ঢাকা, শনিবার,১৯ আগস্ট ২০১৭

ক্রীড়া দিগন্ত

স্বল্পসময়ে একাধিক লিগে, কতটা যৌক্তিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছে জুনিয়র ডিভিশনের ফুটবলাররা। এক অর্থে দম ফেলার সময় নেই তাদের। ক’দিন আগেই শেষ করেছে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল। এখন তাদের প্রস্তুতি সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগের জন্য। যা ২৫ মার্চের বদলে ৩১ মার্চ শুরু হচ্ছে। এই ফুটবলারদের অনেকেই ইতোমধ্যে শেষ করেছেন চট্টগ্রাম লিগ ও সিলেট লিগ। অর্থাৎ কয়েক মাসে তারা তিনটি লিগ শেষ করেছে। এখন আরেকটি লিগ খেলতে তৈরি হচ্ছে। পেশাদার লিগের ফুটবলাররা শুধু একটি লিগই খেলার সুযোগ পায়। অন্য লিগে তারা নিষিদ্ধ। কিন্তু জুনিয়র ও সিনিয়র ডিভিশন লিগে এই বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে তারাই জেলায় জেলায় ঘুরে লিগ খেলছে। সাধারণ নিয়মে এসে সমস্যা কম। কিন্তু কোনো বিরতি ছাড়াই বিভিন্ন লিগে খেলায় পারফরম্যান্সে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে ফুটবলারদের। এ থেকে ওই ফুটবলাররা সাময়িক লাভবান হলেও ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এতে না তারা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না দেশের কোনো উপকার হবে। এমনই মন্তব্য ফুটবল বোদ্ধাদের।
দ্বিতীয় বিভাগের পূর্বাঞ্চল পরিষদের চার ফুটবলারকে পাওয়া গেল যারা একই সাথে চট্টগ্রাম ও সিলেট লিগে খেলেছেন। এখন তারা প্রশিক্ষণাধীন ঢাকা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগের জন্য। দ্বিতীয় বিভাগের দল ইস্ট অ্যান্ডের গোলরক্ষক মাসুম একই সাথে খেলেছেন সিলেট লিগে। এখন তিনি সিনিয়র ডিভিশনের দল সাধারণ বীমার খেলোয়াড়। এ রকম বহু ফুটবলার আছেন যারা গত কয়েস মাসে তিন-চারটি লিগ খেলেছেন। দ্বিতীয় বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল নবাবপুর ক্রীড়া চক্রের কোচ কামাল বাবু তথ্য দেন, তার দলের তিন-চার ফুটবলার সিলেট লিগে খেলেছিল। পরে অবশ্য আর যেতে পারেনি নবাবপুর কেসি শিরোপার রেসে চলে আসায়।
অল্পসময়ের মধ্যে একাধিক লিগে খেলা প্রসঙ্গে কামাল বাবুর মন্তব্য, ‘নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম পেলে এতে ফুটবলারদের লাভই হয়। তারা পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। যেমন দ্বিতীয় বিভাগ থেকে এখন তারা সিনিয়র ডিভিশনে খেলছে।’ এর পরেই তিনি যোগ করেন, যদি কোনো ফুটবলার বিকেলে এক লিগের ম্যাচ শেষ করে রাতে আরেক লিগ খেলতে অন্য জেলার উদ্দেশে রওনা হয়, তাহলে ভ্রমণেই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে তার কাছে ভালো পারফরম্যান্স আশা করা যায় না। বরং ভাটা পড়বে পারফরম্যান্সে।
ঢাকা ইউনাইটেডের কোচ স্বপন দাসের মতে ‘বাফুফে তাড়াতাড়ি লিগ শেষ করতে গিয়েই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এক লিগ শেষ না হতে হতেই আরেক লিগ। এতে কোচরাও পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না দল গোছাতে। এ সময়টা ন্যূনতম তিন সপ্তাহ হওয়া দরকার।’ বাফুফের কোচ আলতাফ হোসেন ও জাবিদ হোসেন অপুর মতে, ফুটবলাররা পেটের দায়েই যেখানে সুযোগ পাচ্ছে লিগে প্রতিনিধিত্ব করছে। তারা এতই গরিব পরিবার থেকে উঠে আসে যে, টাকাটাই মুখ্য তাদের কাছে। তারাও যোগ করেন, অবশ্যই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে খেলা উচিত ফুটবলারদের।
কামাল বাবুর অভিমত যদি সত্যিকার অর্থেই সঠিকভাবে ফুটবলাররা ম্যাচ খেলে তাহলে বছরে ৬০-৭০টি ম্যাচ তাদের পারফরম্যান্সে উন্নতি ঘটাবে। অপুর মতে, যেভাবে বিভিন্ন লিগ চলছে, তাতে কয়েক লিগ মিলেও এক মওসুমে তেমন বেশি ম্যাচ জোটে না একেক ফুটবলারের।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫