ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

সম্পাদকীয়

টাইগারদের শততম টেস্টে জয়

ধারাবাহিকতা থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ আরেকটি মাইলফলক অর্জন করল। শততম টেস্টে ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে সে দেশের শক্তিশালী দলকে ধরাশায়ী করার মাধ্যমে সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিলো। পুরোদস্তুর পাঁচ দিনের লড়াইয়ের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার উইকেটে নিজেদের ঝুলিতে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের পদচারণা খুব সরব নয়। ক্রিকেট একমাত্র খেলা যেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ প্রথম সারিতে রয়েছে। এ খেলায়ও ধারাবাহিকতার অভাব বরাবর বাংলাদেশ দলকে ভুগিয়েছে। ১৭ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ দল মাত্র আটবার জয়ের দেখা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সক্ষমতা প্রদর্শন করতে হলে এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
শ্রীলঙ্কার সাথে অনুষ্ঠিত শততম টেস্টের বিশেষ দিকটি ছিলÑ প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশী বোলারদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। এর ধারাবাহিকতা পাওয়া গেল প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েও। অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের শতকের পাশাপাশি প্রায় সব ব্যাটসম্যান রান পেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড ম্যাচটিকে টাইগারদের জন্য সহজ পরিণতি এনে দেয়। শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে এলে আবারো বাংলাদেশী বোলাররা তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে কাজটিকে সহজ করে দেন। পঞ্চম দিন শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষে বাংলাদেশের জন্য জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯১ রান। কম রানের টার্গেট দিয়েও দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার জয়ের রেকর্ড রয়েছে ভূরি ভূরি। কিন্তু এবার তারা টাইগারদের দৃঢ়তার কাছে নতি স্বীকার করল। শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের ৮২ রানের একটি চমৎকার ইনিংস জয়ের বাধা দূর করে দেয়। দুই টেস্টের এই সিরিজে সমতা প্রতিষ্ঠার পেছনে সাকিব ও তামিমের বিশেষ অবদান থাকলেও দলের সমন্বিত পারফরম্যান্স ছিল লক্ষণীয়। বোলার ও ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব পালন ছিল ভারসাম্যপূর্ণ। এমন একটা টিম স্পিরিটই চাই জয়ের ধারাবাহিকতার জন্য। জয়-পরাজয় খেলার অংশ। জয়ের মতো পরাজিত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। খেলার মূল কথা হচ্ছে নির্মল আনন্দ। কিন্তু ধারাবাহিক পরাজয় দর্শকদের হতাশ করে দেয়। এর পাশাপাশি সুযোগ সৃষ্টি হয় সমালোচকদের কথা বলার। প্রথম সারির টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর সাথে কতটা টেস্ট বছরে খেলতে পারবে এর একটা সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। একটি দেশের জন্য সেটা সম্মানের ব্যাপার। সমানে সমানে লড়ার যোগ্যতা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন বাধার সুযোগ আর থাকবে না। তবে এ জন্য দরকার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে ক্রিকেটের বাইরে বাংলাদেশ অন্য কোনো প্রধান খেলায় প্রথম সারিতে নেই। তাই দর্শকদের প্রচুর আগ্রহ ক্রিকেট নিয়ে। ঘুরেফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঝলসে উঠছেও। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। ভালো খেললে দর্শকেরা আনন্দিত হয়। কিন্তু জয়ের পরে তার ধারাবাহিকতা বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশ ধরে রাখতে না পারায় হতাশাও সৃষ্টি হয়। শততম টেস্টে জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক নতুন দিনের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের মনোবল বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে, যাতে একজনের ব্যর্থতায় অন্যজন দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে পারেন দৃঢ়তার সাথে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫