ঢাকা, রবিবার,২০ আগস্ট ২০১৭

ময়মনসিংহ

সংস্কার হচ্ছে না দীর্ঘদিন

শেরপুর পৌরসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা : দুর্ভোগ

মুগনিউর রহমান মনি, শেরপুর

২০ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ১৩:২৪


প্রিন্ট

দীর্ঘদিন যাবত সংস্কারের অভাবে শেরপুর পৌরসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। শহরের এসব সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য ও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে পৌরবাসী চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর পৌর এলাকায় পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত পাকা সড়ক রয়েছে ৬১ দশমিক ১৩৬ কিলোমিটার এবং কাঁচা সড়ক রয়েছে ১৮ দশমিক ৬০৮ কিলোমিটার। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের রয়েছে ১৬ কিলোমিটার সড়ক। পৌরসভার রাস্তাগুলো এমনিতেই সরু। তার ওপর ফুটপাত দখল এ সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। তাছাড়া ভাঙাচোরা ও কর্দমাক্ত রাস্তায় হেঁটে চলাও দায়। পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত শহরের বাণিজ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কয়েকটি সড়ক বর্তমানে রিকশা ও যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে শহরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শনে দেখা যায়, শেরপুর শহরের শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত পৌর ট্রাক টার্মিনাল থেকে ঢাকলহাটি, শীতলপুর, দিঘারপাড় হয়ে নওহাটা খোয়ারপাড় মোড় পর্যন্ত সড়ক, দীঘারপাড় থেকে কান্দাপাড়া পর্যন্ত সড়ক, ঢাকলহাটি থেকে শেখহাটি বাজার পর্যন্ত সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা নয়আনী বাজার কালিবাড়ী মোড় (ডিসি গেইট) থেকে কলাহাটি হয়ে খরমপুর মোড় পর্যন্ত সড়ক এবং অষ্টমীতলা পুলিশ লাইন থেকে নবীনগর হাজির দোকান মোড় হয়ে রাজবল্লভপুর ও দুর্গানারায়ণপুর মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এসব সড়কের কার্পেটিং ও সীলকোট ওঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক কাদাজলে একাকার হয়ে যায়। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ঢাকলহাটি এলাকার ট্রলিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকলহাটি-দীঘারপাড়-নওহাটা-কান্দাপাড়া এলাকায় দুই শতাধিক চালকল অবস্থিত। এসব চালকল থেকে বিপুলসংখ্যক ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে চাল বোঝাই করে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই ট্রাক ও ট্রলি গর্তে আটকে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এসময় ঢাকলহাটি এলাকার বাসিন্দা সজল চন্দ্র দে বলেন, ‘ভাঙাচোরা এ রাস্তার জন্য আমাদের যে কষ্ট করতে হয়, তা বলার বাইরে। অসুখ-বিসুখ হইলে কোন গাড়ি পাওয়া যায় না। কোন প্রয়োজনেও এ রাস্তায় লোকজন আসতে চায় না। এটা কি পৌরসভার রাস্তা? দেখলে মনে হয় এটা পৌরসভার রাস্তা না, এটা মরণফাঁদ।’

পৌর শহরের দীঘারপাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌর কর বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়ন হয়নি। এসব সড়ক দেখলে মনে হয় এটি একটি নোংরা ও ভাঙাচোরা শহর। এসব খারাপ সড়কে রিকশাচালকেরা যেতে চান না। ফলে ভাড়া গুনতে হয় দ্বিগুণ।

পূর্বশেরী এলাকার বাসিন্দা মো. আওরঙ্গজেব বলেন, দীর্ঘদিন যাবত নবীনগর-অষ্টমীতলা পুলিশ লাইন সড়কের পূর্বশেরী অংশে কোনো ধরনের কাজ করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে এ সড়কে যাতায়াত করে থাকেন।

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো: জহুরুল হক বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে মুমূর্ষু রোগীর জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক (এডিবি) সহায়তায় তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্পের (ইউজিআইআইপি-৩) আওতায় ইতিমধ্যে শহরের কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। শীঘ্রই আরো কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন কাজ করা হবে। তখন পৌরবাসীর দুর্ভোগের অবসান হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫