ঢাকা, সোমবার,২৪ এপ্রিল ২০১৭

রাজশাহী

দখল-দূষণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সূতিখালি নদী 

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

১৯ মার্চ ২০১৭,রবিবার, ১৪:০৪


প্রিন্ট

এক সময় মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত খর¯্রােতা সুতিখালি নদী নাব্যতা হারিয়ে এখন মৃতপ্রায়। এর বুক জুড়ে বেশিরভাগ অংশেই ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হচ্ছে। দখল-দূষণে এ নদী ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে দেশি মাছের অন্যতম এ প্রাকৃতিক উৎস ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
বেড়া উপজেলার মৎস অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, বেড়া-সাঁথিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সূতিখালি নদীর দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩৮ কিলোমিটার। এক সময় নদীর দু’পাড়ের চাষিরা নদী থেকে জমিতে সেচ দিয়ে ফসল ফলাতো। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় শ্যালোইঞ্জিন বসিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এত উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। বর্তমানে সুতিখালী নদী পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নিস্কাশন ক্যানেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইছামতি নদী থেকে উৎপত্তি সুতিখালি নদী সাঁথিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বেড়ার অধিননগরে হুরাসাগর নদের সাথে মিলিত হয়েছে। এই নদী দেশি মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে পুটি, চাপিলা, বাইন, মাগুর, টেংরা, কৈ, টাটকিনি, শোল, গজার, পাবদাসহ প্রায় সবরকম দেশি মাছ পাওয়া যেত। এ নদীর মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু। এখনো বাজারে সুতিখালি নদীর মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দখল-দূষণে নদীর আয়তন কমে আসায় মাছের পরিমাণ কমে গেছে। তাছাড়া কারেন্ট জালে অবাধে মা মাছ ও পোনা মাছ শিকার করায় মাছে বংশ বিস্তার মারাত্বকভাবে ব্যাহত হয়। বেড়া নাজিম বাজারে বিশ বছর ধরে মাছ বিক্রি করছেন সুদাম হালদার। তিনি বলেন, এখন সুতিখালির মাছ না এনে অনেকেই সে নামেই মাছ বিক্রি করছে। কারণ সুতিখালি নদীর কথা বললে মাছ তারাতারি বিক্রি হয়ে যায়।
বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, সুতিখালি নদী পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নিস্কাশন ক্যানেল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দখল-দূষণসহ নানা কারণে এ নদী এখন সংকুচিত হয়ে গেছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫