ঢাকা, রবিবার,২৩ এপ্রিল ২০১৭

ঢাকা

শিলা বৃষ্টিতে মুন্সীগঞ্জের আলুর  সীমাহীন ক্ষতি 

মু.আবুসাঈদ সোহান, মুন্সীগঞ্জ

১৯ মার্চ ২০১৭,রবিবার, ১৫:০৬


প্রিন্ট

আলু প্রধান অঞ্চল মুন্সীগঞ্জে শিলা বৃষ্টিতে গতকাল আলুর ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। সীমাহীন এ ক্ষতিতে আলুচাষীদের চোখের পানিতে ছল ছল করছে। গত সপ্তাহে একটানা ৩ দিনের বৃষ্টির পর গতকাল শনিবার ফের শিলা বৃষ্টি হওয়ায় মুন্সীগঞ্জ জেলা জুড়ে কৃষকের জমিগুলোতে পানি জমে গেছে। গত সপ্তাহে একটানা ৩ দিন বৃষ্টির কারনে পানি জমে আলুতে পঁচন সৃষ্টি হয়েছিলো। কিছু কিছু ক্ষেতে কৃষকরা রোদে শুকানো জন্য আলু আইলে তুলে রেখেছিল। কেউ আবার আলু তুলে জমিতে জমা করে রেখেছিল। এবার সবশেষ। আলু পঁচনের ঠেকানোর কোনো উপায় বাকি রইল না। মহাক্ষতির সম্মুখীন এ জেলার আলুচাষীরা। কত বছরে তা পুষাবে কেউ জানে না।

মুন্সীগঞ্জ জেলায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ১২-১৩ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা ধরা হয়েছিল। লক্ষমাত্রা যাই হোক না কেন? ইতি পূর্বে বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজ ঘুরে দেখা গেছে, একেকটি কোল্ড স্টোরেজে ২০-২২ হাজার বস্তা উঠছে। সবে মাত্র আলু উঠা শুরু হয়েছিল। পরপর তিন দিন বৃষ্টি আবার ২দিন রোদ উঠায় কৃষকরা হাফ ছেড়ে আলু উত্তোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল কিন্তু শনিবার সকাল, বিকাল সন্ধ্যায় পুনরায় মুষলধরে বৃষ্টি, শিলা বৃষ্টিতে আলু চাষীদের যেন মরার উপর ক্ষরার ঘা। শিলা আর বৃষ্টিতে গুলিয়ে গেছে আলু।

কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী এ বছর জেলার ৬টি উপজেলার ৩৯ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রা নিয়ে আলু চাষ করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৬৭টি হিমাগার রয়েছে। এতে ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ৪ লাখ মেট্রিক টন। ২৬ হাজার ৭শ’ ২০ হেক্টর জমির আলুর কৃষকরা তুলতে পারছে। বাকী জমির আলু কৃষকরা বৃষ্টির কারণে তুলতে পারেনি বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন। এ পর্যন্ত ১৩ লক্ষ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আলু উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।

কৃষক জমিগুলো শুকানোর প্রত্যাশায় থেকে সম্প্রতি জমিগুলো কিছুটা শুকালে পূর্ণদমে আলু উত্তোলন শুরু করেছিলো। কিন্তু শনিবার সকালে-বিকালে কয়েক দফা অনাকাক্ষিত বৃষ্টির পর ফের শিলা বৃষ্টি এ যেন মরার উপর ক্ষরার ঘা। কৃষকের সেই স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। আলু জমিতে ফের পানি জমে যাওয়ায় আলু উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কৃষকরা তাদের আলু জমির গাছ, জমির মধ্যে বিছানো খড় তুলে আলুর আইল কেটে আলু উত্তোলণ শুরু করেছে। কৃষকরা জানান, গাছ উত্তোলন করে রাখা আলুগুলো বৃষ্টির পানির সাথে মিশে কাঁদাযুক্ত হয়ে আছে। খাল ডোবা সংগ্লগ্ন জমিগুলোর পানি কৃষক নালা কেটে খালের মধ্যে অপসারণ করা হয়েছিল। আর যে সমস্ত জমিগুলো খাল নালা হতে দূরে সেগুলোর পানি কলসী ও বালতি ভরে ডোবা খালে এনে ফেলছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার গনাইসার গ্রামের কৃষক মোতালেব জানালেন, এবার এক কানি (দেড় হেক্টর) জমিতে আলু চাষ করছিলাম এর আগে বৃষ্টিতে ৭ গন্ডা (৪৯) শতাংশ জমির আলু পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। শনিবার আলু উত্তোলন শুরু করেছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হওয়াতে জমির মধ্যে পানি জমে গেছে। এদিকে বৃষ্টির কারনে দ্রুত আলু উত্তোলন করতে গিয়ে উপজেলাব্যাপী তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা গেছে।
প্রতিটি শ্রমিক ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হলেও আলু উত্তোলন করার শ্রমিক পাচ্ছে না কৃষক। ব্যয় বহুল আলু চাষ করতে গিয়ে কৃষকদের স্বর্ণালংঙ্কার বন্ধক ধারদেনা সুদ ও ঋন নিয়ে চাষাবাদ করেছিলো তারা। বিগত কয়েক বছর আলুর মূল্য কম থাকায় লোকসান গুনে আসছিলো কৃষক। কিন্তু হঠাৎ করে এ বছর অনাকাক্ষিত বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আলু পঁচে সব হারনোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে দিন কাটছে। এবার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১০ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছিলো। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্্িরক টন। সবেমাত্র প্রায় ৩ হাজার হেক্টের আলুর জমি উত্তোলন করা হয়েছে। এই উত্তোলিত আলুর অধিকাংশই জমির মধ্যে স্তুপ করে রেখেছে কৃষক। এই জমির মধ্যে স্তুপ করে রাখা আলু গুলোর মধ্যেও পানি জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, গজারিয়া, সিরাজদিখান, লৌহজং, টঙ্গবিাড়ি ও শ্রীনগর উপজেলায় সর্বত্র চলছে কৃষকের মাতম। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে আলুচাষীরা। এখন কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫