ঢাকা, সোমবার,২৪ এপ্রিল ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

দৃষ্টিপাত : চলাফেরায় সতর্কতা

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

২০ মার্চ ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আমরা প্রতিদিন নানা কাজে বের হই। কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা, কেউ স্কুল-কলেজ কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাজের উদ্দেশে। অনেকেই সারা দিন বা রাতে কাজে ব্যস্ত থাকেন। কাজকর্ম করতে গিয়ে অথবা চলাফেরায় আমরা সাধারণত সাবধানতা অবলম্বন করি। কিন্তু অনেক সময় সতর্ক থাকি না অথবা বেখেয়াল থাকি। সাবধানতায় ঘাটতি থাকলে জীবনের ঝুঁকি বাড়ে। শঙ্কায় থাকে পরিবার। আমাদের নিয়ে তারা দুশ্চিন্তা করে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত।
এখন নারী-পুরুষ সবার কাজের পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে ব্যস্ততাও। এ কারণে সাবধানতা বা সতর্কতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে যতœবান হতে হবে।
পথ চলতে ডানে, বামে ও পেছনে খেয়াল করা উচিত। বিশেষ করে গাড়ি চলাচলে রাস্তায় সব সময়ই সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ গাড়ি তার সঠিক গতিতে যথাযথভাবে যে সব সময় চলবে তার নিশ্চয়তা নেই! গাড়ি বা ট্রেনে ওঠার সময় হাত-পা যেন ফসকে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। একটু অসচেতনতা হলেই জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
চলার পথে আশপাশে নির্মাণাধীন কোনো ভবন আছে কি না দেখে নেয়া ভালো। কারণ বিভিন্ন সময় পত্রিকার খবরে জানা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের ইট, লোহা বা নির্মাণসামগ্রী পড়ে মানুষের মৃত্যু ঘটছে, অনেকে গুরুতর আহত হচ্ছেন। ওই সব ভবন নির্মাণে জড়িত ব্যক্তিরা দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে কি জীবন সুরক্ষার জন্য নিজেই সচেতন হবো না?
একাকী নির্জন পথে চলা পরিহার করতে হবে। কারণ তখন নানা আশঙ্কা থাকা অমূলক নয়। রাস্তাঘাটে সদা তৎপর মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা। একটু সুযোগের অপেক্ষায় থাকে তারা। মুহূর্তেই ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে সব। এমনকি প্রাণও হারাতে পারেন। যানবাহনে অপরিচিতজনের দেয়া খাবার কিংবা নেশাযুক্ত দ্রব্যের মাধ্যমে অজ্ঞান করার ভয়ও রয়েছে। এ জন্য সদা সতর্কভাবে চলাফেরা করা দরকার। প্রয়োজনের তাগিদে অপরিচিত এলাকা বা অপরিচিতজনের সংস্পর্শে আসার আগে ভালোভাবে জেনে নেয়া উচিত। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। পরিচিতজনের সহায়তা নিতে পারলে ভালো।
চলার পথে টুকটাক কাজ করতে গিয়ে ভুলে যাই হাতে কিংবা কাঁধে ব্যাগ ছিল, ছিল ল্যাপটপ অথবা প্যান্টের পেছনের পকেটে মানিব্যাগ বা মোবাইল ছিল। সামান্য খেয়ালের ভুলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক জিনিসই হারিয়ে ফেলি, যা শত চেষ্টার পরও খুঁজে পাই না। এ রকম অবস্থা অনেকেরই হয়। এ জন্য চলার পথে, কাজ শেষে বা কাজের ফাঁকে সাথে থাকা জিনিসপত্রের দিকে দু-একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া ভালো। একটু সতর্ক হলে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
অনেকে রাত করে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরেন। কাজের চাপে সেটি হতে পারে। রাত গভীর হলে সারা দিনের কোলাহলপূর্ণ সড়ক নির্জন হয়ে পড়ে। ফাঁকা রাস্তায় গাড়িগুলো গতি পায়। এ সময় জীবনের শঙ্কাও বাড়ে। কখন বিপদ ঘটে ঠিক নেই। তাই যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এর পরও আমাদের ভুল হতে পারে। যতটুকু সম্ভব চোখ-কান খোলা রেখে চলতে হবে। একটু সচেতনতাই পারে আমাদের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি ও বিপদ থেকে মুক্ত রাখতে। ভুলে যাওয়া কিংবা কাজের বাধ্যবাধকতা স্বাভাবিক বিষয়। তারপরও আমাদের নিজের জন্য, পরিবারের জন্য চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। আসুন সতর্ক ও সচেতন হই। সাবধানে পথ চলি।
লেখক : শিক্ষক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫