নিত্যোপন্যাস : বিরোধী দল

রকিব হাসান

ঊনপঞ্চাশ.

সরে এলো রাজু।
তারপর দ্রুত ঘটতে শুরু করল ঘটনা। বগিগুলোর পাশ দিয়ে পেছনে চলে গেল জন, সঠিক ট্রাকটা খুঁজে বের করার জন্যে। ফিরে এসে সঙ্গীদেরকে জানাল, সাত নম্বর ট্রাকটায় রয়েছে মাল। তেরপলের কোনায় রয়েছে সাদা চিহ্ন।
‘ট্রাকের কাছে লরি নিয়ে যাও,’ নির্দেশ দিলো সে।
স্টার্ট নিলো লরির ইঞ্জিন। খুব ধীরে ধীরে গিয়ে থামল ট্রাকের পাশে। কুয়াশার আড়ালে থেকে ছেলেরাও এগোল।
লণ্ঠনের আলোয় তেরপল সরাল ডাকাতেরা। মাল নামাতে শুরু করল।
‘নিচে কী আছে?’ ফিসফিসিয়ে বলল অজিত। ‘বেশ ভারী মনে হচ্ছে।’
‘হবে সিসার চাদর-টাদর,’ টিপু বলল। ‘রাজু, ফোন করবি না?’
‘করব। আয়। ওদিকে ছোট একটা বিল্ডিং আছে না, বোধহয় ইয়ার্ডের অফিস। চিমনির পাশ দিয়ে টেলিফোনের তার বেরিয়েছে, দেখেছি। আয়।...এই জিমি, টু শব্দ করবি না।’
করল না জিমি। নিঃশব্দে চলল ছেলেদের পেছনে পেছনে।
লরির পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। থেমে গেল রাজু। কান পেতে শুনল। লরিতে কেউ আছে বলে মনে হয় না। যত শব্দ, সব হচ্ছে ট্রাকে। মাল খালাস করছে।
লরির পাশে এসে তিনজনকে অবাক করে দিয়ে একলাফে উঠে পড়ল ড্রাইভারের পাশের পা-দানিতে। খোলা দরজার ভেতরে কাঁধ ঢুকিয়ে দিয়ে ঝুঁকে কী যেন করল। তারপর নেমে এলো আবার।
লরির কাছ থেকে সরে এসে অপু জিজ্ঞেস করল, ‘কী করলি?’
চাবিটা নিয়ে এলাম। ইগনিশন কী। আর স্টার্ট দিতে পারবে না।’
‘তুই একটা জিনিয়াস, রাজু।’ বিস্ময় চাপতে পারল না টিপু। ‘সত্যি!’ (চলবে)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.