ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

বরিশাল

প্রবল বর্ষণে ৫০০ কোটি টাকার রবিশস্য বিনষ্ট

মু.জাবির হোসেন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

১৭ মার্চ ২০১৭,শুক্রবার, ১৩:০৮


প্রিন্ট

চলতি রবি মৌসুমে সরকারী হিসেবে পটুয়াখালী জেলায় ১ লাখ ৬৬ হাজার, ৯শ ৩৯ হেক্টর জমিতে রবিশস্যর আবাদ করা হলেও ৯ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত টানা ৬ দিনের প্রবল বর্ষনে দেড় লাখ,২৪ হাজার, ২৯ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। সে ক্ষেত্রে র্দূযোগের কবল থেকে ১৪ হাজার,৫শ ১০ হেক্টর জমির রবি শস্য রক্ষা পেয়েছে। এতে টাকার অংকে প্রায় ৫শ কোটির টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষক সুত্রে জানা গেছে।

তবে সরকারী ভাবে প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৪ কোটি টাকার একটি খসড়া ক্ষতি পূরনের তালিকা করেছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। এর মধ্য রয়েছে মুগ ডাল, খেসারী ডাল, ফেলন ডাল, মরিচ,তিল, চিনাবাদাম, আলু এবং তরমুজ। তবে এর মধ্য উল্ল্যেখ যোগ্য ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হচ্ছে রাঙ্গাবালী উপজেলা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় রবি মৌসুমে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬০ আক্রান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেলও আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৫০ হেক্টর, ৮৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষ হলেও আক্রান্ত হয়েছে ৮৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমির মুগডাল, ৫ হাজার ৬০৭ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষ হলেও আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬০৭ হেক্টর, ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হলেও আক্রান্ত ২ হাজার ১০০ হেক্টরের, ৮ হাজার ৯২২ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হলেও আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯২২ হেক্টর, খোসারির ডাল ২৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫০ হেক্টরের, ফেলন ১৯ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৩শ হেক্টর জমির।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে আরো জানা গেছে, পটুয়াখালীতে চলতি রবি মৌসুসে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৯ হেক্টর জমিতে রবিশষ্যে আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেড় লাখ ২৪ হাজার ২৯ হেক্টর জমির রবিশস্য আক্রান্ত হয়েছে। মোট ফসলি জমির তুলনায় ক্ষতির শতকরা হার ২০% থেকে ৫০ % পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্য তরমুজ ও কয়েক প্রজাতের ডালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃষ্টির আগেই অধিকাংশ আলু ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করায় আলু চাষিদের উপর বিরুপ প্রভাব পরেনি বলে জানান কৃষি অফিস।

রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামের তরমুজ চাষি আমির হোসেন জানান, অনেকটা আশা নিয়ে এবার তরমুজের আবাদ করেছিলাম। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেতে অনেক পানি জমে গেছে। পানি সরাবার কোন জায়গা পাচ্ছিনা। এই ক্ষতি কী দিয়ে কাটিয়ে উঠার কোন পথ খুজে পাচ্ছিনা। কী করে আমি দাদনের টাকা পরিশোধ করবো এ চিন্তা করলেই অন্তর কেঁপে উঠে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার নেতা গ্রামের তরমুজ চাষি আবু মুসা জানান, এবছর চরাঞ্চলে তরমুজের ফলন ভাল হয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় ৯০ থেকে এক ১০০ কোটি টাকার তরমুজ বাজারজাত করা যেত। কিন্তু এই বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ তরমুজ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আমাদের ব্যাপক লোকসান হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামের আব্দুল খালেক কৃষাণ জানান, তিনি মহাজনের কাছ থেকে দেড় লাখ দাদন নিয়ে এ বছর তরমুজের আবাদ করেছেন। কিন্তু অকাল বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের সব তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের সালাম ফকির জানান তার দেড় কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার সম্পূর্ন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি কী ভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন তা নিয়ে তিনি বিচলিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, আমারা কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি ফসলের যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়ও দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫