ঢাকা, রবিবার,২৬ মার্চ ২০১৭

আরো খবর

জাবিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ

জাবি সংবাদদাতা

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে আজ থেকে দুই বছর আগে। পদও হারিয়েছেন তিন মাস আগে। তারপরেও হল ছাড়েননি জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আরিফুল ইসালাম। আল বেরুনী হলে থাকেন এই নেতা। আদু ভাই হিসেবে হলে পরিচিতি এখন তার। ক্ষমতা হারিয়ে এখন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির বাইরে একটি গ্রুপ দাঁড় করিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি। এতে হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যেকোনো সময় সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর মো: জুয়েল রানা সভাপতি ও এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে সাধারণ সম্পাদক করে জাবিতে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন প্রতœতত্ত্ব বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম আরিফ। গত কমিটির সহসভাপতি ছিলেন তিনি। আগের কমিটির সবাই হল ছাড়লেও ব্যতিক্রম এই নেতা। ক্যান্টিনে ফাও খাওয়া থেকে শুরু করে হলে একটি রুম দখল করে রেখেছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আল-বেরুনী হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জুয়েল রানার অনুসারী সরকার ও রাজনীতি বিভাগের আবু সাদাত সায়েম এবং আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী লোক প্রশাসন বিভাগের রাকিবুল ইসলাম নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সায়েম-রাকিবের বাইরে গিয়ে আরিফ নতুন গ্রুপ তৈরি করে হলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
আরিফের গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাইক্রোবাইলজির অমিতাভ সাহা, পরিসংখ্যানের অর্ণব সরকার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ওয়ালিউল্লাহ, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের অপু বিশ^াস ও মাহমুদুল হাসান রিজু। এর সবাই ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তবে এদের মধ্যে রিজু আরিফের অনুসারী হলেও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চলের সঙ্গে রাজনীতি করেন। এদের আরিফ শাখা ছাত্রলীগের বর্ধিত কমিটিতে ভালো পদে বসাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এই আশায় তারা আরিফের সঙ্গে রাজনীতি করেন।
বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাদের (সায়েম-রাকিব) বাদ দিয়ে আরিফ তার নতুন গ্রুপ দিয়ে হল প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাসহ সব কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করছেন। সর্বশেষ গত রোববার সায়েম-রাকিবের বাইরে গিয়ে প্রভোস্টের সঙ্গে যোগযোগ করে আরিফের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সায়েম রাকিবের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জুয়েল রানার অনুসারীদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে আরিফের বিরুদ্ধে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন রুমে সিট বণ্টনের ক্ষেত্রেও এই চিত্র ফুটে উঠেছে। এ সব ঘটনায় হলের জুনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অনেকেই।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের নেতা আবু সাদাত সায়েম (হল কমিটির প্রস্তাবিত সহসভাপতি) বলেন, হলের সার্বিক বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতিকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন।
নিজের ছাত্রত্ব আছে দাবি করে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরিফুল ইসলাম এসব অভিযাগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বাইরে রাজনীতি করে কেউ ক্যাম্পাসে থাকতে পারে? হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি হলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। এগুলো নিয়ে আমি ভাবছি না। হলে কয়েক দিন আছি তারপর চলে যাব।

 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫