সাতকানিয়ার চরতিতে পাহাড় কাটা বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ   :নয়া দিগন্ত
সাতকানিয়ার চরতিতে পাহাড় কাটা বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ :নয়া দিগন্ত

সাতকানিয়ার চরতিতে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়

ঝুঁকিতে মাদরাসা ও শতাধিক ঘরবাড়ি
মনজুর আলম সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চরতি ইউনিয়নে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়। প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে পাহাড় কাটার ফলে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ওই অঞ্চলের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দূরদুরী মুহাম্মদিয়া সা: সিনিয়র মাদরাসা ও শতাধিক ঘরবাড়ি। পাহাড় খেকোদের হাত থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি বাঁচাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার চরতি ইউনিয়নের দূরদুরী রামপুর ডিসি রোডে চরতি বোর্ড অফিস সংলগ্ন পাহাড়ের চূড়ায় মুহাম্মদিয়া সা: সিনিয়র মাদরাসাটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদরাসাটি এই অঞ্চলে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষা লাভ করে সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তিসহ অভিজ্ঞ হাফেজে কুরআন তৈরি করে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রায় আট শতাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। মাদরাসাটিতে এতিমখানা, হেফজখানা, শহীদ মিনারসহ পাঁচটি ভবন রয়েছে। যার আনুমানিক সম্পদের মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
এ দিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট চক্র দিন-রাত মাদরাসাটির দক্ষিণ ও পূর্ব পাশ থেকে পাহাড়ের মাটি কেটে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মওসুমে মাদরাসাটিসহ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী শতাধিক ঘরবাড়ি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাদরাসার আট শতাধিক শিক্ষার্থী ও শতাধিক পরিবারের লোকজন চরম ঝুঁকি ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধের দাবি জানিয়ে গত শনিবার ১৮ মার্চ মাদরাসার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চলতি বোর্ড অফিস মাঠে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। সমাবেশ থেকে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে পাহাড় কাটা বন্ধ করে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। পাহাড় কাটা বন্ধ করে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী গত শনিবার পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম বরাবর একটি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে চরতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা: রেজাউল করিম জানান, মাদরাসার পাশ থেকে এভাবে পাহাড় কাটা অন্যায় কাজ। প্রশাসন পাহাড় কাটা বন্ধ না করলে মাদরাসা ও শতাধিক ঘরবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.