ঢাকা, রবিবার,২২ অক্টোবর ২০১৭

অনলাইন জগৎ

শঙ্কিত টিম বার্নাস লি

১৭ মার্চ ২০১৭,শুক্রবার, ১৬:৪৬


প্রিন্ট

২৮ বছর আগে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখেছিলেন টিম বার্নাস লি। আর এর ফলস্বরূপ বিশ্ব এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। তার কারণেই আজ আমরা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দুনিয়া চষে বেড়াতে পারি। তবে গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় আজ নিজের উদ্ভাবন নিয়ে শঙ্কিত টিম বার্নাস লি। এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী এখন নিজের উদ্ভাবনকে টিকিয়ে রাখতে কাজ শুরু করেছেন। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

স্যার টিম বার্নাস লি ১৯৫৫ সালের ৮ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে বলা হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) জনক। ১৯৮০ সালের দিকে টিম সুইজারল্যান্ডের ইউওএনআরে কাজ করতেন। ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চে (ইউওএনআর) তার কাজ ছিল তথ্য বিভাগে। ওখানকার কাজটা যে খুব কঠিন ছিল, তা নয়, কিন্তু তবু আমি মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে যেতেন টিম। কারণ, দেখা যেত একই ধরনের সমস্যা নিয়ে একই ধরনের তথ্য জানতে চাইছে সবাই। বারবার একই প্রশ্নের জবাব দেয়াটা খুবই একঘেয়েমি ছিল। কিন্তু ওই একঘেয়েমি থেকেই আসলে নতুন এক ইতিহাসের শুরু হয়েছিল। হাজারো বার একই প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় খুঁজতেন টিম সবসময়। তখন তার মাথায় প্রথম আসে, এমনটা যদি হতো যে প্রতিষ্ঠানে না এসে বা ফোন না করে, ঘরে বসেই যদি সব তথ্য পাওয়া যায় বা সব প্রশ্নের উত্তর মেলে, তাহলে মন্দ হয় না।
এসব চিন্তা করতে করতেই টিমের মনে হলো, এমন একটা ব্যবস্থা যদি করা যায় যে মানুষ তার প্রয়োজনীয় যেকোনো তথ্য একটা নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক থেকেই সংগ্রহ করে নিতে পারবে যখন ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা, তাহলে তা দারুণ হয়। এভাবেই ১৯৮৯ সালের দিকে টিমের প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের নিয়ে তৈরি করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।
এতদিন পরে গত এক বছরে তিনটি নতুন ধারার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে টিম বার্নাস লি’র। এই বিষয়গুলো হচ্ছে ভুয়া খবর, ব্যক্তিগত তথ্যে নিয়ন্ত্রণ হারানো ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন। তার মতে, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ছে দাবানলের মতো। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে সুনিয়ন্ত্রিত বিধিবিধানের অভাব হুমকি হয়ে উঠেছে গণতন্ত্রের জন্য। নাইট উপাধিপ্রাপ্ত ৬১ বছরের বার্নাস লি ২০০৯ সালে ওয়েব ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওয়েবকে উন্নতকরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ফাউন্ডেশনটি। বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে তথ্য শেয়ার, সুযোগের সন্ধান ও ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমানার সমন্বয় ঘটানোর জন্য একটি প্লাটফর্ম সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে বার্নাস লি ওয়েবের জন্য তার প্রকৃত প্রস্তাবনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া কিছু হাই-প্রোফাইল হ্যাক ও ভুয়া খবরের প্রচারণা লির বিশ্বাসভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্নাস লি ছাড়াও এসব বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রযুক্তিবিদরাও। এ নিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকো সিস্টেমসের সাবেক নির্বাহী মনিক মরো প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দায়িত্বপূর্ণভাবে কী উপায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়?’ বার্নাস লির ভাষ্যে, ডাটা সায়েন্সের মতো বিষয়গুলো আর্থিক অথবা রাজনৈতিক অভীপ্সা পূরণে অসাধু উপায়ে ব্যবহার হচ্ছে। কোনো সাইটে প্রবেশের সময় নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হয় ব্যবহারকারীদের। এটি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন তিনি। কারণ এর পর তথ্যগুলো সংরক্ষিত থাকে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সংরক্ষণাগারে। এতে ব্যবহারকারীরা তথ্য সরাসরি নিয়ন্ত্রণের অধিকার হারিয়ে ফেলেন। প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ নিয়ে কোনো কথা বলার উপায় থাকে না। এ ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হয় তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে। ফলে কোম্পানি ও সরকারের সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে সাধারণ নাগরিকদের জীবন।
রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন খাতসংশ্লিষ্ট বার্তার মাধ্যমে অত্যাধুনিক বিজ্ঞাপন ঝুঁকির সম্মুখীন করছে গণতন্ত্রকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ব্যবহার হয় অনৈতিক উপায়ে। নির্বাচনী প্রার্থী সম্পর্কে অনলাইনে ভুয়া সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অন্যদের প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থানের ভিত দুর্বল করে দেয়া হয়। এতে সৃষ্টি হয় জটিলতা। বিষয়টি মোটেই গণতান্ত্রিক নয়।
ভুয়া সংবাদ পরিবেশন, ব্যক্তিগত তথ্যে নিয়ন্ত্রণ হারানো ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তিবিশ্বকে প্রভাবিত করছে অন্য উপায়েও। ক্ষমতাবলে গুগল, ফেসবুকের মতো টেকজায়ান্টরা সুশীল সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর এটি ঘটছে সবার অলক্ষে। এসব সমস্যার কোনো সাধারণ সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন বার্নাস লি। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিজ্ঞাপনের চেয়ে সাবস্ক্রিপশন বিশ্লেষণ ও মাইক্রোপেমেন্টে গুরুত্ব আরোপের পরামর্শ দেন তিনি। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও জটিলতা কমবে। সবার জন্য ওয়েব নির্মাণ করা হয়েছে। এর ভালো সবই নির্ভর করছে আমাদের কর্মকান্ডের ওপর।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫