ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শেষের পাতা

জুবাইদা গুলশান আরা আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক জুবাইদা গুলশান আরা (৭৫) আর নেই। গতকাল বেলা আড়াইটায় সিদ্ধেশ্বরীতে বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি ১৯৪২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
জুবাইদা গুলশান আরা তার সাহিত্যকর্মের অবদানস্বরূপ একুশে পদক লাভ করেন। উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, শিশুতোষ ছড়া মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫০ এর উপরে। তার বেশ কিছু গল্প উপন্যাস টিভি নাটকে রূপ দেয়া হয়েছে। ষাটের দশক থেকে লেখালেখিতে যুক্ত জুবাইদা গুলশান আরা কবি জসীমউদ্দীন পদকসহ আরো বিভিন্ন পদকে ভূষিত হন। পেশাগত জীবনে তিনি সরকারি কলেজ থেকে বাংলার অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেয়ার পর দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে এম এ পাস করেন। তার স্বামী অধ্যাপক মাহমুদ উল আমীন (মরহুম) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যা বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক ছিলেন।
জুবাইদা গুলশান আরার বেশ কিছু উপন্যাস ও ছোটগল্প প্রসিদ্ধি লাভ করে। শিশুদের জন্য তিনি প্রচুর ছড়া কবিতা লিখেছেন। তার উপন্যাস ও ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে বসতি, আলোটুকুর হাতছানি, নদী তুই কোনঘাটে যাবি, মধ্যরাতের বাতাস, সাগর সেচার স্বাদ, তখনো ঘুম ভাঙেনি, ভোরের হিরণ¥য়, আঁধারে নক্ষত্র জ্বলে, অগ্নিস্নান, কায়াহীন কারাগার, বাতাসে বারুদ রক্ত নিরুদ্ধ উল্লাস, হৃদয়ে বসতি, বিষাদ নগরে যাত্রা, দাওদানবের মালিকানা, প্রমিথিউসের আগুন, ঘৃণার জঠরে জন্ম, ঊষারাগ, অশ্রু নদীর ওপারে, কি লিখেছ তরবারি তুমি, পদ্মা আমার পদ্মা, হৃদয়ে নীল নাম, চৈতী তোমার ভালোবাসা, বিবর্ণ নগরী, মন্দাকিনী, উপন্যাস নদী, ভালোবাসার স্বভাব এমন, সোনালী রংয়ের নদী প্রভৃতি।
ছোটদের জন্য রচিত ছড়া কবিতা নিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে মজার ছড়া, ছানাপোনাদের ছড়া, কলকাকলির গান, নিঝুম দ্বীপের গল্প কথা, ঘুম ভাঙ্গানো নদী, গল্প তবু গল্প নয়, রূপমের ছিরা খানা, তোমাদের জন্য গল্প, পরিচয় হোক বন্ধুর সাথে, শিশু তোর খেলার সাথী, ছোটদের নাটক মেলা প্রভৃতি।
তিনি বাংলাদেশ লেখিকা সঙ্ঘের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। জাতীয় মহিলা সংস্থা, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলা একাডেমি, পেন বাংলাদেশ, ঢাকা লেডিস ক্লাব, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি প্রভৃতি সংস্থার সদস্য ছিলেন তিনি। সাহিত্য, সমাজ এবং নারীবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে তিনি নারীদের অগ্রগতি এবং নারী জাগরণের পক্ষে কাজ করেছেন।
জুবাইদা গুলশান আরা মুজবা আমিন ও মেহতাব আমিন নামে দুই কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, ভক্ত শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন। তার বাবা মোহাম্মদ ইউনুস, মা আঞ্জুমান আরা। গতকাল এশার নামাজের পর নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা। তিনি ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে বসবাস করছিলেন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫