ঢাকা, রবিবার,২৬ মার্চ ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

ভোলায় বৃষ্টিতে ৮ হাজার হেক্টর জমির তরমুজ নষ্ট

সাহাদাত শাহিন ভোলা

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট
আগাম বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া তরমুজ হাতে ভোলার চরগাজির এক কৃষক :নয়া দিগন্ত

আগাম বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া তরমুজ হাতে ভোলার চরগাজির এক কৃষক :নয়া দিগন্ত

আগাম বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে ভোলা জেলার আট হাজার হেক্টর জমির ১৩ হাজার টন তরমুজ যার বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ধারদেনা করে তরমুজ চাষ করে মূলধন হারানো ১২ হাজার চাষি এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলার মাটি তরমুজ চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী তাই তরমুজের ফলন এখানে ভালো হয়। গত কয়েক বছর প্রচুর ফলন হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান মোকামগুলোতে ভোলার তরমুজ বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। অন্যান্য রবি শস্যের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় তরমুজ চাষে কৃষকের আগ্রহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর তরমুজের প্রচুর ফলন হওয়ায় এ বছর আরো বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ করা হয়। এ বছর আগাম বৃষ্টির কারণে কৃষকের আশাজাগানিয়া ফসল তরমুজ হতাশা সৃষ্টি করেছে। চার দিনের বর্ষণে ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন এবং চরফ্যাসনের অধিকাংশ তরমুজ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষেতের পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মরে গেছে তরমুজ গাছ, পচে গেছে গাছে থাকা তরমুজ।
কৃষি বিভাগের হিসাবে জেলায় এ বছর ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। বৃষ্টিতে ৫০ ভাগ তরমুজ নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
চাষিরা জানান অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চরম সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন। কেউ কেউ ক্ষেত পরিচর্যা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে বেশির ভাগ চাষিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিভাবে আবাদের খরচ উঠাবেন এবং ঋণ পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা।
ভোলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক প্রশান্তকুমার সাহা বলেন, ভোলার পাঁচ উপজেলায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর তরমুজ আবাদ হয়েছে। চার দিনের বর্ষণে ৫০ ভাগ তরমুজ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে ১৩ হাজার টন তরমুজ উৎপাদন কম হবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ চাষিদের উচ্চফলনশীল জাতের আউশ আবাদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
শুধু পরামর্শ নয় ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ চাষিদের সরকারিভাবে সহায়তা দাবি করেছেন কৃষকরা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫