এ জয়। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতেই চায় না অনেক দেশ। এর মধ্যে ভারত সর্বাগ্রে। নিজ মাটিতে আমন্ত্রণ জানায়নি তারা ১৭ বছর। তার কারণ ছিল, বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচের আয়োজন মানেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে ভারতীয় বোর্ড। স্পন্সরেরা আসবে না। মাঠেও আসবে না দর্শক। এমন দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছে তারা। অবশেষে হায়দ্রাবাদে যে এক ম্যাচের সিরিজ খেলেছেন সাকিব, মুশফিকরা সেটাতে টনক নড়েছে। এরপরের সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে শ্রীলঙ্কার মাটিতে হারানোটা ভারতের হিসাবটা নতুন করেই শুরু হবে বলে ধারণা। শুধু ভারত বলেই নয়। অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কিছু দেশেরও এমন অ্যালার্জি বিদ্যমান। গত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের পর দেশের মাটিতে যেভাবে সাফল্য পাচ্ছিল টিম বাংলাদেশ, ওয়ানডে ক্রিকেটে সেটাতে ধারণাই বদলে গেছে আন্তর্জাতিক মহলে। এখন বাংলাদেশকে ওয়ানডেতে হিসেবে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এরপর যে বিষয়টা এসেছে সেটা নিজের মাটিতে শুধু ভালো করলে হবে না। বিদেশের মাটিতেও নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এমন অভিমত দিয়ে আসছিলেন। এবার সেটাতেও উত্তর দেয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ। সিরিজটা ১-১ ড্র করার অর্থ এ সিরিজটাতে জিতেছে বাংলাদেশই। কারণ সাফল্যটা যখন শ্রীলঙ্কার মাটিতে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তখন এর অ্যাডভান্টেজটা তো বাংলাদেশেরই। সর্বোপরি শ্রীলঙ্কাকে টেস্ট ক্রিকেটে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ কখনই। এর আগের ১৭ টেস্টের প্রতিটাতেই ছিল হার, সেই ২০০১ থেকে। ফলে শ্রীলঙ্কাকেও যে হারানো যায় সে প্রমাণটাও দেয়া গেল এ ম্যাচে। এর আগে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই শুধু রয়েছে জয়। সে সংখ্যা ৪-এ উন্নীত হলো। বাকি থাকল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এসব দলের বিপক্ষেও অন্তত নিজ মাটিতে হলেও জয়ের ছক আঁকবে এখন টিম বাংলাদেশ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ সিরিজে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক রান করেছেন তামিম ইকবাল। ২০৪ রান করেছেন তিনি। এরপর রয়েছেন সৌম্য সরকার ১৯৫। মুশফিক ১৯৩। সাকিব ১৬২। মেহেদি হাসান মিরাজ ৯৫। মোসাদ্দেক হোসেন এক ম্যাচ খেলে ৮৮। সাব্বির এক ম্যাচ খেলে ৮৩। শ্রীলঙ্কার হয়ে টপ স্কোরার হয়েছেন কুশল মেন্ডিস ২৫৪। বল হাতে সর্বাধিক উইকেট নিয়েছেন যথাক্রমে রঙ্গনা হেরাত ১৬টি। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজের ১০, সাকিবের ৯ ও মুস্তাফিজুর রহমানের ৮ উইকেট। বাংলাদেশ এখন প্রস্তুতি নেবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের।

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫