ইন্দো-সোভিয়েত ট্রিটির ধারাবাহিকতায় টার্গেট ২০৪১

পর্যালোচনা
মিনা ফারাহ

আমাদের সমস্যাগুলো এইরকম। ‘প্রশ্নগুলো খুব ছোট, ক্রাইসিসগুলো খুবই বড়।’ পানির গভীরে হাঙ্গর রেখে, ভেসে থাকা ছোট মাছগুলোর ওপর গবেষণা করছে ২০ দলীয় জোট।
ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়কাল থেকেই বিশেষ করে ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে টার্গেটের সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ২০০৫-এর নির্বাচনে ইন্দো-রুশ হস্তক্ষেপ...। জোটের প্রায় ঝরেপড়া প্রধান শরিক দলটি যা শনাক্ত করেছিল ৭১-এ, অপর দিকে ৪৬ বছর পরও ব্যর্থ বিএনপি। জাতীয়তাবাদী দলের ভবিষ্যৎ নেতাকে সরিয়ে দেয়াই ১/১১-এর এজেন্ডা। সেটা ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু জোটের প্রধান শরিক দলের হেভিওয়েট নেতাসহ দলটিকেই প্রায় নির্মূল করায় সফলÑ সিক্রেট সোসাইটি।
হাঙ্গর থাকে পানির গভীরে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙলে ১৩ টুকরার এক টুকরা, রাশিয়ার নব্যজার পুতিনের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ পশ্চিমাদের বোঝা এখন এই উপমহাদেশের ঘাড়ে। রাশিয়ার অন্যতম বন্ধু ভারতের সাথে বহু সাযুজ্যের অন্যতম সোভিয়েত ভাঙার প্রতিশোধের মতোই দেশ বিভাগের প্রতিশোধ। গর্বাচেভকে দিয়ে সোভিয়েত ভাঙার জন্য ক্ষমা চাওয়ালেন পুতিন। ১৪ মার্চ ২০১৪-তে ক্রিমিয়া দখল দিয়ে প্রতিশোধের শুরু। যদিও বলেছেন, ক্রিমিয়ার বাইরে দখল নয়; কিন্তু বাল্টিক এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো তার সামরিক কার্যকলাপে ভীতসন্ত্রস্ত। কংগ্রেসের পর বিজেপির গলায় অবিভক্ত ভারতের আওয়াজ আরো চড়া। মনে হচ্ছে, এবার ‘একটা কিছু’ হবেই। আমরাও রামমাধবদের বক্তব্যে উদ্বিগ্ন।
পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের উসকানি দিচ্ছেন পুতিন। ক্রিমিয়া-আসাদ এবং মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলাকে কেন্দ্র করে লৌহমানবের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখন যুদ্ধংদেহী। পশ্চিমাদের চোখে পুতিন যেন আরেক আইএস। ধারাবাহিকভাবে ৭১, ১/১১, ৫ জানুয়ারি এবং ২০৪১-এর টার্গেট... একটাও এজেন্ডার বাইরে নয় এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির পচনের মূলেও ওই শক্তি।
কয়েকটি কারণে ইন্দো-রুশ সম্পর্ক আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমেরিকা আর রাশিয়া মিলে নিয়ন্ত্রণ করে ৯৫ ভাগ নিউক্লিয়ার শক্তি এবং উভয় দেশেরই পরম বন্ধু ভারত। ভারতও এখন নিউক্লিয়ার শক্তি এবং বিশ্ব আসনে অতি উচ্চ মর্যাদায়। পুতিনের নাম শুনলে পশ্চিমাদের গাত্রদাহ; কিন্তু মোদির জন্য রেড কারপেট। চীন শত্র“ হলেও প্রো-রাশিয়ান ব্লকের অন্যতম ভারত। চীন নাখোশ হলেও প্রাচ্যের এই ওয়াশিংটনকে রক্ষা করবে রাশিয়া। আশঙ্কা হয়, সেই বড়শিতেই ফেঁসে গেছে বাংলাদেশ। শর্তহীন ক্ষমতা চাইলে সবার কথাই মানতে বাধ্য। ’৭১-এ ইন্দো-সোভিয়েত চুক্তির গহিনে পৌঁছতে পারলে মানবাধিকার পরিস্থিতি এ পর্যায়ে যেত কি?
পরিবর্তিত বৈশ্বিক রাজনীতিতে, পশ্চিমা ব্লক ত্যাগ করে প্রো-রাশিয়ান শক্তিগুলোকে জোরেশোরে আঁকড়ে ধরে আছে আওয়ামী লীগ। সামান্য ব্যতিক্রমেই তা ঝরে যেতে পারে। মাঝে মাঝেই সেই ‘ধূমকেতু’ দেখা দিয়ে চলে যায়। এ কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ সমর্থনগুলো দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনেরা। তবে ভারত একা নয়, ১/১১ এবং ৫ জানুয়ারির অভ্যুত্থানের ‘সিক্রেট’ পার্টনারদের সংখ্যা অনেক।
বহু কারণে পুতিনকে প্রায় পশ্চিমছাড়া করল পশ্চিমারা। ক্রিমিয়া, আসাদ এবং নির্বাচনে প্রভাব ফেলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন-ক্রেমলিনের ঠাণ্ডাযুদ্ধ এবং ওবামা-পুতিনের প্রকাশ্যে লড়াই থেকেই জি-৮ সম্মেলনে মাইনাস পুতিন। রাশিয়া থেকেও সম্মেলনের ভেনু প্রত্যাহার। পুতিনকে শাস্তি দিতে জাতিসঙ্ঘে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার রেজুলেশন পাস করে অর্থনীতিতে লালবাতি জ্বালিয়ে দেয়া হলো। আর সেই ধাক্কা সামাল দিতেই, পূর্ববলয়ে আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া পুতিনের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডগুলো ম্যাডামের পরামর্শকদের রাডারে নেই?

২.
এবার শিকড়ে দেখা যাক। ৪৬ বছর পরও বহু প্রশ্ন অমীমাংসিত। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রয়োজনেই ’৭১-এর আগস্টে ইন্দো-সোভিয়েত চুক্তি। চুক্তির অধীনেই চায়না এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোভিয়েতের সরাসরি হস্তক্ষেপের অন্যতম, সপ্তম নৌবহর আটকে দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করলেন ব্রেজনেভ। সোভিয়েতের ভেটো, অস্ত্র, ইন্টেলিজেন্স, সাবমেরিন ডিপ্লোম্যাসি ছাড়া বাংলাদেশের জন্ম অসম্ভব। পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দৃষ্টান্ত, যে নাকি মাত্র ৯ মাসে স্বাধীন হয়েছে এবং সম্ভব করেছিল ওই চুক্তি। সেই সময়ে ভারতের অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তি কোনোটাই এত বড় যুদ্ধ সামালে যথেষ্ট ছিল না। সোভিয়েতের চার ভেটোর কারণেই ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১, কাগজপত্র ছিঁড়ে ক্ষুব্ধ ভুট্টোর জাতিসঙ্ঘ ত্যাগ। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে রাশিয়ার ভূমিকা, বরাবরই একটি বড় ফ্যাক্টর।
অসম বন্ধুত্বের মাশুল দিচ্ছে মানবাধিকার। ক্রিমিয়া দখলের বিরুদ্ধে সাধারণ পরিষদের নিষেধাজ্ঞার ভোটাভুটিতে পুতিনের অনুরোধে রাশিয়ার পক্ষে বাংলাদেশকে ভোট দিতে হলো। অশনিসঙ্কেতটি হলো, নিঃশর্ত ক্ষমতায় থাকতে বারবার একই রকম অনুরোধের ঢেঁকি গিলতে বাধ্য। পুতিনের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা একজোট; কিন্তু ইন্দো-রুশ ষড়যন্ত্রের এখনো কিছুই দেখেনি বাংলাদেশ। ১৫৪ জন অনির্বাচিতসহ ৫ শতাংশ ভোটের সংসদের চেহারা ক্রেমলিনের মতো হওয়া বিনা এজেন্ডায় নয়। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ক্রেমলিন স্টাইলেই দমন-পীড়ন, ফেইক নিউজের বিষয়টিও তাই। পুতিনের পৃথিবীতে ভিন্নমত বলে শব্দ নেই।
অসম বন্ধুত্বের মাশুলকে উচ্চাভিলাষীরা প্রচার করছেনÑ উন্নতি। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের হ্যান্ডশেকে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় বিশ্বকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ইইউর চাদর পরানো অসম্ভব। কিন্তু মার্কেলের চেয়ে অধিক হ্যান্ডশেকের অধিকারী ক্ষমতাসীনেরা। রাতারাতি বাংলাদেশকে ধনী বানিয়ে ফেলতে চায় সবাই। রাশিয়া বানাচ্ছে পারমাণবিক শক্তি। চীন বানাচ্ছে ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রুট। ভারতের প্রভাব জলে-স্থলে-বন্দরে। তবে ধনী বানানোর সিক্রেট ক্লাবটি খুঁজে বের না করলে, ২০৪১-এর টার্গেটই পূরণ হবে।
অসম্ভব আকারের ফেইক নিউজ নির্ভরশীল উন্নতির বিশ্লেষণ। আধিপত্যবাদ বিস্তারে চীন-ভারত যতই নাখোশ হোক, সবাই প্রো-রাশিয়ান হওয়ায়, যেকোনো মাশুল দিতে বাধ্য ক্ষমতাসীনেরা। চীন-ভারত যত প্রতিযোগিতা দিয়ে বিক্রি করবে, রাশিয়া করবে তার চেয়ে বেশি এবং চলবে প্রতিযোগিতা। চীন থেকে দু’টি সাবমেরিন কিনে কি বিপদেই পড়ল! বলছি, রাজনৈতিকভাবে যত বেশি দেউলিয়া হবে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ততই ঔপনিবেশিক কার্যকলাপ বাড়বে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অলীক স্বপ্ন। কিন্তু এটাই হয়েছে ক্ষমতাসীনদের টোপ। (যুগান্তর, ২ মার্চ বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনে চুক্তি। সাম্প্রতিককালে জয়শংকরের সফর।) উন্নতির অন্যতম শর্ত, দাতাদের দেশেই খরচ হবে বেশির ভাগ এবং দাতাদের টাকার গুদাম খোলা।
এ অঞ্চলে পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ কমার মূলে, প্রো-পুতিন আধিপত্যবাদীদের উত্থান। চীনের ২৪ বিলিয়ন, রামপাল, পারমাণবিক চুলা কোনোটাই সমস্যা নয়; সমস্যা হলো পাবলিককে বাদ দিলো কেন? দায়মুক্তির প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশ। পারমাণবিক চুলাকে দায়মুক্তি দেয়া বিশ্বরেকর্ড। চুক্তি নয়; সমস্যা দায়মুক্তি এবং জি-টু-জি। প্রমাণ হয়েছে, কতভাবে প্রো-রাশিয়ান ব্লকের কারসাজির কবলে বাংলাদেশ।
এ দিকে অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদের ধারাবাহিকতায় অস্ত্র বিক্রিতেও হুলস্থুল। যেন প্রতিযোগিতা দিয়ে পাইকারি হারে বিক্রি চলছে। ক্ষমতাসীনদের মহাবিপদ, তিন শক্তির প্রতিযোগিতায়Ñ শ্যাম রাখব না কুল রাখব। এই হারে যুদ্ধসরঞ্জাম ক্রয়ের কারণ দেখছে না কেউ। রণদামামা বাজলে শুনছে একমাত্র ক্ষমতাসীনেরাই। পাবলিক জানতে চায়, এত অস্ত্র কিনে কাদের ঝামেলার অংশীদার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ? কয়েক বছর ধরেই অস্ত্র ক্রয়ে শিরোনাম আমরা। ক্রাইসিসগুলো ম্যাডামের পরামর্শকদের আলোচনায় ব্যাপক হারে না থাকা দুর্ভাগ্য।

৩.
ইন্দো-সোভিয়েত ট্রিটি থেকে ৫ জানুয়ারি এবং টার্গেট ২০৪১। প্রসঙ্গ ইন্দিরার এজেন্ডা। ’৭১-এ ব্যাপক সাফল্যের পর, ’৭৫-এ সিকিম দখলেও সোভিয়েতের সমর্থন। ’৭১-এ সীমান্ত না খুললে যোগ হতে পারত মুক্তিযোদ্ধা এবং সংখ্যালঘুদের প্রায় কোটির ওপরে লাশ। স্বাধীনতার এত বছর পর ইন্দো-সোভিয়েত ‘উদারতা’র বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে। রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে সীমান্ত খুলে দিতে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও না দেয়ার কারণেই বহু রোহিঙ্গার অকালমৃত্যু। কিন্তু সব সীমান্ত খুলে দিয়ে লাখ লাখ শরণার্থীর অগ্রিম ব্যবস্থা! এজেন্ডা ছাড়া কিছু হলে ’৭১-এর মতোই আশ্রয় পেত রোহিঙ্গারাও।
মুক্তিযুদ্ধ সত্য; কিন্তু প্রবাসী সরকারের বিষয়টিতে আজো প্রশ্নবিদ্ধ ইন্দিরা। আটটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমর্থন আদায়ে সশরীরে ১৪ দিন লবি। ’৭১-এর এপ্রিলেই যুদ্ধ শুরু করতে মানেকশকে চাপ। ক্ষুব্ধ মানেকশ ইন্দিরাকে বলেছিলেন অপেক্ষা করতে।
ভারত আশ্রয় দিয়েছে বলেই বেঁচে গেছে লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু ভ্রষ্ট পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করব। বাংলাদেশ কারো ক্রিমিয়া হওয়া উচিত নয়। স্বাধীনতা থাকলে সার্বভৌমত্বও থাকবে। এখন মনে করি, ব্রেজনেভ ইন্দিরার ফাঁদে পা না দিলে, দেরিতে হলেও নিজের শক্তিতে স্বাধীন হলে দিল্লি-ক্রেমলিনের ঝামেলা এড়ানো যেত। ট্রিটির গহিনে হাত দিলেই পতনের জবাব পাবে বিএনপি।

৪.
‘আমার কাছে খবর আছে, আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় যাবে’Ñ ২০১৩ সালে স্টেটসম্যান পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাসীনদের ঘরের মানুষটির ওই বক্তব্যের উৎস কী? কারণ ছাড়া ওই বক্তব্য কেউ দেবে? বিশেষ মহলের গোপন এজেন্ডা সম্পর্কে পাবলিককে কিছুটা অবহিত করাই কি উদ্দেশ্য? খালেদার পরামর্শকদের সমস্যা, ছোট মাছ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি।
মাশুল দিতেই হেভিওয়েট বিশ্বনেতাদের সাথে চুক্তি সইয়ের ফটোসেশনের ধারাবাহিকতার রেকর্ড। হ্যান্ডশেকের ছবিগুলো দেখতে সুন্দর, কিন্তু সমস্যা জি-টু-জির রহস্য। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের হ্যান্ডশেকের মূল্য দেয়ার সামর্থ্য অর্থনীতিতে থাকলে, দেশত্যাগের রেকর্ড ভাঙছে কেন? প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন নিয়ে মানবেতর ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। বর্তমানে দেশত্যাগীদের সংখ্যা বছরে ১২ থেকে ২০ লাখ। প্রমাণ, উন্নতির শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ব্যর্থ হচ্ছে।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে বাংলাদেশের কদরের ভেতরে নিরাপত্তাজনিত অনেক প্রশ্ন। কাতারের আমির, সৌদি বাদশা, পুতিন, ভারত পক্ষে ভোট চেয়ে তোষামোদ করে। ’৭১-এর ঘোর বিরোধী সৌদি-চীন এখন প্রো-রাশিয়ান। (জাতীয়তাবাদী শক্তিতে পচনের কারণও তাদের ইউটার্ন।) উন্নতির কারণে সবার দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে। এ দিকে ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এবং ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম বেড়েছে বহুগুণ।
ট্রাম্প-পুতিনের প্রেমের এজেন্ডা জানব পরে। এজেন্ডা ছাড়া কিছুই হয় না। ব্রেজনেভ-মুজিবের বন্ধুত্বের মূলে ’৭১। দিল্লি-রাশিয়ার বন্ধুত্বের প্রমাণÑ ট্রাইব্যুনালকে সমর্থন। এজেন্ডা ছাড়া কিছু হলেÑ রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র কিংবা রামপাল আন্দোলনের প্রয়োজন হলো কেন?

৫.
প্রসঙ্গ, উপমহাদেশের জন্য ভারতের ভেটো পাওয়ার কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। ওবামার বিরোধিতায় পুতিনের লবি পণ্ড হয়ে গেলেও পুতিন-ট্রাম্পের সম্পর্কের কারণে এই দফায় সম্ভব। ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে ওঠা দিল্লির পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের ভাগ্য বহু আগেই বন্দী। এমনকি নেপাল-ভুটান যা পারে, সেই ক্ষমতাও নেই। সামান্য ‘স্টার জলসা’ পর্যন্ত বন্ধ হলো না।
‘প্রাচ্যের আমেরিকা’ ভারত, এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক(?) এবং অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় শক্তি। মোদির উত্থানে উল্লসিত ওয়াশিংটন এবং ক্রেমলিন উভয়েই। মোদি অর্থনীতির উচ্চাভিলাষ সম্পর্কে ধারণা আছে এই অঞ্চলের বিশ্লেষকদের? সুতরাং নিরাপত্তা পরিষদে সিট পেলে সর্বনাশ হবে বাংলাদেশের মানবাধিকারের। কারণ একসাথে তিনটি ভেটো আওয়ামী লীগের পক্ষে যাবে, যে কারণে আজ অবধি আসাদকে সরাতে পারল না পশ্চিমারা। এমনকি ফেব্র“য়ারি ২০১৭-তে আসাদের বিরুদ্ধে ভোটাভুটিতে আবারো ভেটো দিলো চীন-রাশিয়া। এমনটিই হবে। ষড়যন্ত্রের কিছুই দেখেনি বাংলাদেশ।
প্রসঙ্গ, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা এবং এই অঞ্চলের ক্রেমলিনপন্থীরা। জিনপিং-পুতিন, আওয়ামী লীগের পথেই মোদি। মসনদ থেকে সরানোর মতো বিরোধী শক্তিগুলোকে অব্যাহতভাবে নির্মূল করা হচ্ছে। মোদিকেও ভোটে হারানোর মতো বিরোধী শক্তি খুঁজে পেতে হয়তো আরো কয়েক টার্ম অপেক্ষা করবে ভারত। ক্রেমলিন স্টাইলে ভিন্নমত দমন করা বিজেপিও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার পথে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভাগ্যবরণ করল কংগ্রেসও। ’৭১-এর গণতন্ত্র কি কম বড়? কিন্তু কী পরিণতি ’৭২-এর সংবিধানের! সুতরাং যত বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই হোক, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় ছাড় দেবে না বিজেপি। কংগ্রেস যেন আর মেরুদণ্ড সোজা করে না দাঁড়ায়, সেই ব্যবস্থাও পাকা। বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্যতম ফ্যাক্টর, ফ্যাশনবিলাসী মোদির হাইপাওয়ার ফটোসেশন এখন নিয়মিত। গণতন্ত্র রক্ষায় পশ্চিমারাও আগের মতো ঝুঁকি নেবে না, কারণ পুঁজিবাদ ক্রমেই পূর্বনির্ভরশীল, যার এক নম্বরেই ভারত। ‘এত দিন আমাদের মজা দেখল আনন্দবাজারিরা, এবার দেখব আমরা।’
সারমর্ম : মানুষ দেখেও শেখে, কিন্তু ম্যাডামের পরামর্শকেরা বরাবরই উল্টা পথে। ভোট চুরি নয়, শুধু প্রভাব ফেলার অপরাধে পুতিনকে যে শাস্তি দিলো ওয়াশিংটন, ৫ জানুয়ারির মাফিয়া ডনদের বিরুদ্ধে অবশ্যই পজিটিভ কেসহিস্ট্রি। পরাশক্তিরা গণতন্ত্র চাইলে, সংসদের এই চেহারা হতো না। জনগণ ছাড়া অন্য কোনো শক্তিই সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরাতে পারবে না। নিবন্ধন বাতিলের আইনটিও হাঙ্গরের বাচ্চা। সিক্রেট সোসাইটির বিষয়টি যত দ্রুত বুঝবে ২০ দল, ততই গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল।
ই-মেইল: farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/dailynayadiganta/public_html/application/controllers/Page.php:54)

Filename: core/Output.php

Line Number: 879

Backtrace:

File: /home/dailynayadiganta/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/dailynayadiganta/public_html/application/controllers/Page.php:54)

Filename: core/Output.php

Line Number: 880

Backtrace:

File: /home/dailynayadiganta/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/dailynayadiganta/public_html/application/controllers/Page.php:54)

Filename: core/Output.php

Line Number: 881

Backtrace:

File: /home/dailynayadiganta/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/dailynayadiganta/public_html/application/controllers/Page.php:54)

Filename: core/Output.php

Line Number: 882

Backtrace:

File: /home/dailynayadiganta/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once