ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

সংগঠন

বায়ু দূষণ রোধে জাতীয় পরিকল্পনা চায় বাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক 

১৮ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ১৪:৫৭


প্রিন্ট

রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতিতে পরিবেশ চেতনার অগ্রাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে পরিবেশবাদিরা রাজধানীতে বায়ু দূষণ রোধে সরকারকে জাতীয় পরিকল্পনা প্রনয়ণ করতে বলেছেন।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘‘অসহনীয় বায়ু দূষণে জর্জরিত ঢাকাবাসীর জীবন! বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রন করো! শিশুদের ভবিষ্যত দূষিত করো না!’’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে এদাবি করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), গ্রীন ভয়েস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়াটিভ, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, পিস, সিডাস, ইউনাইটেড পিপলস ট্রাস্ট এর য়ৌথ উদ্যোগে আজ এটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাপা’র বায়ু ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধ কর্মসূচীর সদস্য সচিব এম সিরাজুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস, বাপা’র নির্বাহী সদস্য ড. মাহবুব হোসেন, গ্রীন ভয়েস’র সহসমন্বয়ক হুমায়ন কবির সুমন, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, আদি ঢাকাবাসী ফোরামের সদস্য সচিব জাবেদ জাহান, নাগরিক উদ্যোগের এবিএম আনিসুজ্জামান, আইনের পাঠশালার সভাপতি সুব্রত দাস খোকন প্রমূখ।
এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকাসহ সমগ্র দেশ আজ ভয়াবহ বায়ূ দূষণের কবলে নিপতিত। আমাদের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার যদিও বেশ কয়েক বছর আগে সীসাযুক্ত পেট্রোল আমদানী বন্ধ করেছে এবং ঢাকা থেকে দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বেবিট্যাক্সি উঠিয়ে দিয়েছে, তথাপি আজ পুনরায় ঢাকা শহরের বায়ূ দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ ঢাকা শহরের চারপাশের ইটভাটা, তীব্র যানজট, পুরোনো মটরগাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ধূলা। এসব মিলিয়ে ঢাকার পরিবেশ এখন রীতিমতো অস¦স্তিকর। আর ঢাকা থেকে বিতাড়িত দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বেবি ট্যাক্সিগুলো অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলাচল করে সৃষ্টি করছে তীব্র বায়ূ দূষণ। শুধু তাই নয় দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত শহর এবং তার আশেপাশের জনবসতি ও কৃষি জমিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটা এই দূষণের ঘনত্ব আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যাপক ধূমপানও আমাদের বায়ু দূষণের আরেকটি কারণ। তিনি বলেন, বায়ুদূষণ বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এ মুহূর্তে সবচাইতে বেশি জরুরী।

মিহির বিশ্বাস বলেন, বায়ু দূষণ বন্ধ না করলে আমাদের জনস্বাস্থ্য সংকট আরো ভয়াবহরূপ ধারণ করবে। বর্তমান পর্যায়ে শুধু ঢাকা মহানগরী নয়, ভয়াবহ এই বায়ূ দূষণের মতো অবস্থা সমগ্র দেশের প্রায় সব শহর, বন্দর এবং গঞ্জে। মারাতœক এই দূষণের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় অবিল¤ে¦ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

মানববন্ধন থেকে পরিবেশবাদিরা সেকেলে পদ্ধতির সমস্ত ইটভাটা বন্ধ করে হাইব্রিড হফম্যান বা জিগজ্যাগ পদ্ধতির ইটভাটা চালু করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে স¦ল্পসুদে ইটভাটার মালিকদের ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, কাঠ পোঁড়ানো ও যত্রতত্র গাছকাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। বাসাবাড়ির রান্নাঘরে লাকড়ি পোড়ানো ক্রমান্বয়ে বন্ধ করতে হবে, বিকল্প জ্বালানী চালু করতে হবে, নারী স্বাস্থ্য উন্নয়নে রান্নাঘরে চিমনিযুক্ত চুলা বসানোরও দাবি করেন তারা। এর পাশাপাশি নি¤œমানের কয়লা আমদানী বন্ধের পাশাপাশি বিকল্প টেকসই জ্বালানী ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। তারা ধূমপান হ্রাসকরণে বিস্তৃত ও কার্যকর কর্মসূচী চালু করতে হবে, প্রচার বৃদ্ধি ও প্রকাশ্যে ধূমপানরোধক আইন আরো কঠোর ও তা বাস্তবায়নের দাবি জানান ।

 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫