পদ্মা লাইফের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

পুঁজিবাজারে লেনদেন ও সূচকের অবনতি

অর্থনেতিক প্রতিবেদক

মিশ্র প্রবণতার পরদিনই সূচক হারাল পুুঁজিবাজার। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের অবনতি হয়েছে। কমেছে লেনদেনও। লেনদেনের শুরু থেকে বিক্রয়চাপের মুখে পড়া বাজারগুলো লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুরে দাঁড়াতে গিয়েও পারেনি। উভয় পুঁজিবাজারেই দরপতনের শিকার হয় বেশির ভাগ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখলেও অবনতি ঘটে অন্য দুই সূচকের। ডিএসই-২০ ও শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭৭ ও ২ দশমিক ৬১ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক হারায় যথাক্রমে ২০ দশমিক ৪৪ ও ১৩ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট। সিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে ১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি অবনতি ঘটেছে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনেও। ঢাকায় গতকাল ৯৯৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ১০৮ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৭২ কোটি টাকা থেকে ৫৬ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
অন্য দিকে পুঁজিবাজারে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। গতকাল ডিএসইর কাছ থেকে এর কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি জানায় সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রকাশ করার মতো কোনো কারণ তাদের জানা নেই।। সোমবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
শেষ ৯ কার্যদিবসে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৪০ শতাংশ। গত ৬ মার্চ কোম্পানির শেয়ার দর ছিল ৩০.৭ টাকা, যা ৯ কার্যদিবসের ব্যবধানে ২০ মার্চ ৪৩ দশমিক দুই টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে দর বেড়েছে ১৩.১৭ টাকা বা ৪০.৮৪ শতাংশ। তাই এ মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।
ডিএসইর ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কোম্পানিটি ২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথম বছর লভ্যাংশ দিলেও পরে আর কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এ কারণে বরাবরই ‘জেড’ গ্রুপে লেনদেন হয়ে আসছে কোম্পানিটি। ২০১৬ সালের শেষ দিকে একপর্যায়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে আসে ২৩ টাকায়। কিন্তু সম্প্রতি টানা মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ারের।
গতকাল লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা শেয়ারবাজারে ডিএসইএক্স সূচকের পাঁচ হাজার ৬৯৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে প্রথমদিকে সূচকটি পাঁচ হাজার ৭১০ পয়েন্টে পৌঁছলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে শুরু হয় বিক্রয়চাপ। সকাল পৌনে ১১টার দিকে সূচকটি নেমে আসে পাঁচ হাজার ৬৯৭ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাজারটি। বেলা সাড়ে ১২টার পর ডিএসই সূচক ফের পাঁচ হাজার ৭১৫ পয়েন্ট অতিক্রম করে।
বেলা পৌনে ১টার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ শুরু হয় এবং লেনদেন শেষ হওয়া অবধি তা অব্যাহত থাকে। দিনশেষে প্রধান সূচকটি দশমিক ২৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখলেও অন্য দু’টি সূচকের কমবেশি অবনতি ঘটে।
গতকাল দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতেই দরপতন ঘটে। কিছুটা ভালো অবস্থানে ছিল ব্যাংকিং খাত। এ খাতে বেশির ভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু অন্যান্য খাতগুলোর বড় ধরনের দরপতনের ফলে ব্যাংকিং খাতের মূল্যবৃদ্ধিও সূচকের পতন ঠেকাতে পারেনি। সব চেয়ে বেশি দরপতনের শিকার হয় নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, খাদ্য, টেক্সটাইল, চামড়া, বীমা ও বিবিধ খাত। অন্য দিকে সিমেন্ট, জ্বালানি ও সেবা খাত আগের দিনের হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩২৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৬টির মূূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৭৩টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির দর। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৫১টি সিকিউরিটিজের ৭৬টির দাম বাড়লেও দর হারায় ১৪৬টি। বাজারটিতে অপরিবর্তিত ছিল ২৯টি সিকিউরিটিজের দর।
ঢাকায় গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে আইএফআইসি ব্যাংক। ৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায় এক কোটি ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। ৪০ কোটি ১১ লাখ টাকায় এক কোটি পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার শেয়ার লেনদেন করে একই খাতের সিটি ব্যাংক ওঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, আরএসআরএম স্টিলস, এবি ব্যাংক, লঙ্কা বাংলা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল পলিমার, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা ও এসিআই ফরমুলেশন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.