ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

খুলনা

যশোরে সাবেক চেয়ারম্যান হত্যায় বর্তমান চেয়ারম্যানসহ অভিযুক্ত ১৯

যশোর অফিস

২০ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ১৭:৫৮


প্রিন্ট
নিহত সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন

নিহত সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন হত্যা মামলায় বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আফজাল হোসেনসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি পুলিশ। একই সাথে হত্যার সাথে জড়িত কিন্তু মৃত্যু হওয়ায় একজন ও বিভিন্ন সময়ে আটক ১৩ জনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে।

মামলার তদন্ত শেষে যশোর সদরের আমলি আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।

অভিযুক্ত আসামিরা হলো, যশোর সদরের বাহাদুরপুর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রকিবুল ইসলাম রকি, আলতাফ হোসেনর ছেলে ইমলাক হোসেন, রকিবুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদুল হোসেন, তালবাড়িয়া গ্রামের আবু মুছার ছেলে হজরত আলী আঁখি, বড় রাজাপুর গ্রামের এসএম আব্দুল গফুরের ছেলে ইছালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন, বিনা সরদারের ছেলে রফিক ওরফে রফিউদ্দিন সরদার ওরফে টিটো রফিক ওরফে কাহার রফিক, মৃত গোলাম রহমানের ছেলে আলতাফ হোসেন, কিসমত রাজাপুরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে এসএমএ জব্বার, ইছালী গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে আজিজুর রহমান ডেভিট, গোলাম মোস্তফার ছেলে আমিনুর, মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে জালাল, তেজরোল গ্রামের মৃত যতীন্দ্রনাথ ঘোষের ছেলে নবকুমার ঘোষ ওরফে লব ঘোষ, এনায়েতপুর গ্রামের মোকছেদ মোল্লার ছেলে খাইরুল হোসেন, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত কিয়ামউদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ফিঙ্গে, জগমহোনপুর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর ছেলে সাবেক মেম্বর আব্দুল মজিদ, শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়ার আব্দুল আওয়াল মিস্ত্রির ছেলে আরিফুর রহমান, উপশহরের ই-ব্লকের মিজানুর রহমানের ছেলে ফয়সাল ওরফে কোকিল, বাঘারপাড়ার কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত নুর আলী জোয়ার্দারের ছেলে আসকার আলী জোয়ার্দার ও মৃত ফুল মিয়া জোয়ার্দারের ছেলে সাদ্দাম হোসেন।

আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন বলে রোববার রাতে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আফজাল হোসেন যশোর সদর উপজেলার ইছালী উনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি যশোর শহরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলা এলাকায় বসবাস করতেন। ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল যোগে ইছালী ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়ায় সিনজেনটা ওষুধ কোম্পানির অফিসের সামনে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পথচারীরা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনলে কর্তরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি নিহতের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও স্বাক্ষীদের দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।

এছাড়া হত্যার সাথে জড়িত কিন্তু মৃত্যু হওয়ায় ইছালীর ইনামুল হকের ও হত্যার সাথে জড়িত নয় বিভিন্ন সময়ে আটক তালবাড়িয়ার আসমত আলী, আসাদুজ্জামান কফু, রফিক, ফিরোজ, পাঁচবাড়িয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন টিপু, মালিয়াটের ইলিয়াস হোসেন, আমিনুর রহমান, শেখহাটির দেলোয়ার হোসেন, জোতরহিমপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, হুদা রাজাপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম, কিসমত নওয়াপাড়ার আব্দুল কুদ্দুস ওরফে সন্ত্রাসী কুদ্দুস, কৃষ্ণনগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, আলমগীর হোসেনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

চার্জশিটে অভিযুক্ত ফয়সাল ওরফে কোকিল, চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন, আজিজুর রহমান ডেভিট, আশরাফুল ইসলাম ফিঙ্গে, আমিনুর, জালাল, নবকুমার ঘোষ, রফিক, সাদ্দাম হোসেন, আরিফুর রহমান ও আব্দুল মজিদকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫