ঢাকা, শুক্রবার,১৮ আগস্ট ২০১৭

আগডুম বাগডুম

পাখির নাম সেক্রেটারি

মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ

১৮ মার্চ ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সেক্রেটারি পাখি। নামটা বেশ মজার। কৌতূহলও জাগে এরা পাখিদের কোনো দলের সেক্রেটারি কি না। না, এরা কোনো দলের সেক্রেটারি নয়। আসলে এদের মাথার পেছনের ঝুঁটিতে লম্বা পালক থাকে। এ পালকগুলোর গঠন আগেকার দিনে ব্যবহৃত পালকের তৈরি কলমের মতো। কলমের সাথে সেক্রেটারি বা সচিবের সম্পর্কটা আর বলতে হয় না। সম্ভবত এ জন্যই এদের নাম সেক্রেটারি পাখি। এরা শিকারি পাখি। এরা আফ্রিকার দেশীয় পাখি। সাহারা অঞ্চলের তৃণভূমি এবং সাভানায় এদের দেখা মেলে। ঈগলের মতো দেহ আর সারসের মতো লম্বা পা দেখে সেক্রেটারি পাখিকে খুব সহজেই চিনে নেয়া যায়। সাড়ে চার ফুট লম্বা এ পাখির মাথা ও ঠোঁটের গঠনও ঈগলের মতো। গড়ে এদের ওজন তিন দশমিক তিন কেজি। এদের গোলাকার ডানার বিস্তার ছয় দশমিক ছয় ফুট। অনেক দূর থেকে অথবা উড়ন্ত অবস্থায় এদেরকে সারস বলেই মনে হয়।
বসবাসের জন্য সেক্রেটারি পাখি উন্মুক্ত তৃণভূমি ও সাভানাই বেশি পছন্দ করে। এরা পরিযায়ী নয়, তবে খাদ্যের উৎস অনুসরণ করে অনেক দূরে যায়। এরা দিনের সবটুকু সময়ই মাটিতে কাটায়। অন্ধকার শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এরা এদের বাবলাগাছের আবাসস্থলে ফিরে আসে।
এরা জোড়ায় জোড়ায় কখনো পারিবারিক দল গঠন করে শিকারে যায়। কীটপতঙ্গ, ছোট স্তন্যপায়ী, টিকটিকি, সাপ, অপরিণত পাখি, পাখির ডিম প্রভৃতি খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। মাঝে মধ্যে মৃত প্রাণীও খায়। এরা ছোট গজলা হরিণও হত্যা করেÑ এ রকম প্রমাণ রয়েছে।
দেহকে দুলিয়ে দুলিয়ে উড়ে অনেক উঁচুতে ওঠে এবং কর্কশ ডাকের মাধ্যমে সেক্রেটারি পাখি প্রণয় আচরণ প্রকাশ করে। মাটি থেকে ১৫-২০ ফুট উঁচুতে বাবলাগাছে এরা বাসা তৈরি করে। স্ত্রী পাখিটি দু-তিনটি ফ্যাকাশে সবুজ রঙের ডিম পাড়ে। ৪৫ দিনে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। সেক্রেটারি পাখি সুদানের জাতীয় প্রতীক। দেশটিতে রাষ্ট্রপতির সিল এবং পতাকায়ও এ পাখির চিত্র রয়েছে। এ পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Sagittarius serpentarius.

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫