ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

অন্যদিগন্ত

  পশ্চিমাদের ত্রুটি তুলে ধরায় এরদোগান চক্ষুশূল : মুখপাত্র

আনাদুলো.মিডলইস্টআই

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তুরস্কের উত্থানে পশ্চিমারা অস্বস্তিতে ভুগছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কেলিন। তিনি বলেন, তাদের ত্রুটি তুলে ধরার কারণেই এরদোগান তাদের চক্ষুশূলে পরিণত হচ্ছেন। রোববার নিজের একটি বই প্রকাশ নিয়ে সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বলেন।
কেলিন বলেন, ইউরোপে তুরস্কভীতির একটি গভীর শিকড় রয়েছে এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে কখনো কখনো সেটি ইসলামভীতির চেয়েও বড় ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তুরস্ক নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর বর্তমান চরম ডান পন্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউরোপের ভয় তুরস্ক তার আগের ভাবমর্যাদা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যা ১৬ শ’ ও ১৭ শ’ শতকে ঘটেছিল। কেলিন বলেন, পশ্চিমারা, বিশেষ করে ইউরোপীয়রা আয়নায় তা দেখে তাতেই অস্থির হয়ে ওঠে কারণ তারা এতে কেবল তাদের ভুলগুলোই দেখতে পায়।
তিনি বলেন, কিন্তু তারা (পশ্চিমারা) তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার পরিবর্তে এরদোগানকে আক্রমণ করতে বেশি পছন্দ করেন। আর এর কারণ হচ্ছে তিনি তাদের ভুলত্রুটিকে আয়নার সামনে তুলে ধরছেন। সাম্প্রতিক জার্মান মিডিয়ায় এরদোগানকে বড় কভারেজ দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে কেলিন বলেন, তাদের নিজস্ব সমস্যার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করেছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মানসহ তাদের আত্তীকরণ ইস্যু।
তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে এরদোগান ৩০ লাখেরও বেশি শক্তিশালী প্রবাসী তুর্কি সম্প্রদায়কে নিজেদের জাতীয় পরিচয় বর্জন না করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এসব প্রবাসীকে তাদের দ্বিতীয় ইউরোপীয় পরিচয় বজায় রাখতে এবং তাদের মূল পরিচয় বাদ দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।
মৃত্যুদণ্ড পুনবর্হাল চান এরদোগান
এ দিকে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড দিতে দেশটির পার্লামেন্টে ২০১৬ সালে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে এ বিলটি আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। আগামী ১৬ এপ্রিল তুরস্কের সংবিধান পরিবর্তনের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের জন্য ২০০৪ সালে ‘মৃত্যুদণ্ড’ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করেছিল তুরস্ক। তবে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করলে পার্লামেন্টে এ আইনটি পাস করার আর বাধা থাকবে না। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুর্কি সামরিক বাহিনীর একটি অংশ ক্ষমতা থেকে এরদোগানকে উৎখাতের চেষ্টায় বিদ্রোহ করে। তবে এরদোগান এবং তার সহকর্মীদের ত্বরিত পদক্ষেপে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়। তুরস্কের এরদোগান শনিবার বলেছেন, তিনি আশা করেন ১৬ এপ্রিলের গণভোটের পর অভিযুক্ত ‘মৃত্যুদণ্ড’ পুনর্বহাল করতে তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদন পাবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫