ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ মে ২০১৭

এশিয়া

উত্তর কোরিয়ার কিছু অদ্ভুত আইন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৭ মার্চ ২০১৭,শুক্রবার, ১০:২০


প্রিন্ট

একনায়কতান্ত্রিক দেশ উত্তর কোরিয়া। পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। তার শাসনব্যবস্থার কুখ্যাতিই বেশি। ‘খ্যাপা’ কিমের মতোই উদ্ভট তার আইনকানুন। যেমন বাপ-দাদা অপরাধ করলে, তার সাজা তিন পুরুষ ধরে ভোগ করতে হবে। নিজের পছন্দের চুল কাটা যাবে না। বাইবেলে চোখ রাখা নিষিদ্ধ। দেখা যাবে না পছন্দের টিভি চ্যানেলও। এ রকম কিছু বিধি-নিষেধ নিচে তুলে ধরা হলো :

১. উত্তর কোরিয়ায় মাত্রই ৩টি চ্যানেল দেখা যায়
আমাদের এখানে আমরা পছন্দের টিভি চ্যানেল দেখতেই পারি। কিন্তু, উত্তর কোরিয়ায় তা সম্ভভ নয়। সরকার স্বীকৃত মাত্র তিনটি চ্যানেল দেখা যায়।

২. ‘থ্রি জেনারেশনস অফ পানিশমেন্ট’ রুল কিম রাজ্যে দুঃস্বপ্ন
কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তিনি তো শাস্তি পাবেনই, সেইসঙ্গে তার গোটা পরিবারকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। ধরা যাক, কারও দাদা অপরাধ করল, তার সঙ্গেই তার ছেলে ও নাতিকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে।

৩. চুলের স্টাইলও সরকার অনুমোদিত
উত্তর কোরিয়ায় ২৮ ধরনের চুলের স্টাইল সরকারিভাবে অনুমোদিত রয়েছে। সেই নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ নিজের ইচ্ছেমতো চুল ছাঁটতে পারবেন না। তা নিষিদ্ধ। পুরুষ, মহিলা সবার জন্যই এই এক নিয়ম। কিম জং-উন ২০১৩ সালে চুলের স্টাইল সংক্রান্ত এই আইনটি পাশ করেন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, কিমের চুলের স্টাইলও কেউ অনুকরণ করতে পারবেন না। কারণ, কিম নিজের চুলের স্টাইলকে ইউনিক করে রাখতে চান। এমনকী স্পাইক চুলও করা যাবে না।

৪. কিমের দেশে বাস্কেটবল খেলার নিয়ম ভিন্ন
নিজেদের মতো করে বাস্কেট বলের নিয়ম বদলেছে উত্তর কোরিয়া। যেমন, তিনবার থ্রো মিস করলেই কাটা যাবে পয়েন্ট। আবার শেষের তিন মিনিটে গোল করতে পারলে মিলবে আট পয়েন্ট।

৫. উত্তর কোরিয়ার রাজধানীতে থাকতে হলে সরকারি অনুমতি চাই
যে কেউ চাইলেই, রাজধানী শহর পিয়ংইয়ংয়ে থাকতে পারবেন না। এর জন্য বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন। তার কারণ, কিম জং-উন চান, শুধুমাত্র সফল, ধনী ক্ষমতাধর মানুষই রাজধানীতে থাকুন। তাই পিয়ংইয়ংয়ে থাকতে হলে, আগে সরকারি অনুমতি আদায় করতে হবে।

৬. স্কুলে বাচ্চার ডেস্ক-চেয়ার মা-বাবাকেই দিতে হবে
স্কুলে বাচ্চাকে পাঠানোর আগে তার বসার ব্যবস্থা অভিভাবকেই করে দিতে হবে। অর্থাত্‍‌ ডেস্ক, চেয়ার সবই কিনে দিতে হবে। এরপর স্কুল ফি-ও আলাদা করে দিতে হবে।

৭. বাইবেল কেনা চলবে না
উত্তর কোরিয়ায় বাইবেল কেনা বা সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ, কিমের রাজ্যে বাইবেলকে পশ্চিমি সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। বাইবেলে উদ্বুদ্ধ হয়ে, লোকজন যাতে খ্রিস্টান না হয়ে পড়েন, তার জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা। রাস্তায় বাইবেল বিলোনের অভিযোগে একবার খ্রিস্টান এক মহিলাকে গ্রেফতারও করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

৮. অ্যাপল, সনি, মাইক্রোসফটেও নিষেধাজ্ঞা
উত্তর কোরিয়ায় অ্যাপল, সনি ও মাইক্রোসফটের পণ্য বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে, উল্লিখিত ব্র্যান্ডের আইফোন থেকে ল্যাপটপ, টিভি কিছুই পাওয়া যায় না। উত্তর কোরিয়ায় খুব কম সংখ্যক মানুষই এই ব্র্যান্ডগুলোর খোঁজ রাখেন।

৯. উত্তর কোরিয়া সম্পর্কিত কোনও পাশ্চাত্য সাহিত্য চলবে না
পর্যটকরা পাশ্চাত্যের কিছু নিয়ে উত্তর কোরিয়ায় ঢুকতে পারবেন না। এমনকী সেটা যদি গাইডবুকও হয়। সিকিওরিটি চেকের সময় গানের অ্যালবাম থেকে ফিল্ম ভিডিও সঙ্গে থাকলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫