ঢাকা, শুক্রবার,২১ জুলাই ২০১৭

নারী

নারীর পেশা নির্বাচনে স্বাধীনতা

কেয়া তালুকদার

১৯ মার্চ ২০১৭,রবিবার, ১৪:৩৯


প্রিন্ট

একটা নারী যখন পড়াশোনা করে, তখন মা-বাবা ভাবেন পড়াশোনা শেষ করে একজন উপার্জনক্ষম ছেলের সাথে এবং বংশীয় পরিবারে বিয়ে দিলেই ঝামেলা শেষ। অথবা নারী শিক্ষিকা, নার্স, কলেজের প্রভাষক ও ব্যাংকে চাকরি করবে। আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেয় পরিবারের মানুষ। তারাই বলে দেয় সংসার, স্বামী, সন্তানদের দায়িত্ব পালন করাটাই আসল মানবিক কাজ। নারীটির ভাবনার গণ্ডিটা সেখানেই স্তব্ধ হয়ে যায়। এ রকম ভাবার পেছনের কারণ হিসেবে দেখা যায়, নারীরা চাকরি করলেও, সংসারেও সমান সময় দিতে হয়। একজন ছেলে যখন চাকরি করে, তখন অফিস থেকে ফিরে এসে সারাদিনের দায়িত্ব সম্পন্ন করে আসে। হয়তো কোনো বাবা ছেলেমেয়ের পড়াশোনার দায়িত্বটা নেয়। বাকি সাংসারিক যত রকম কাজ আছে তার দায়িত্ব নারীটার। সে কারণে চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের পদার্পণ তুলনামূলকভাবে কম। আবার কোনো নারী অফিসের কাজে কর্মস্থলের বাইরে যাবে এই বিষয়টিও অনেক পরিবার মেনে নিতে পারে না। প্রমোশন হলে বদলি হয়, সংসার থেকে দূরে থাকতে হবে বলে অনেক নারী তা নিতে পারে না। অনেক নারী ইঞ্জিনিয়ার এবং এগ্রিকালচারিস্ট হয়েও শুধু স্বামীর ইচ্ছাতেই গৃহিণী হয়ে জীবন পার করে। অনেক নারীকে সন্তান মানুষ করার জন্য চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।
নারী যদি লেখক হয়, সংসারের মানুষ বলে এত লেখালেখি করে কি হবে? সংসারের কাজে মন দাও। নামকরা লেখক হতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়।
নারী যখন চায় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনীতে অফিসার পদে পরীক্ষা দেবে, তখন বলে এত কঠিন ট্রেনিং নারীরা করতে পারবে না।
যদি কোনো নারী অভিনয় বা মডেলিং জগতে পা রাখতে চায় আগেই বলা হয় সমাজের মানুষের কাছে এ পেশার গ্রহণযোগ্যতা নেই। এদের ভালো ঘরে বিয়ে হয় না।
যারা ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে তাদের বলা হয় কোনো সরকারি চাকরি করার জন্য। কারণ বেসরকারি চাকরিতে বদলি বেশি তাই সংসার হবে না।
সমাজের মানুষ নারীদের উচ্চ পদেও দেখতে নারাজ। কারণ বেশি উচ্চ পদে গেলে নারী নাকি স্বামীকে গুরুত্ব দেয় না। সংসারও ভেঙে যায় তাড়াতাড়ি।
নারী ব্যবসা করতে গেলে বলে এসব ঝুঁকির কাজ, তুমি পারবে না।
জীবনের তাগিদ অথবা কারো চক্রান্তে পড়ে নারী যদি বেশ্যাবৃত্তি করে পুরুষদের খায়েস মেটাতে, তখন বলে এরা কোনদিন সমাজের মানুষের মধ্যেই পড়ে না।
নারী কি করবে ? সেটা সে নিজে নির্ধারণ করতে পারবে না। পরিবারের মানুষই তা নির্ধারণ করে দেবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বামীর সহযোগিতায় নারী অনেক উচ্চ পদে পদোন্নতি পেয়ে সাফল্য অর্জন করেছে।
নারীর উপার্জনে সংসার এগিয়ে যায়, তবে কেন এ রক্ষণশীল মানসিকতার জন্য নারী পিছিয়ে থাকবে ? নারীকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহযোগী ভাবলে কিছুটা সমস্যার সমাধান হতে পারে।
এত কিছুর পরও কিছু নারীরা কর্মদক্ষতা কাজে লাগিয়ে এখন পরিবার, সমাজ এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নারী যখন নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়ে, দক্ষতা অনুযায়ী উপযুক্ত পেশা নির্ধারণ করতে পারবে তখন আরো বেশি উন্নতি সাধন সম্ভব হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫