ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

হাটবাজারে লটারির নামে জুয়ার টিকিট বিক্রি

সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

শিবগঞ্জ ( বগুড়া) সংবাদদাতা

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মেলার নামে চলছে ভয়ানক জুয়া খেলা। যার নাম দেয়া হয়েছে দৈনিক স্বপ্নছোঁয়া র্যাফল ড্র। প্রতিদিন ২০ টাকার টিকিটে সাত-আটটি মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন, কারিকুকারসহ মোট ৬১টি সামগ্রী লটারি বিজয়ীদের জন্য উপহার হিসেবে দেয়া হচ্ছে। কোনো কোনো দিন থাকছে দুই-তিনটি (ষাড়) গরু। এ লোভনীয় লটারির টিকিট কিনে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। আর এই টিকিট বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন হাটবাজারে আর গ্রামীণপথে পথে।
চলতি মাস থেকে পুরো মাসব্যাপী বগুড়ার চান্দু স্টেডিয়ামসংলগ্ন স্থানে এ মেলা চলবে।
শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, জেলা- উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ১৮০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত বিভিন্ন যানবাহন টিকিট বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রচার মাইককে লক্ষ্য করে হাজার হাজার মানুষ টিকিট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। অনেকেই সারা দিনের উপার্জন দিয়ে টিকিট কিনে রাতে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।
কিচক এলাকার এক গৃহবধূ জানান, তার ভ্যানচালক স্বামী আলী আনছার গত কয়েক দিনে তার উপার্জনের সব টাকাই টিকিট কেনার কাজে খরচ করেছে। যে কারণে তাদের পরিবারটি চরম অর্থ সঙ্কটে পড়েছে। গ্রামের নিম্ন আয়ের একাধিক অভিভাবকেরা জানান, তার ছেলেরা দিনমুজরির সব টাকা টিকিট কেনায় খরচ করেন। আবার অনেক অভিভাবক জানান, লটারির কারণে তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় মনোযোগী হচ্ছে না। এদিকে আটমুলের এক যুবক টিকিট কিনে মোটরসাইকেল জেতায় পুরো এলাকার মানুষ এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে লটারি টিকিট কেনার নেশায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার প্রত্যেকটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে লটারির টিকিট বিক্রির প্রচার মাইক ও গাড়ি পৌঁছে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের অলিগলিসহ গ্রাম-গঞ্জে টিকিট বিক্রির ধুম পড়ে যায়। জেলার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার যুবকরা এই লটারির টিকিট বিক্রির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাত ১০টার পরপরই মেলার র্যাফেল ড্র মঞ্চে দু’টি শিশুর চোখ বেঁধে একটি করে টিকিট তুলে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া মোটরসাইকেল, স্বর্ণ ও দামি কিছু বিজয়ীদের টিকিটের অর্ধেকটাতে লেখা ঠিকানাসহ মোবাইল ফোন নম্বর অনুযায়ী কল করে গভীর রাতে ঘুম থেকে জেগে তুলে পুরস্কারের কথা জানানো হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি গত কয়েক দিন ধরে বগুড়ার কেবল নেটওয়ার্ক অপারেটর অর্থাৎ ডিস লাইনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করায় এটি আরো বেশি প্রভাব ফেলেছে। গভীর রাত পর্যন্ত টিকিট ক্রেতারা মেলাস্থলে অপেক্ষমাণ থেকে র্যাফল ড্র উপভোগ করেন। টিকিট কিনছে হাজার হাজার জন পুরস্কার পাচ্ছেন মাত্র ৬১ জন।
একটি সূত্রে জানা গেছে, র্যাফল ড্র ও মেলা চত্বরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতি রাতেই দেখা যায়। যারা এই লটারির নেপথ্য আয়োজক। মানুষকে পথে বসানো এই র্যাফল ড্র। এটি দ্রুত বন্ধ করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান অভিজ্ঞ মহল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫