ঢাকা, রবিবার,২৩ এপ্রিল ২০১৭

ধর্ম-দর্শন

আমানতদারির পুরস্কার

জাব্বার করিম

১৬ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:২২


প্রিন্ট

পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পদ-পদবি হলো আমানত স্বরূপ। মানুষ তার যোগ্যতা অনুসারে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন পদ-পদবি পেয়ে থাকেন। প্রত্যেক পদ-পদবি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কিছু দায় দায়িত্ব থাকে। কুরআনে পেশাগত দায়িত্বশীলতাকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যখন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তখন পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তদ্রুপ মানুষকে আল্লাহ পাঠিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াবি অর্জনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু কর্ম বেঁধে দিয়েছেন। যা কুরআনের ভাষায় শরিয়ত বলা হয়। একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজগুলো কিভাবে সম্পাদিত হবে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিবেশীর কল্যাণে ভূমিকা কী হবে? এর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কুরআনে আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। অহেতুক কোনো বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়ানো, বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, কুৎসা রটানো, গিবত করা, মিথ্যে সাক্ষ্য দেয়া ও স্বজনপ্রীতি করা দায়িত্ব অবহেলার শামিল। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের কাজকর্মের দায়িত্ব আপনার উপর নেই, আপনার কাজকর্মের হিসাব-কিতাবের কোনো রকম দায়িত্বও তাদের উপর নেই।’ (সূরা আনআম : ৫২)।
আপন পেশার দায়িত্ব পালনে যত্নশীল ব্যক্তিদের ইসলাম পছন্দ করে। তবে কারো কাছে সুন্দর মতো পথ জানা থাকলে তা অন্য কাউকে জানাতে কুরআনে নিষেধ নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের কার্যকলাপের ব্যাপারে আল্লাহ পাককে যারা ভয় করে, তাদের ওপর হিসাবের কোনো দায়দায়িত্ব নেই, তবে উপদেশ তো দিয়েই যেতে হবে, হতে পারে তারা আল্লাহ পাককে ভয় করবে।’ (সূরা আনআম : ৬৯)। বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় আলোচনা সভায় দেখা যায়, আলোচক বা বক্তা ফতোয়া দিয়ে কাউকে কখনো জান্নাতিদের দলে, কখনো কাফের-মুশরেকদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং কখন নিজ দায়িত্বে জাহান্নামিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে দেন। কুরআন কখনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি থেকে গোঁড়ামিমূলক কথাবার্তা প্রত্যাশা করে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা নিজেদের দীনকে টুকরো টুকরো করে নিজেরাই নানা দল উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের কোনো দায়িত্বই তোমার ওপর নেই; তাদের (ফায়সালার) ব্যাপারটা আল্লাহ পাকের হাতে।’ (সূরা আনআম:১৫৯)।
অঞ্চলভেদে মানুষের দৈহিক গঠন ও আকারে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি পেশার ধরনেও বৈচিত্র্য রয়েছে। সমাজের প্রয়োজনে যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিপেশার উদ্ভব হয়েছে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে আদিম সমাজ ব্যবস্থা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পারতেন। সমাজের কোনো পরিবর্তন হতো না। এক সময় মানুষ খাবার আগুনে পুড়িয়ে খেতো। সময়ের বিবর্তনে আগুনের দ্বারা খাবার রান্না করা হলেও খাবার তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে ভিন্নতা এসেছে। খাবার তৈরির ক্ষেত্রে পাতিল, তৈল ও মসলার ব্যবহার সংযোজন হয়েছে। আল্লাহ তার সৃষ্টিকে পরিচালনার জন্য ফেরেশতা, নবী ও রাসূল ইত্যাদি ভাগে ভাগ করেছেন। নবী ও রাসূলের ওপর প্রেরিত সব নির্দেশাবলি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানতস্বরূপ ছিল। একইভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের পক্ষ থেকে কেউ যদি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। ওই দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের মালিকের পক্ষ থেকে আমানত। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহপাক নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো তাদের মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেবে, আর মানুষের মাঝে যখন তোমরা বিচার ফায়সালা করবে তখন তা ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে করবে।’ (সূরা নিসা: ৫৮)।
সমাজের অনেকে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করে না। কেউ আবার শপথ ভঙ্গ করে বিশ্বাস ঘাতকতাও করেন। রাষ্ট্র কিংবা মালিকের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা না করে কর্তৃপক্ষের অগোচরে প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা ফাঁস করে দেন। বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করেন। সামান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে রাষ্ট্র কিংবা প্রতিষ্ঠানের বড় ক্ষতি করে ফেলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘ তোমরা আল্লাহ পাক ও রাসূলের সাথে কখনো বিশ্বাঘাতকতা করো না এবং জেনে শুনে আমানতের খেয়ানত করো না।’ (সূরা আনফাল: ৫৮)। দায়িত্বশীলতার বিপরীত হলো বিশ্বাসঘাতকতা। কুরআনে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বাস ঘাতকদের কঠোর শাস্তি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য পুরস্কার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ পাক মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী, মুশরিক পুরুষ, মুশরিক নারীদের কঠোর শাস্তি দেবেন এবং মুমিন পুরুষ মুমিন নারীদের ওপর ক্ষমাপরায়ণ হবেন।’ (সূরা আহজাব:৭৩)।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫