ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

শেরপুরের আদালতে বিচারক সঙ্কট সাড়ে ১৮ হাজার মামলার জট

২২ পদের মধ্যে ১২টিই শূন্য

মুগনিউর রহমান মনি শেরপুর

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিচারক সঙ্কটের কারণে শেরপুরের বিভিন্ন আদালতে ১৮ হাজার ৪৮৮টি মামলার জট সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থীরা আদালতে এসে হয়রানি এবং বিচার না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গ্রাম থেকে শহরে বারবার আসা-যাওয়া করতে হয় বলে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের নিজস্ব ভবন না থাকায় সেখানে বিচারিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
আদালত ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন আদালতে বিচারকের ২২টি পদের মধ্যে ১২টি পদই শূন্য রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকসহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১১ জন বিচারকের পদ আছে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে ওই আদালতে মাত্র ছয়জন বিচারক বিচার পরিচালনা করছেন। একজন বিচারক একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম এগোচ্ছে না।
জানা যায়, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইদুর রহমান খান পদোন্নতি পেয়ে জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদানের পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এ আদালতে এক হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ কিরণ শঙ্কর হালদার এ আদালতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা ও দায়রা জজের আওতাধীন শেরপুর সদরের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হাফিজ আল আসাদ ২০১৬ সালের জুলাইয়ে বদলি হন। তার পদটি ৯ মাসেও পূরণ হয়নি। এ ছাড়া শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার সহকারী জজের পদগুলো দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজের অধীন আদালতগুলোয় সিভিল, পারিবারিক ও ফৌজদারি আইনে ১৪ হাজার ১২৪টি মামলা বিচারাধীন ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারকের অভাবে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পরিবর্তে মামলাজট বেড়ে চলেছে। ফলে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীরা দিনের পর দিন আদালতে এসে আইনজীবী ও তাদের সহকারীদের ফি দিয়ে মামলার পরবর্তী তারিখ নিয়ে বিষণœ মনে বাড়ি ফিরে যান।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, নিয়মিত বিচারক না থাকায় মামলাজট বেড়ে যাওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এক হাজারের বেশি মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিচারপ্রার্থী বলেন, শ্রীবরদী সহকারী জজ আদালতে দুই বছর ধরে তার জমিসংক্রান্ত একটি মামলা বিচারাধীন। মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালতেও আসছেন। কিন্তু বিচারক সঙ্কটের কারণে মামলাটি নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ দিকে শেরপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতেও বিচারক সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মুখ্য বিচারিক হাকিমের অধীন ১১টি আদালতে ১১ জন বিচারকের মধ্যে আছেন মাত্র চারজন। দীর্ঘ দিন ধরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের তিনটি পদের মধ্যে দু’টি ও বিচারিক হাকিমের চারটি পদের মধ্যে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত বিচার আদালত ও বন আদালতেও কোনো বিচারক নেই। এসব আদালতে জানুয়ারি পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা চার হাজার ৩৬৪টি। ফলে প্রতিদিন বিচারকরা রাত পর্যন্ত কাজ করলেও মামলা জট কমছে না।
অন্য দিকে ২০০৭ সালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পুরনো ভবনে বিচারিক হাকিম আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু আজো শেরপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিমের নিজস্ব আদালত ভবন নির্মাণ হয়নি। ফলে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ছোট্ট পরিসরে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের কার্যক্রম চলায় বিচারক, আদালতের কর্মচারী, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিচারক সঙ্কটের কথা স্বীকার করে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিচারক সঙ্কটের কারণেই আদালতগুলোয় মামলা জট বাড়ছে। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিচারক নিয়োগ দেয়া হলে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং বিচারপ্রার্থীরা স্বল্পসময়েই বিচার পাবেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ কে এম মোসাদ্দেক ফেরদৌসী বলেন, আদালতের বিচারক সঙ্কট দূর করার এবং মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫