ঢাকা, মঙ্গলবার,২৮ মার্চ ২০১৭

চট্টগ্রাম

বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কের ৮০ কিলোমিটারে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

২০ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ১৬:৪১


প্রিন্ট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার বারইয়াহাট বাজার থেকে শুরু হয় খাগড়াছড়ি সড়ক। এই সড়কের ৮০ কিলোমিটার পথে দুই শতাধিক বাঁকের মধ্যে শতাধিক ঝুকিপূর্ণ বাঁক সোজা করার ব্যাপারে এখনো নেয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। কিন্তু সরকারের প্রকল্পে এসব বাঁক কমিয়ে আনার প্রস্তাবনা ছিল অনেক আগেই।

প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বারইয়াহাট খাগড়াছড়ি সড়কের মধ্যে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে পড়েছে ২২ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম জেলার অংশে এই সড়কে পড়েছে প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এই অংশে রয়েছে দুই শতাধিক বাঁক। তার মধ্যে শতাধিক বাঁকই এখনো ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। অথচ সরকার ইতিমধ্যে রামগড় থেকে বারইয়াহাট পর্যন্ত চার লেন করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংযুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে আরো দুই বছর আগে। ইতিমধ্যে চার লেনের জরিপও হয়েছে। কিন্তু ঝুকিপূর্ণ এসব বাঁক সোজা করে সড়কটি নিরাপদই করা হয়নি এখনো।

এসব বাঁকের দুই পাশে ঝোঁপঝাড় ও জঙ্গল থাকায় একপাশ থেকে অন্য পাশের মানুষজন ও যানবাহন দেখা যায় না। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদের আওতাধীন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ৬৩ কিলোমিটারের মধ্যে জালিয়াপাড়া থেকে রামগড়ের ২২ কিলোমিটার তার এলাকা। তিনি স্বীকার করেন যে, এখনো শতাধিক ঝুকিপূর্ণ বাঁক রয়ে গেছে।

খাগড়াছড়ি থেকে বারইয়াহাট পর্যন্ত এই সড়কের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে কিছু। কিন্তু সরকার কি করে চার লেন করবে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আসলে আগে সরলীকরণ করতে হবে সকল ঝুকিপূর্ণ বাঁক।

তিনি বলেন, সড়কের বাঁকগুলোর দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিবেষ্টিত। খাগড়াছড়ি জিরো মাইল থেকে মাটিরাঙ্গা ইসলামপুর পর্যন্ত রয়েছে ঝোপঝাড়ে ঢাকা বেশ কয়েকটি বাঁক। আলুটিলা এলাকায় আঁকাবাঁকা উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আবার ওপরে ওঠার সময় দ্রুত মোড় নিতে হয়। যানবাহন চালকেরা এই বাঁকটিকে ভীষণ বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছেন। এ ছাড়া তৈমাতাং সেতু থেকে গুইমারা থানা পর্যন্ত এমন বেশ কিছু বিপজ্জনক বাঁক দেখা গেছে।

ফেনী-খাগড়াছড়ির হিলবার্ড বাসের চালক মিজানুর রহমান ও ট্রাকচালক ইব্রাহীম বলেন, এই সড়কে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। অনেক সময় বাঁকের দুই পাশ জঙ্গলে ছেয়ে যাওয়ার কারণে সতর্কভাবে গাড়ি চালালেও যানবাহন মুখোমুখি হয়ে যায়।

এই সড়কে চলাচলকারী কীটনাশক ফার্মাসিটিক্যালের কর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরও চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কে বাঁকগুলোর ঝোপঝাড় যদি পরিষ্কার করা হয়, তাহলে দুর্ঘটনা কিছুটা কমবে।

খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন বলেন, গত তিন মাসে জেলায় ছোটবড় অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মূলত সড়কে ভৌত অবকাঠামোর সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসমূহের সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে।

সর্বোপরী সবার দাবি এসব ঝুকিপূর্ণ বাঁকগুলো যথাশীঘ্র অপসারণ করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫