ফ্রান্সের স্কুলে গুলি, অফিসে বিস্ফোরণ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দক্ষিণ ফ্রান্সের একটি হাইস্কুলে বৃহস্পতিবার গুলিচালনার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েক আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় স্কুলের এক ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এক ছাত্র পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধান শিক্ষকের সাহসী ভূমিকা বড় ধরনের রক্তপাত এড়াতে সহায়ক হয়েছে। তবে তিনি নিজে এত সামান্য আহত হন। এছাড়া তিন শিক্ষার্থী গুলিজনিত জখম হয়। অপর দশ শিক্ষার্থীকে আতঙ্ক ও হুড়াহুড়িতে আহত হওয়ায় চিকিৎসা দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এক ব্যক্তি হাসপাতালে ছিল বলে জানা যায়।

একই দিন প্যারিসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অফিসে একটি চিঠি-বোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে সংস্থার এক কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রথম ঘটনায় আপাতত জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি বলেই পুলিশ জানিয়েছে। ধৃত কিশোরকে জেরা করে জানা গেছে, আমেরিকার স্কুল-কলেজে বন্দুকবাজদের ভিডিও দেখেই সে এমন ছক এঁটেছিল।

দ্বিতীয় ঘটনাটিতে জঙ্গিযোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া না গেলেও এখনও কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী দায় নেয়নি।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ গুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ ফ্রান্সের একটি ছোট্ট শহর গাহাসের তকভিল হাইস্কুল। অতীতে একাধিকবার জঙ্গি হানার শিকার হয়েছে ফ্রান্স। ফলে এ দিন গুলির শব্দ শুনতেই সারা স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি পড়ে যায়। হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল বহিরাগত কোনো বন্দুকবাজ স্কুলে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু কিছু পরেই দেখা যায় রাইফেল, গ্রেনেড ও হ্যান্ডগান হাতে ওই হামলা চালাচ্ছে স্কুলেরই দুই ছাত্র। তাদের বয়স হবে বড় জোর ১৬। পুলিশের হাতে এক জন ধরা পড়লেও অন্য জন পালিয়ে যায়।

ধৃত ছাত্রকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায় গাহাস শহরে। তকভিল হাইস্কুলের সঙ্গে অন্যান্য স্কুলও বন্ধ করে দেয়া হয়। জঙ্গিযোগ না পেলেও ভিডিও দেখে ওই দুই ছাত্র যেভাবে হামলা চালিয়েছে, তা দেখে বেশ চিন্তিত পুলিশ। তাদের কাছে অস্ত্র এল কী করে তাও জানার চেষ্টা চলছে।

এ দিনই চিঠি-বোমা আইএমএফ-এর প্যারিস অফিসে বিস্ফোরণ হয়। এক কর্মী বিস্ফোরক মোড়া ওই চিঠি খুলতে গেলে তা ফেটে যায়। তিনি সামান্য আহত হন। বুধবারও বার্লিনে জার্মান অর্থমন্ত্রীর দফতরে চিঠি-বোমা আসে। তবে বিস্ফোরণের আগেই তা উদ্ধার করে জার্মান পুলিশ। বৃহস্পতিবার অতি-বাম এক জঙ্গি সংগঠন বার্লিনের ঘটনার দায় নিয়ে জানিয়েছে, ছ’বছর আগে একইভাবে বিভিন্ন দূতাবাসে চিঠি-বোমা পাঠিয়েছিল তারা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.