ঢাকা, শনিবার,১৯ আগস্ট ২০১৭

ক্রীড়া দিগন্ত

প্রয়োজনেই ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্স!

টাইগার সিনিয়রস

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রত্যাশার চাপও বাড়িয়ে দেয় অভিজ্ঞতা। প্রয়োজনের মুহূর্তে সিনিয়রদের কাছ থেকেই সমাধান দেখতে চান সবাই। বাংলাদেশের ক্রিকেটও কোনো ব্যতিক্রম নয়। হতাশও করেননি বর্তমান জেনারেশনের টাইগার ক্রিকেটের বর্ষীয়ানেরা। কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক শততম টেস্টে স্মরণীয় জয়োৎসবেও তাদের কারিশম্যাটিক ক্রিকেট পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের ৫ দিনের লড়াইয়ে। প্রয়োজনের মুহূর্তেই নিজের দায়িত্ব পালনে তারা সবকুটু উজাড় করে দিয়েছেন।
লঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়োৎসবেও নেতৃত্ব দিলেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব-আল-হাসান ও মুশফিকুর রহীম। প্রথম ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পতিত টাইগারদের উদ্ধারে তারা দু’জন এগিয়ে আসেন। গড়েন ৯২ রানের অসাধারণ জুটি। মাত্র ৬ রানেই পতন ৩ উইকেট। বাংলাদেশ তখনো পিছিয়ে ১৬৯ রানে।
কঠিন ওই বিপর্যয়ের চাপ সাকিব-মুশফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সামলে নেয় টাইগাররা। সুযোগও উন্মোচিত হয় চতুর্থ ইনিংসে তামিমের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের। চতুর্থ দিনে লাঞ্চের পর মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং উপহার দেয়ার প্রাথমিক ভিত্তিও তৈরি হয় সাকিব-মুশফিক জুটির রসায়নে। মিলিত ১০৩ টেস্টের অভিজ্ঞতা তারা কড়ায়-গণ্ডায় কাজে লাগান। হাফ সেঞ্চুরির পর মুশফিক যখন আউট হন, তখন বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে ৫০ রানেরও কমে।
মুশফিক বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি ক্রিকেটাররা উত্থান-পতনের মধ্যে দাঁড়িয়েও ম্যাচের গুরুত্ব বুঝতে পারায়। ছোট ছোট অর্জন বড় হতে পারে, তা-ও সবাই অনুধাবন করেছেন। প্রত্যেকেই খেলেছে দায়িত্ব নিয়ে।’ মুশফিকের বিদায় দমিয়ে দিতে পারেনি সাকিবের ব্যাটের সক্ষমতা। প্রতিটি বলের মেরিট বিবেচনার পরই শট খেলেছেন টাইগার অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় ইনিংসেও সাকিব-মুশফিকের নৈপুণ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বল হাতে সাকিব নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের টার্গেট দুই শ’র কমে রাখার মিশনের সাফল্য। ৪ উইকেট নেন ৭৪ রানে।
উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে মুস্তাফিজকে জ্বলে ওঠায় উজ্জীবিত করেন মুশফিক। ক্ষিপ্রগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে লেগ সাইডে দারুণ এক ক্যাচ ধরে সাজঘরে ফেরত পাঠান লঙ্কান ব্যাটসম্যান নিরোশানকে। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সফল চেজেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন টেস্ট অধিনায়ক। ২৪ বলের ব্যবধানে তামিম-সাব্বির সাজঘরে ফিরলে টেনশন বেড়ে যায় টাইগারদের। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট আগলে রাখার দায়িত্বও নিপুণ দক্ষতায় পালন করেন মুশফিক। সাকিবকে সাথে নিয়ে ১৯ রানের জুটিতে সফল চেজের পথে ফেরান টাইগারদের। মুশফিক বলেন, ‘আমরা কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি টেস্ট ক্রিকেটে। পঞ্চম দিনে চেজ করার কাজটি আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা। শতরানের জুটিতে কাজ সহজ করে দেন তামিম-সাব্বির। তবে যেকোনো প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। আমরাও আত্মবিশ্বাসও হারায়নি। দুর্ভাগ্য সাকিব আউট হন। মোসাদ্দেক ও মেহেদি থাকায় সিঙ্গেলস নিয়েই ম্যাচ শেষ করার আত্মবিশ্বাস ছিল।’
বছরের শুরুতে ওয়েলিংটনে বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন মুশফিক। মাথায় বলের আঘাত নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চেপে হাসপাতালেও যেতে হয় তাকে। লঙ্কা সফরের আগে হায়দরাবাদেও হতাশ করেন মুশফিক। আশ্বিনকে উইকেট সঁপে দেয়ার বাসনা টাইগার অধিনায়কের অপেক্ষা বৃদ্ধি করেছে আরেক ধাপ। যদিও তার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাস ভুক্ত হয়েছে ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ। ব্যাঙ্গালুরুতে হাতের মধ্যে থাকা জয়বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ মুশফিকের আউট বিলিয়ে দেয়ায়। তবে পি সারা ওভালে নতুন কোনো হতাশা জন্ম দেননি টাইগার টেস্ট অধিনায়ক। বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই দুই হাত উঁচিয়ে উৎসব শুরু করেন মুশফিক।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫