ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ মে ২০১৭

রংপুর

রংপুরে নয় বছর পর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন

 সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

১৭ মার্চ ২০১৭,শুক্রবার, ১৩:০৮ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৭,শুক্রবার, ১৫:২২


প্রিন্ট

দীর্ঘ নয় বছর পর শনিবার রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে। সম্মেলনকে ঘিরে রংপুর মহানগীরতে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। সম্মেলনটিকে রংপুরে জাতীয় পার্টির হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্ব পুনর্জীবিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান দলীয় কোন্দল দূর, রংপুর সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার টেকসই টনিক হিসেবে দেখাতে চান আয়োজকরা। সেজন্য সম্মেলনের বক্তৃতায় পার্টি চেয়ারম্যানের সঠিক এবং টেকসই ফর্মুলা ও নির্দেশনা দাবী করেছেন তারা। এদিকে আয়োজনকে নির্বিঘœ করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্বা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃংখলাবাহিনী।

দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরীর এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে দীর্ঘ নয় বছর পর। শনিবার দিনভর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে। মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন হলেও জাতীয় পার্টি রংপুর মহানগরী, জেলা জাতীয় পার্টি, জাতীয় ছাত্র সমাজ জেলা ও মহানগর, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি জেলা ও মহানগর, কৃষক পার্টির জেলা ও মহানগর, সাংস্কৃতিক পার্টি জেলা ও মহানগর, রিকশা শ্রমিক পার্টি জেলা ও মহানগর, শ্রমিক পার্টি জেলা ও মহানগর সহ জাতীয় পার্টির সকল সহযোগি ও অঙ্গ সংগঠনের মুখর পদচারনায় এখন পাবলিক লাইর্বেরী মাঠ, দলীয় কার্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে। মাঠ ছাড়াও টাউন হল, পাবলিক লাইব্রেরী হল, গণ গ্রন্থাগার হল বুকিং দিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যেই মঞ্চ সাজানো হয়েছে। পুরো পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ এলাকা নেতা কর্মীদের টাউস আকৃতিসহ বিভিন্ন আকৃতির ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ব্যানার পোস্টার ছাড়িয়ে গেছে পুরো মহানগরীতে। নগরীর প্রত্যেকটি দেয়াল খুটিতে শোভা পাচ্ছে এরশাদ, রওশন এরশাদ, জিএম কাদের, রুহুল আমীন হাওলাদার, রাঙ্গা, মোস্তফা, ইয়াসিরের সাথে মহানগর ও ওয়ার্ডগুলোর নেতাকর্মীদের ছবি। যেক মনে হচ্ছে ব্যানার ফেস্টুন লাগানোর প্রতিযোগিতা। এদিকে ইতোমধ্যেই রংপুর মহানগরীর ২৮ টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে দলটি। ৫ টিতে করা হয়েছে আহবায়ক কমিটি। ওয়ার্ডের সভাপতি, সেক্রেটারী, সংগঠনিক সম্পাদক এবং আহবায়ক ও সদস্য সচিবগন সম্মেলনে কাউন্সিলর হিসেবে ভোটার থাকবেন। তবে দলীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই মহানগর কমিটি অনুমোদন করে দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধান অতিথি তা কেবল সম্মেলনে পাঠ করে শোনাবেন। সকাল ১১ টার মধ্যেই পাবলিক লাইবেরী মাঠে ব্যানার ফেস্টুন সমেত মিছিল নিয়ে আসবেন নেতাকর্মীরা। সম্মেলন উপলক্ষে অর্ধ লাখ নেতাকর্মীর শোডাউন হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। এমনিতেই দীর্ঘ নয় বছর পর সম্মেলন। তার ওপর সামনে রংপুর সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাথে আছে দলীয় মহা বিভেদ। এই সম্মেলনটিকে আয়োজকরা একসাথে পথ চলে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটি এবং রংপুরের প্রত্যেকটি আসনে জাতীয় পার্টির বিজয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে রংপুরকে এরশাদের অবিচ্ছেদ্য ঘাটি হিসেবে প্রমানের সিগনাল হিসেবে মনে করছেন। বিভেদ দূর করার কৌশল হিসেবে এখানে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গাপন্থীদেরও যথাযথ মর্যাদা দেয়ারও চেষ্টা করছেন আয়োজকরা।

সূত্র জানায়, ভেদাভেদ দুর করার কৌশল হিসেবে প্রধান অতিথি হিসেবে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ এমপি, কো চেয়ারম্যান সাবেক এমপি জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ বিভিন্ন নেতাদের নামে। যদি দলীয় সূত্র বলছে, রওশন এরশাদ ও রাঙ্গা সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন না। রওশন এরশাদ সরকারী কাজে ব্যস্ত আর রাঙ্গা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেক্ষেত্রে রওশন এরশাদ ও রাঙ্গা সম্মেলনে আসতে না পারলে রাঙ্গা পন্থীরা মাঠে তেমন একটা সুবিধাও করতে পারবেন না।

এদিকে দুপুরে সম্মেলন উদ্বোধন উপলক্ষে জাতীয় সঙ্গিতের পাশাপাশি দলীয় সঙ্গিতও পরিবেশন হবে। পরিবেশিত হবে এরশাদের লেখা সেই বিখ্যাত গানও।

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান জানান, দীর্ঘ নয় বছর পর এই সম্মেলন। আমরা দলীয় সকল ধরনের বিভেদ ভুলে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে এরশাদকে বলে দিতে চাই রংপুরে তার জনপ্রিয়তায় সামান্য ভাটা পড়ে নি। এই সম্মেলন হবে আগামী দিনে ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি। তিনি বলেন, সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেভাবে এই সম্মেলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে, তাতে মনে হয় আর কোন বাঁধা রইলো না জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় যাওয়ার। তিনি বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা জানিয়ে দিতে চাই, রংপুর সিটি করপোরেশনসহ রংপুরের ৬ টি সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির বিজয় নিশ্চিত করতে রংপুরের মানুষ কোন ভাগবাটোয়ারা মেনে নিবে না।

আয়োজন প্রসঙ্গে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, ২০১৮ সালে রংপুর সিটি করপোরেশন এবং ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্যার মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ভাইকে রংপুর সিটির মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। এই সম্মেলন সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হতে নেতাকর্মীদের প্রেরনা জোগাবে। পাশাপাশি রংপুরের ছয় টি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দিয়ে তা বিজয়ী করে আনতে এরশাদ স্যার প্রেরণা পাবেন। তিনি বলেন, আমরা অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মীর শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছি। সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় সকল কোন্দল মিটে গেছে। তিনি বলেন কোন ধরনের ঝুট ঝামেলা ছাড়াই স্মরণকালের সুশৃংখল জনবহুল একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন ইতোমধ্যেই আমরা ৩৩ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮ টির পুর্নাঙ্গ এবং ৫ টি আহবায়ক কমিটি গঠন করে দিয়েছি। সভাপতি, সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আহবায়ক ও সদস্য সচিবগন ডেলিগেট হিসেবে সম্মেলনে থাকবেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রংপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শাফিউল ইসলাম শাফী জানান, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা রংপুরে জাতীয় পার্টির হারানো অস্তিত্বকে পুনর্জীবিত করতে চায়। এজন্য তারা সম্মেলনের মাঠের বক্তৃতায় পার্টি চেয়ারম্যানের সঠিক এবং টেকসই দিকনির্দেশনা ও ফর্মুলা আশা করেন। যা রংপুর সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টনিক হিসেবে কাজ করবে।

রংপুর মহানগর জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ছোট জানান, আমরা দুই সপ্তাহ দিনরাত পরিশ্রম করে সম্মেলন সফল করতে সকল ধরনের সহযোগিতা করেছি। আমরা আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয় ছাত্র সমাজের আলাদা ইমেজ দেখাতে চাই নগরবাসিকে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুর রহমান সাইফ জানান, সম্মেলনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সম্মেলন স্থলসহ পুরো নগরীতে তিন স্তরের নিরাপত্বা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সাদা ও পোশাকী পুলিশ থাকবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। কোথাও কেউ অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা করলে তা জিরো টলারেন্সভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫