ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

রংপুর

 নিজের অর্থায়নে যমুনা সেতু করতে চেয়েছিলাম : এরশাদ

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

১৯ মার্চ ২০১৭,রবিবার, ১৪:৫৫


প্রিন্ট

 

দেশীয় অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মান পুরোনো কনসেপ্ট দাবী করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশকে দুভাগ করে রেখেছিল যমুনা। দেশকে এক করতেই নিজের অর্থায়নে নিজের ক্ষমতায় যমুনা সেতু করতে চেয়েছিলাম। পদ্মা সেতু নতুন নয়, যমুনা সেতু নতুন। সেখান থেকে শুরু হয়েছিল। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন করা হয় নি। আমাদের  শোøাগন হবে, এবারের সংগ্রাম উত্তরবঙ্গকে গড়ার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম উত্তরবঙ্গের  উন্নয়নের সংগ্রাম। উত্তরবঙ্গ যার হাতে, ঢাকার মসনদ তার হাতে। আগামী নির্বাচনে বৃহত্তর রংপুরের ২২টিসহ ৩২ টি আসনে নির্বাচিত হয়ে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন করতে চাই। এই কাজটি আমরা নিজেরাই করতে চাই। আমরা পরিবর্তন করতে জানি।

তিনি রোববার সকালে রংপুর মহানগরীর আক্কেলপুর উচচ ও সরকারী বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রংপুর সিটি করপোরেশনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাতীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাফিউল ইসলাম শাফি।  সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক গোলাম আযম।

দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান পুরোনো কনসেপ্ট দাবি করে এরশাদ বলেন, পদ্মা সেতু নতুন কনসেপ্ট নয়। যমুনা সেতু সেই কনসেপ্ট দিয়েছে। তখন আমি সার চার্জ নিয়েছিলাম। আমি আপনাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ৫০০ কোটি টাকা জমা করেছিলাম । নিজের অর্থায়নে নিজের ক্ষমতায় যমুনা সেতু করতে চেয়েছিলাম। পদ্মা সেতু নতুন নয়, যমুনা সেতু নতুন। সেখান থেকে শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি উত্তরবঙ্গের সন্তান। লেখাপাড়া করেছি ঢাকায়। ঢাকা যাওয়া কত কস্টের। আপনারা জানেন না। আমি জানি। যমুনা সেতু আমার দেশটাকে ভাগ করতে চেয়েছিল। সেকারনে আমি যমুনা সেতুকে এক করতে চেয়ছিলাম। সেজন্য যমুনা সেতু করেছিলাম। সেকারনে আমাদের দেশ এক হয়েছে। আরও অনেক কাজ বাকী আছে আমাদের। উত্তরবঙ্গেকে আমরা নতুন করে গড়ে চাই। আমাদের স্লোগান হবে এবারের সংগ্রাম, উত্তববঙ্গকে গড়ার সংগ্রাম।  এবার সংগ্রাম উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের সংগ্রাম।এরশাদ বলেন, আমাদের রংপুরে ডিভিশনে ৩২ টি আসন আছে। আমি আশা করবো আগামী নির্বাচিনে এই ৩২ টি আসন আমাকে উপহার দিবেন। আমি কথা দিচ্ছি আবার আমরা ক্ষমতঅয় এসে রংপুরের মানুষের উন্নয়ন করবো। আমরা পিছিয়ে আছি। কোন জয়গায় আট লেন রাস্তা হয়। আর আমাদের রাস্তা এখনও দুই লেন। আন্তনগর ট্রেন আছে মাত্র একটি। আমার সময় এখানে ৪৮ টি আন্তনগর ট্রেন ছিল। আজ রংপুরে আন্তনগর ট্রেন একটা তাও ভাঙ্গা গাড়ি। আমি চাই আমরা ক্ষমতায় আসি। আমরা ক্ষমতায় আসলে আমাদের উন্নয়ন আমরা নিজেরা করতে চাই।

এরশাদ বলেন, অনেক দুখের কথা আছে। এখন পর্যন্ত আমরা গ্যাস পাই নাই। আমাদের এখানে ইন্ডাস্ট্রি নাই। আমাদের বলা হয়, বাহের দেশ, আমাদের বলা য়য় মঙ্গাপীড়িত দেশ। আমরা মঙ্গাপীড়িত দেশ নই।  নিজের হাতে পরিশ্রম করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে জানি আমরা। আমরা গ্যাস চাই। শিল্প কলকরাখান চাই। আমাদের মানুষের কর্মসংস্থান চাই। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে এসব করতে চাই। আপনারা আমাদের সাথে থাকবে। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন করতে চাই। উত্তরবঙ্গকে উন্নয়নের রুপকার হিসেবে আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

এরশাদ বলেন, আমাদের এখানে কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নেই। একটা শুধু আছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের এতো ভির। যে কোন উপায় নেই। সেখানে ৯০ হাজার শিক্ষার্থী দরখাস্ত করে। ছাত্ররা যাবে কোথায়। আমরা চাই, রংপুরে পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হোক, সেখানে ছাত্র ছাত্রীরা পড়ালেখা করে মানুষ হোক বড় হোক।

এরশাদ বলেন, আমাদের ছেলেরা ঢাকায় রিকশা চালায়। মসজিদে থাকে। দুঃখ লাগে। বাংলাদেশের সমস্ত খাদ্য আমরা দেই। আমাদের ধান চাল খেয়ে বেঁচে থাকে ঢাকা। বেঁচে থাকে সারা বাংলাদেশ। আমাদের ছেলেরা রিকশা চালায়। কর্মসংস্থানের অভাব। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা পরিবর্তন করতে জানি। আমরা ছাড়া কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ে কোন কলেজে ভর্তি হবে। কারমাইকেল কলেজে কয়টা ছেলে মেয়ে ভর্তি হতে পারে। লেখাপাড়ার রাস্তা বন্ধ। রুদ্ধদ্বার তাদের জীবনে। দ্বার খূলে দিতে হবে। আমরা মানুষ করতে চাই এদের। আমরা পরজীবি হতে চাই না। আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। আমরা নিজের শিক্ষা দিয়ে আমরা আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই।

বক্তব্যের আগে তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের চমত্কার দেশীয় ডিসপ্লে উপভোগ করেন। ডিসপ্লে তে মুগ্ধ হয়ে তিনি এক লাখ টাকা পিকনিকের জন্য বরাদ্দ দেন। পরে তিনি বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন। এছাড়াও কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫