দামেস্কের পূর্বাঞ্চলীয় জোবার এলাকায় সরকারি বাহিনীর ওপর ভারী মেশিগান দিয়ে গুলি ছুড়ছেন এক বিদ্রোহী যোদ্ধা  :এএফপি
দামেস্কের পূর্বাঞ্চলীয় জোবার এলাকায় সরকারি বাহিনীর ওপর ভারী মেশিগান দিয়ে গুলি ছুড়ছেন এক বিদ্রোহী যোদ্ধা :এএফপি

দামেস্কের উপকণ্ঠে প্রচণ্ড লড়াই

বিবিসি, আল-আরাবিয়া

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের পূর্ব উপকণ্ঠে বিদ্রোহীদের সাথে সরকারি বাহিনীর প্রচণ্ড লড়াই শুরু হয়েছে। রোববার ভোরে শহরটির জোবার এলাকায় বিদ্রোহীরা আকস্মিক হামলা চালায়। বিদ্রোহীদের ছোড়া কামানের গোলা ও রকেট রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে গিয়ে পড়ে। সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা গাড়িবোমা ও আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে আক্রমণটি শুরু করে। তারা হামলার কাজে গোপন সুড়ঙ্গও ব্যবহার করেছে।
বিদ্রোহীদের এমন হামলায় বিস্মিত হলেও সরকারি বাহিনী এ আক্রমণ রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো বিদ্রোহীদের অবস্থানে ৩০ বারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে।
তীব্র লড়াই ও বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত দামেস্কে সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আব্বাসিড স্কোয়ারে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সিরিয়ার রাজধানীর কয়েকটি এলাকা এখনো বিদ্রোহীদের দখলে আছে। এর মধ্যে জোবার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে নিকটবর্তী এলাকা। গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত এ এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ দু’পক্ষের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। এর এক দিকে আছে বিদ্রোহী ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এবং অন্য দিকে সরকারি বাহিনী। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
অবজারভেটরি জানিয়েছে, রাজধানীর বারজেহ, তিশারিন ও কাবুনে সরকারি বাহিনীর আক্রমণের চাপ কমাতেই জোবার এলাকা দিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলমুখী আক্রমণের উদ্যোগ নেয় বিদ্রোহীরা। গত বুধবার দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে মূল আদালত চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়। এরপর রাজধানীর পশ্চিমাংশের রাববেহ এলাকায় আরেকটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০ জনেরও বেশি আহত হয়।
সিরিয়ার স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান থেকে দেশটিতে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় তা সপ্তম বছরে পড়েছে। এতে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে এক কোটিরও বেশি। এ যুদ্ধ অবসানের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.