ঢাকা, শুক্রবার,২৪ মার্চ ২০১৭

দিগন্ত সাহিত্য

আবুল মনসুর আহমদ : আলোকিত একটি নাম

১৭ মার্চ ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন জীবনশিল্পী আবুল মনসুর আহমদ। তার জীবনী ও সাহিত্যকর্ম পাঠে তাকে পাই নানান েেত্র সফলতার শীর্ষে। কখনো রাজনীতির ময়দানে, কখনো আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী হিসেবে, কখনো সংবাদপত্রে, কখনো সাহিত্যে স্যাটায়ারিস্ট ও প্রবন্ধের চিন্তানায়ক হিসেবে।
‘জীবনশিল্পী আবুল মনসুর আহমদ’ শুধু একটি গ্রন্থ নয়। এটি আবুল মনসুর আহমদের জীবন ও কর্মের সমৃদ্ধ বিশ্লেষণও বটে। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি সম্মেলনে তিনটি বিষয়ের মূল প্রবন্ধ, সভাপতিসহ অতিথিদের বক্তব্য, বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখা, পাঠপ্রতিক্রিয়াগুলোকে মুদ্রিতরূপে মলাটবন্দী করে বইয়ের রূপ দিয়েছেন তরুণ গবেষক ইমরান মাহফুজ।
বইটি দুটি পরিচ্ছেদ সাজানো। প্রথম পরিচ্ছেদে রয়েছে আবুল মনসুর আহমদের সাহিত্য, সাংবাদিকতা, রাজনীতিবিষয়ক আলোচনা। সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেছেন সৈয়দ শামসুল হক, বিশ্বজিৎ ঘোষ, সেলিনা হোসেন, মোরশেদ শফিউল হাসান। সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন রফিকুল ইসলাম, মো: চেঙ্গিশ খান, শামসুজ্জামান খান, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আবুল মোমেন, মুহম্মদ জাহাঙ্গীর। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন আনিসুজ্জামান, নুরুল আমিন, কামাল লোহানী, আল মুজাহিদী, আবুল আহসান চৌধুরী, হাবিব আর রহমান ও মিজানুর রহমান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে রয়েছে আবুল মনসুর আহমদ বিষয়ক প্রবন্ধ/নিবন্ধ, গল্প, পাঠপ্রতিক্রিয়া। লিখেছেন সোহরাব হোসেন, আন্দালিব রাশদী, ফেরদৌস আনাম, ফজলুল হক সৈকত, মনি হায়দার, স্বকৃত নোমান, কতুব হিলালী, পিন্টু রহমান, রফিকুজ্জামান রণি ও ইমরান মাহফুজ। আবুল মনসুর আহমদকে নিয়ে গল্প লিখেছেন রাশেদা রহমান। এ ছাড়া আবুল মনসুর আহমদের জীবনীগ্রন্থের ছয়টি পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখেছেন এই সময়ে ছয়জন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক।
১৯৪৯ সালে আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
আবুল মনসুর আহমদ ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্যদের ভোটে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে বণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর তিনি কারারুদ্ধ হন এবং ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। এরপর তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রƒপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। তার বিখ্যাত বিদ্রƒপাত্মক রচনা হচ্ছে : আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)। তার রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)। আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তার আত্মচরিত হলো আত্মকথা (১৯৭৮)। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬০), স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৭৯) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। সে বেঁচে থাকে তার কর্মে। জীবনশিল্পী আবুল মনসুর আহমদ তেমনিভাবে বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন।
আলাউদ্দিন আদর

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫