ঢাকা, রবিবার,২৬ মার্চ ২০১৭

সম্পাদকীয়

নিখোঁজ ব্যক্তির হেফাজতে মৃত্যু

সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন

২১ মার্চ ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা দেশে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার ফলে অনেক স্পর্শকাতর বিষয়ে মানুষের মনে নানা ধরনের সন্দেহ ও অবিশ্বাস দেখা দিচ্ছে। কী কারণে এসব মানুষকে গুম করা হচ্ছে কিংবা নিরাপত্তাবাহিনীর হেফাজতে কিভাবে মারা যাচ্ছে, তার কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর ঘটনা তো ঘটছেই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পর্যন্ত নষ্ট হচ্ছে। এমনকি উগ্রপন্থীদের হামলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অথচ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এমন গুরুতর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটক ও গ্রেফতার করা উচিত।
এবার ঢাকার উত্তরায় র্যাবের নির্মাণাধীন হেডকোয়ার্টারে আত্মঘাতী হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হানিফ মৃধা নামে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটকের কথা স্বীকার করেছে র্যাব। তবে আটক ব্যক্তি র্যাবের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছে। উল্লিখিত আত্মঘাতী হামলার পর র্যাব ওই এলাকায় অভিযান চালায়। বিকেল ৪টায় অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে আহত হয় হানিফ। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অপর দিকে, নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আত্মঘাতী হামলার অনেক আগেই ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পেশায় গাড়ি ব্যবসায়ী এই ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ অভিযোগ বা জিডিও করা হয়েছিল। নিহত হানিফের সাথে তার বন্ধুও নিখোঁজ হন। রহস্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, নিখোঁজ এই ব্যক্তির ব্যাপারে দায়ের করা জিডির বই এখন থানায় পাওয়া যাচ্ছে না। এ খবর গণমাধ্যমে এসেছে।
বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে বহু লোক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে। কিন্তু খুব কম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের সাথে গুম বা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। জঙ্গি হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক একজন ব্যক্তির পরিবারের দাবি ও জিডির ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। আমরা মনে করি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। না হলে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫