ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ আগস্ট ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বেপরোয়া প্রেসিডেন্ট

১৮ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ১৯:০৩


মঈনুল আলম

মঈনুল আলম

প্রিন্ট

সুদীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে কখনো দেখিনি দেশের প্রধানতম সংবাদপত্র তার সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ‘একজন মিথ্যুক, ডাহা মিথ্যুক’ বলে অভিহিত করতে। এখন তা-ই দেখলাম কানাডার বৃহত্তম সংবাদপত্র ‘টরন্টো স্টার’-এর ২৬ ফেব্র“য়ারি সংখ্যার সম্পাদকীয় পাতা খুলে।
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘কৃষ্ণ প্রতিভা’ (ডোনাল্ড ট্রাম্পস ‘ডার্ক ব্রিলিয়েন্স’) শীর্ষক প্রধান সম্পাদকীয়টা শুরু হয়েছে এই বলে- ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যা কথা বলেন। তিনি অনবরত মিথ্যা বলেন, অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, বেপরোয়াভাবে মিথ্যা বলেন। তিনি যখন সত্যকে বিকৃত করছে বলে অন্যদের অভিযুক্ত করেন (প্রায়ই যখন সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘বিরক্তিকর ও দুর্নীতিপরায়ণ’ বলে অভিযুক্ত করেন) তখনো অব্যাহতভাবে মিথ্যা বলেন। অনেকে সন্দেহ করেন যে, তিনি মিথ্যা বলার অভ্যাসকে চাঙ্গা রাখার জন্য অনবরত মিথ্যা বলেন, অথবা হয়তো: তিনি মিথ্যা বলা কিভাবে পরিহার করতে হয়, তা-ই ভুলে গেছেন।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনবরত মিথ্যাকথন সম্পর্কে তার জীবনীলেখক ও অন্য গবেষকদের ব্যাখ্যা উল্লেখ করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে : ‘শেষ কথা হলো : বিশ্ব সম্পর্কে ট্রাম্পের একটি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে। সেটাকে যদি এক কথায় বলতে হয়, তা হবে এই রকমÑ সত্য হচ্ছে, যে মিথ্যাটা বলে তুমি পার পেয়ে যেতে পারো সেটাই সত্য।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষেই কিভাবে পার পেয়ে যেতে হয় তা ভালোই জানেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তার বার্ষিক আয়কর প্রদানের কোনো বিবরণ পেশ না করেই প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়েছেন! অথচ আয়কর প্রদানের বিবরণ পেশ করা আইনত বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্প বিবরণ পেশ না করেই পার পেয়ে গেলেন!
নিউ ইয়র্ক টাইমসে (২৫ ফেব্র“য়ারি/২০১৭ সংখ্যায়) প্রকাশিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড লিওনহার্ডট লিখিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি এটাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার সাথে একটি ‘বাণিজ্যিক ষড়যন্ত্রের’ সম্ভাব্য কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব কোম্পানি ঋণে জর্জরিত হয়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো ট্রাম্পের নিজস্ব কোম্পানিকে আর ঋণ দিতে রাজি নয়। তাই ট্রাম্প রাশিয়ার দিকে চোখ দিয়েছেন। ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র তাদের দুবাই এবং নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বলেন, ‘রাশিয়ানরা আমাদের অনেকগুলো সম্পত্তিতে আনুপাতিকহীনভাবে অনেক বেশি বিনিয়োগ করেছে।’
লিওনহার্ডট লিখেছেন, ‘ট্রাম্প তার আয়করের বিবরণ প্রকাশ করে রাশিয়ার সাথে তার ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার সন্দেহ হতে মুক্ত হতে পারতেন। সব প্রেসিডেন্টই আয়কর প্রদান বিবরণ প্রকাশ করেছেন, ট্রাম্প তা করেননি এবং না করে তিনি সন্দেহের ছায়াতে থাকাটাই বেছে নিয়েছেন। তাই সহজেই ধারণা করা যায় যে, রাশিয়ার সাথে তার এমন সব ব্যবসায়িক সম্পর্ক তিনি গোপনই রাখতে চান।’
এমনই এক ‘বেপরোয়া মিথ্যাচারী’ ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন থেকে বিশ্বের অগ্রণী বলে কথিত দেশটিকে পরিচালিত করবেন? দেখা যাক, শেষ কোথায় গিয়ে ঠেকে! 

লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, প্রবাসী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫