ঢাকা, সোমবার,২৪ এপ্রিল ২০১৭

আলোচনা

‘অসম্ভবের পায়ে’ দাঁড়িয়ে আছেন ‘সশস্ত্র সুন্দর’ কবি রফিক আজাদ

বকুল আশরাফ

১৬ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:১১


প্রিন্ট

রফিক আজাদের কবিতা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের হতাশা ও আর্তনাদের কবিতা। তাঁর কবিতা বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমা, রক্তাক্ত পটভূমি, হত্যা, মৃত্যু, দুর্ভিক্ষ, অভ্যুত্থান আর বেদনাকীর্ণ বাংলাদেশের ইতিহাস। আমরা যদি সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস, দুর্ভিক্ষের আর্তনাদের পটভূমিকে উপেক্ষা করি তবে রফিক আজাদের কবিতার অন্তগূঢ় ভাবকে বুঝতে পারি না এবং কবির সাথে তার পাঠকের দূরত্বকে বাড়িয়ে দিই। রফিক আজাদের কবিতাই স্বাধীনতা উত্তর সমাজচিত্রের স্পষ্ট উচ্চারণ। অসামান্য এক অভিজ্ঞতার জগতে আমরা কবি রফিক আজাদকে খুঁজে পাই।
প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরপর স্বাধীনতার যে দামামা বাজিয়ে ছিল আধুনিক কবিরা তার পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বাংলার মানুষ লালন করেছে এক মহাস্বপ্ন। স্বাধীনতার স্বপ্ন। মানুষ এক নতুন কমিটমেন্ট নিয়ে বাঁচতে চাইবে বা বাঁচার স্বপ্ন বুনে চলবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রমক্ষীয়মান স্বপ্নের বাতাসে যে হাহাকার ধ্বনি বেজে উঠেছিল তার দায় নিয়ে কবিতায় সে সময়ের চিত্র তুলে ধরেছেন এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা কবি রফিক আজাদ।
ভীষণ বদলে যাচ্ছি- বন্ধুদের উষ্ণ অভ্যর্থনা
সম্প্রতি বিরক্ত করে শুধু; এখন অসহ্য ঠ্যাকে
রেস্তোরাঁয় কোলাহল, গণতন্ত্র নিয়ে গলাবাজি।
পরনিন্দা ক’রে-ক’রে সুখ এখন পাই না আর।
তিরিশের কবিদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে অবশেষে
অগ্রজ কবির মধ্যে কেউ নিজের বাড়ির খোঁজ
পেয়েছেন কি না আমি সে সংবাদ পর্যন্ত রাখি না।
[বদলে যাচ্ছি]
কবি বুঝে গিয়েছিলেন এ দেশের সঙ্কটের কথা। তিনি জানতেন এ দেশের সঙ্কট হচ্ছে সামাজিক ও রাজনৈতিক সঙ্কট। তিনি উনিশ শতকের ছয়-এর দশকে উত্তাল রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে একটি বৈরী সঙ্কটের মধ্য দিয়ে পেরিয়ে এসেছেন। তাই সর্বদা কবিতায় শব্দ ব্যবহারে প্রতীকী ছিলেন। তাই কবিতায় আলাদা আমেজ ও সুর উচ্চারিত হয়েছিল। তিনি কিছুটা সুধীন্দ্রনাথ দত্তের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। কবিতায় শব্দ ব্যবহারে হিসেবি ও আঁটসাঁট কবিতার গঠনের জন্য তাঁর প্রিয় কবি ছিলেন বাংলা ভাষায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং বিদেশী ভাষায় টিএস ইলিয়ট।
এটম বোমার থেকে দু’বছরের বড় এই আমি
ধ্বংস ও শান্তির মধ্যে মেরু-দূর প্রভেদ মানি না।
ক্ষীয়মান মূল্যবোধে, সভ্যতার সমূহ সঙ্কটে
আমি কি উদ্বিগ্ন খুব ? - উদ্বিগ্নতা আমাকে সাজে কি?

রাষ্ট্র, রাষ্ট্রনীতি, নেতা, নানাবিধ আইন-কানুন
নিয়ন্ত্রিত ক’রে যাচ্ছে যথারীতি প্রকাশ্য জীবন,
ভিতর-মহল জেঁকে ব’সে আছে লাল বর্ণমালা।
সদরের-অন্দরে অনিবার্য সংঘর্ষের ফলে -গড়ে
সবুজ সংসার। - স্বভাবত, সদর বিমুখ আমি
ভিতর-সন্ধানী-আলো ফেলি সান্ধ্য-শামুকের মুখে।
[অন্তরঙ্গে সবুজ সংসার]
যুদ্ধ করেছেন কবি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। জঙ্গলে, জনপদে, রাতের পর রাত, দিনের পর দিন হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। যুদ্ধ করে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। কবিতায় সেই সময়ের যুদ্ধ বর্ণনায় তিনি নতুন সুর, নতুন চেতনা, এবং নতুন আবেগময়তার সৃষ্টি করেছেন।
মায়েদের মতো - আমারও দারুণ ভয় - গর্ভপাতে;
অবাঞ্চিত দুঃসংবাদে বয়ে আনে এসো না দ্রুত।
প্রতীক্ষায় ক্লান্ত এই- ২৮০ দিন পূর্ণ ক’রে
কোল-জোড়া শিশু চাই, সুন্দরের প্রথম রোদনে
দুঃসহ বেদনা ভুলে - মাতৃ স্নেহে -অতৃপ্ত তাকাবো।
তোমাকে বুঝতে হবে জননীর সঠিক সময়,
প্রতিটি ইন্দ্র্রীয় চায় উপযুক্ত কাল বুঝে তাই
তোমাকে আসতে হবে,- কায়মনে তৈরি হ’য়ে আছি...
[কায়মনে তৈরি হ’য়ে আছি]
মহাস্বপ্ন সত্যি হয়েছিল যুদ্ধ জয়ে। কিন্তু যুদ্ধের একটা ক্লান্তি আছে। বড় একটা মূল্য দিতে হয় যুদ্ধের জন্য। শিক্ষাকেন্দ্র্রগুলো ছিল বিধ্বস্ত। রাজনৈতিক অস্তিরতা থেকে মুক্ত হলো না দেশ। কবিরা কখনোই সমাজ বিচ্ছিন্ন নয়। সমাজের অসংলগ্নতা, অরাজকতা তাঁর কবিতায় প্রতিধ্বনি তুলেছে। নিপীড়িত বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাদের জাগিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছেন কবি রফিক আজাদ। কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা অর্জনের পরেও যখন রাজনৈতিক আস্থিরতা, প্রাশাসনিক দৌর্বল্য, সামাজিক দুর্নীতির বিস্তার, অপশাসন, প্রাকৃকিত দুর্যোগ সব মিলিয়ে এ দেশের মানুষ যখন চরম ক্ষুুধার জ্বালায় জর্জরিত, এমনই এক জটিল পরিস্থিতিতে কবিরাও গর্জে উঠেছিল। চারিদিকে তখন দুর্ভিক্ষ, অনাহারে মানুষের চাওয়া যখন একমুঠো ভাত, সে সময়কেই কবি রফিক আজাদ দুর্ভিক্ষের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন কবিতায়।
যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবি
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড ঘটে যাবে;
ক্ষুধার্তের কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন কানুন-
সমুখে যা-কিছু পাবো খেয়ে যাবো অবলীলাক্রমে;

উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ি-
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ।
ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।
[ভাত দে হারামজাদা, রফিক আজাদ]
‘রফিক আজাদের মুক্তি চাই’ ও ‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতা দুটির জন্য কবি রফিক আজাদকে নির্যাতন সইতে হয়েছিল। না, শুধু এ দু’টি কবিতাই নয় আরো অনেক কবিতায় রফিক আজাদ দেশ প্রেমিকের ভূমিকা পালন করেছেন। [আবদুল হাফিজ, রফিক আজাদের কবিতা : মাধবীর চাবি, আধুনিক সাহিত্যের বিবেচনা সমূহ ১৯৮২]
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রফিক আজাদের ‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতাটি এক চমকানো ঘোষণা এবং আক্রমাণাত্মক হলেও খোলামেলা প্রকাশ। যেখানে রয়েছে যুক্তির প্রাধান্য ও সমাজচিত্রের বাস্তবতা। ক্রোধ ও বঞ্চনার এ বহিঃপ্রকাশ হঠাৎ করে আসেনি। একজন যোদ্ধা জীবনকে তুচ্ছ করে দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বলেই তা সম্ভব হয়েছিল। তাছাড়া তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অসম্ভবের পায়ে’ আমরা পাই একজন অভুক্তার দৃশ্যকল্প যা বঞ্চনার ও বেদনার।
বড় বেশী আসুস্থ সে, যদিও ভুগছে না কোনো রোগে:
কিছুই রোচে না তার মুখে- খেলে বিমিষা হয়।
.....
রুগ্ণ প্রেয়সীকে তবু অসম্ভব ‘মূল্য’ দিয়ে খাদ্য এনে দেবো।
রক্তসিক্ত নগ্নপদে হেঁটে, অকস্মাৎ রাত্রিশেষ-
সম্মুখে সমুদ্র দেখে অনুভব করি;
অদ্ভুত রহস্যময় রেস্তোরাঁয় সমৃদ্ধ কিচেনে তৈরি
প্রচুর প্রোটিনযুক্ত, ক্যালোরি-প্রধান টাটকা সব
সুগন্ধি খাবার, অনন্ত সঙ্গীত, আর অনাবিল আলো-হাওয়া
মনে-প্রাণে চেয়েছিল, চায় আজীবন রুগ্ণ প্রেয়সী আমার॥
[খাদ্যান্বেষণ, আসম্ভবের পায়ে]
‘অসম্ভবের পায়ে’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে বিধ্বস্ত এক সামাজিক প্রেক্ষাপটে। যুদ্ধে বিনাশিত পটভূমিতেও সে সময় পাঠক হাতে পেল চিন্তা ও যতœ প্রসূত এক কবিকে যিনি ছন্দের উঠোন নিংড়িয়েই প্রবেশ করেছেন কবিতার ঘরে। খুঁজে নিয়েছেন সে ঘরের দরজা। ‘কারুকার্যময় হে দরোজা, তোমার গভীরে আর/স্বপ্নের বাস্তবে যাবো- পথ দাও, পথ ক’রে দাও [হে দরোজা, অসম্ভবের পায়ে]’। অনুভূতির ঝঙ্কার তুলেছেন কখোনো অমিতব্যয়ী শব্দ প্রয়োগে। কবির মধ্যে অস্থিরতা ছিল, তবে স্পষ্টতাও ছিল জীবনের আকুতি প্রকাশে। তাঁর ‘শরীরী পুতুল’ কবিতায় আবেগময় দৃঢ় উচ্চারণে অমোঘ ডাক রয়েছে ঘুমন্ত মানুষকে জাগাবার। ‘চিৎকার ক’রে চারপাশের ঘুমকাতর নগরকে জানাতে, ইচ্ছে জাগে: তিলে তিলে দগ্ধ হচ্ছ, হে, নিষ্ঠুর নগর, দ্যাখো, এক গোপন আগুনে জ্ব’লে পুড়ে আমি দাহ হয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি ম্যানশনের বন্ধ দরজা ভেঙ্গে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলতে ইচ্ছে হয়: হে নরো, হে নারী, দ্যাখো, একটা মানুষের ঘুম নেই, রাত্রি কেড়ে নিয়েছে নিদ্রা তাঁর- আর তোমরা কী গভীর মজা লুটছো! [শরীরী পুতুল, অসম্ভবের পায়ে]। কবি কখনোই ক্লান্তিহীনতায় ভুগেন নি, না পাওয়া আকাক্সক্ষায় কবি হতাশ হয়ে পরেন নি বরং জগৎটা যে ক্রমচলমান তার বুদ্ধিপ্রসূত প্রকাশ করে গেছেন, নিরাসক্ত নিরঞ্জন বুদ্ধিদীপ্ত পঙ্ক্তিমালায়। ‘মানুষ আসলে ফুল পছন্দ করে না; তার চেয়ে/রুটি ও সবজির গন্ধ ওরা বেশী ভালোবাসে! তবু/ ‘গোলাপ, গোলাপ’ -ব’লে কান্না করা/ওদের স্বভাব-[ক্ষুধা ও শিল্প]। ব্যর্থতার গ্লাণির মুখাপেক্ষী হয়ে বারবার আঘাত হেনে গেছেন কবি সমাজের অনিয়মকে। সঙ্ঘবদ্ধভাব আদর্শিক দাবি না করে কবিতায় একজন যোদ্ধার মতোই কাব্যযুদ্ধ করে গেছেন সাধারণ মানুষের জন্য। অপূর্ণতাকে কাব্যবন্দী করে বাস্তবতার পেরেক দিয়ে হতাশাকে উপলক্ষ্য করে যুক্তিসঙ্গত ঠুকে গেছেন আসঙ্গতির দেয়ালে। ‘সশব্দে দরজা খুলে বিমূঢ় বিস্ময়ে, দেখি আমি? মাথার উপরে ছাদ নেই, /চোখের সম্মুখে দেখি সব কটি দেয়াল উধাও-’[অলিখিত ঘর]।
স্বাধীনতার একযুগের মধ্যে রাষ্ট্রকাঠামোতে পরিবর্তন, সাধারণ মানুষের অতৃপ্ত বাসনা সোচ্চার মানুষের প্রতি নির্যাতন, এ সব কিছুতে প্রতিবাদী কবি রফিক আজাদ সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। কখনো সরাসরি, কখনো ইঙ্গিতে, কখনো প্রতীকীভাবে বর্ণনায়। রফিক আজাদের ‘সশস্ত্র সুন্দর’ তেমনই একটি কাব্যগ্রন্থ। দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর রাষ্ট্রযন্ত্রকে, সমাজকাঠামোকে পর্যালোচনা ও বিশেষণ করে লিখেন ‘সার্বভৌম পাঁচটি আঙ্গুল’, ‘মাল পানি জিন্দাবাদ’, ‘টেফিফোনে তোমাকে শুনে’, ‘আমি একটি কবর খুড়ছি’, ‘অটোবায়োগ্রাফিক অব অ্যানি আননোন বেঙ্গলী’, নত হও, কুর্নিশ করো’, ‘আমার একটি আগ্নেয়াস্ত্র চাই’ ইত্যাদি।
হে কলম উদ্ধত হয়ো না, নত হও, নত হতে শেখো
ভদ্রমহোদয়গণ,
এতএব, নত হও, বিনীত ভঙ্গিতে কর জোড়ে
মাফ চাও,...
[নত হও কুর্নিশ করো]।

‘ভালোবাসা’ শব্দটির সঙ্গে
‘মনুষ্য’ নামের এই প্রাণীগুলো পরিচিত নয়
অবিরাম ঘোরাঘুরি তাদের রয়েছে।
‘মানুষ’ শব্দটি লিখে আমি তাতে মুতে দিতে চাই।
[অটোবায়োগ্রাফি অব অ্যানি আননোন বেঙ্গলী]
একজন সম্ভাবনাময় কবি সর্বদা জয়ের প্রত্যাশা করেন। সুন্দরতম পরিবর্তনের পেছনে সভ্যতার উন্মেষ থেকে আজ অবধি বিস্ময়ের যে পালাবদল এমন এক আকাক্সক্ষায় কবি রফিক আজাদ সময়কে কে জানান দেন যে, ধেয়ে আসছে সশস্ত্র সুন্দর, দম্ভের পতন অনিবার্য। এমনও এক সময় ছিল মানুষের আশা আকাক্সক্ষা ও স্বপ্নকে বিকশিত হতে বাধা দিয়েছে স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু। অস্ত্রের মুখে থুবরে গেছে কত শত স্বপ্ন। আবার পিষ্ট হয়েছে বুটের তলায়, জিপের তলায়। রফিক আজাদের ‘স্বপ্ন’ কবিতা তেমনই এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ‘একদিন আসবেই তারা, অবশ্যবই, এসে যাবে;/ খুব বেশীদিন নেই, এই এলো বলে, সাবধান,/ ভদ্রমহোদয়গণ, প্রতীক্ষায় আছি দীর্ঘদিন;/ সভ্যতার উন্মুখ জরায়ু আদিম সূর্যের কাছে/ নত হবে,- ভিন্নতর বীর্যবত্তা জাগাবে বিস্ময়!/ সশস্ত্র সুন্দর এসে তোমাদের ঘটাবে পতন ॥ [সশস্ত্র সুন্দর, রফিক আজাদ]।
অথবা
আমার অনেক স্বপ্ন ছিলো-...
সৈনিকের বুটের তলায়
চকচকে মেশিন কারবাইনের নলে,
বি-৫২ থেকে শুরু ক’রে এফ-সিক্সটিনের ওড়াউড়িতে,
ভয়াল ট্যাংকের নিচে,
বিশ্বব্যাপী মেজর ও কর্নেলদের জীপের চাকায়,
জেনারেলদের ক্রুর চোখের তারায়
নিষ্পিষ্ট হ’য়ে
পোড়া কাগজের মতো
কুঁকড়ে গিয়েছে...
[স্বপ্ন, রফিক আজাদ]
পঙ্ক্তি নির্মাণে নিজস্ব ধরন, আবার কখনো রোমান্টিক মনোভঙ্গি তাঁর কাব্যে এক মাধুর্য্য অনুষঙ্গ সৃষ্টি করেছে। কবিতায় একই সঙ্গে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমাজ, অলঙ্কার ও ছন্দমাত্রার ঐতিহ্যের এক ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করেছে। তিনি তাঁর সৃজন কর্মের ব্যাপক অবদান কবি ও পাঠকদের জন্য রেখে গেছেন। তাই রফিক আজাদ এক ব্যতিক্রমী বিশিষ্ট কবি হিসেবে বাংলাদেশের কবিতা জগতে চির ভাস্মর হয়ে জ্বলবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫