ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৭ আগস্ট ২০১৭

আগডুম বাগডুম

পূর্বিতা

মোহাম্মদ আবদুল্লা হেল বাকী

১৮ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মিথিলার ছোট কাকা জাপান থাকেন। তার সাথে মিথিলার সরাসরি দেখা হয়েছে মাত্র একবার। তখন মিথিলা খুব ছোট। তবে নেটে তাদের প্রায় প্রতিদিন দেখা হয়। কথা হয়। তার কাকা তার সাথে জাপানের গল্প করেন। জাপান খুব সুন্দর। ছবির মতো। মিথিলা তার সাথে স্কুলের গল্প করে। সে প্রায়ই তার কাকার কাছে অনুযোগ করে, তার কোনো খেলার সাথী নেই। সে বাসায় একা একা সময় কাটায়। তার মা-বাবা দু’জনই তাদের চাকরি নিয়ে ব্যস্ত। তাকে সময় দেয়ার মতো তাদের সময় নেই। এ কথা শুনে তার মন খারাপ হয়। সে বিদেশ-বিভূঁইয়ে থেকে একা। মিথিলা সবার সাথে থেকেও একা। ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়। আস্তে আস্তে পরিবারের বাঁধন হালকা হয়ে যাচ্ছে। এর শেষ কোথায়! তিনি মিথিলাকে বলেন, আমি তোর খেলার সাথী পাঠাব। মিথিলা হাসে। মনে মনে ভাবে, কাকা কিভাবে খেলার সাথী পাঠাবে। একদিন সত্যি সত্যি তার খেলার সাথী হাজির। ফুটফুটে একটি মেয়ে। মাথায় ঝাঁকড়া চুল। হাত নেড়ে নেড়ে সুন্দর করে কথা বলে। মিষ্টি করে হাসে। আবার মাঝে মাঝে ব্যথিতও হয়। মিথিলা যত দেখছে তত বিস্মিত হচ্ছে। যেকোনো প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়। তবে সাথে সাথে দেয় না। একটু সময় নিয়ে দেয়। মনে হয় ভেবে উত্তর দিচ্ছে। তার কাকা বলেছেন, এটা নাকি আবেগপ্রবণ রোবট। মানুষের কথা বোঝে। ডাকে সাড়া দেয়। মিথিলা এর নাম দিয়েছে পূর্বিতা। মিথিলার আনন্দ আর ধরে না। মনে হয়, সে ভিনগ্রহের এক এলিয়েন পেয়ে গেছে। সে খুব উত্তেজিত। এখন তার স্কুলে মন বসে না। সে তার বন্ধুকে পেয়ে গেছে। এ কথা সে তার স্কুলের বন্ধুদের বলল না। তাদের সারপ্রাইজ দেবে।
পূর্বিতা এখন সারাক্ষণ মিথিলার সাথে সাথে থাকে। পড়ার সময় পাশে বসে থাকে। তার সাথে ঘুমায়। মিথিলার মাথায় তেল ম্যাসাজ করে দেয়। তাকে প্রজাপতি ধরে দেয়। কিন্তু মিথিলা কিছু খেতে বললেÑ মিষ্টি একটি হাসি দিয়েÑডানে-বাঁয়ে মাথা নাড়ে। একদিন মিথিলা তার বান্ধবীদের বাসায় নিমন্ত্রণ করল। তাদের সাথে পূর্বিতাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। বলল, আমার কাজিন। কেউ ধরতে পারল না। পূর্বিতার ব্যবহার খুব ভালো। তার ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ হলো। দিনে দিনে পূর্বিতা বাসার একজন হয়ে গেল। বাসার বেশ কিছু কাজ সে করে দেয়। কোনো কাজের কথা একবার বললে আর দ্বিতীয়বার বলতে হয় না। তার সহায়তায় বাসার সামনে খুব সুন্দর একটি ফুলের বাগান করেছে মিথিলা। এখানে খুব সুন্দর বিকেল কাটে তাদের। বাগানের পরিচর্যা করে। দু’জনে লুকোচুরি খেলে। একদিন ঘটল বিপত্তি। পূর্বিতার যে কী হলো! তাকে ঘাস কাটার জন্য ধারাল কাঁচি দেয়া হলো। সে ঘাস কাটা বাদ দিয়ে ফুলঝারি কাটতে লাগল। একেবারে কচুকাটা যাকে বলে। মিথিলা অপলক পূর্বিতাকে দেখছে। দেখতে দেখতে তার কালো গোলাপের ঝাড়টা কেটে ফেলল। ‘হায় আল্লাহ্’ বলে চিৎকার দিলো মিথিলা। কালো গোলাপটা তার অনেক পছন্দের। তার বাবাও এটা পছন্দ করেন। এভাবে কেটে ফেলল গাছটা! ওর হয়েছে কী! কাছে গিয়ে গায়ে ধাক্কা দিলো মিথিলা। অমনি তার দিকে তেড়ে এলো পূর্বিতা। সে আজ পাগলা হাতির মতো সব তছনছ করছে! মিথিলাকেও কি কেটে ফেলবে? ভয়ে দৌড় দিলো মিথিলা। ঘরে ঢুকে খিল এঁটে দিলো। পূর্বিতা কাঁচি নিয়ে ঘরের চার দিক ঘুরছে আর রাগে গোঙাচ্ছে। মিথিলা অনেক অনুনয়-বিনয় করে তাকে থামানোর চেষ্টা করল। সে কিছুতেই থামছে না। তার মাথায় আজ খুন চড়ে গেছে। তাকে থামাতে না পেরে মিথিলা কাঁদতে লাগল।
মিথিলার বাবা গাড়ি নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই পূর্বিতা আরো বেপরোয়া হয়ে গেল। গাড়ির শব্দে তার মেজাজ যেন কয়েক শ’ গুণ চড়ে গেল। দৌড়ে গিয়ে গাড়ির বডি গ্লাসে ধুম করে মারল এক বাড়ি। গ্লাস না ভাঙলেও মচকে গেল। তার বাবা যা বোঝার তা বুঝে ফেললেন। চলন্ত গাড়ি দিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলেন। ছিটকে পড়ে গেল পূর্বিতা। এবার গাড়ি ওপরে উঠিয়ে দিলেন। পিষে ফেললেন পূর্বিতাকে। গাড়ির পেষণে পূর্বিতার দেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গেল। কিছু যন্ত্রাংশ খুলে গেল। পূর্বিতা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মিথিলা বাইরে এসে দেখলÑ পূর্বিতার ছিন্নভিন্ন দেহ। তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর এমন পরিণতি মেনে নিতে পারল না। ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫