ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

দেশ মহাদেশ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অস্ত্রবাণিজ্য

আসিফ হাসান

১৬ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আবুধাবিতে গত মাসে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও সম্মেলন নামে অস্ত্রমেলা। মধ্যপ্রাচ্যে এটাই বৃহত্তম অস্ত্রমেলা। চার দিনের এই মেলা ছিল পুরোপুরি সফল। ১,২৩৫টি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। তবে প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল রেকর্ড সৃষ্টিকারী। শেষ দিনে আরব আমিরাত ফ্রান্স, রাশিয়া ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ৫.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র কেনার কথা ঘোষণা করে। উপসাগরীয় এই দেশটি বিপুল অর্থের অস্ত্র কেনার জন্য তেমন পরিচিত ছিল না। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে। আমিরাতও এখন অস্ত্র বাজারের বড় ক্রেতা থিংকট্যাংক স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি) সম্প্রতি দেখিয়েছে, ¯œায়ুযুদ্ধের পর পাঁচ বছর মেয়াদে বড় অস্ত্র কেনার হার এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রশ্ন উঠেছে, যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মন্দা যাচ্ছে, তখন কেন অস্ত্রব্যবসা এত চাঙ্গা হচ্ছে?
বহু মেরুর বিশ্বে ভঙ্গুর নিরাপত্তাব্যবস্থায় অনেক দেশই উদ্বিগ্ন। ¯œায়ুযুদ্ধ অবসানের পর থেকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ব্যাপকতর অস্থিতিশীলতার মধ্যেই এই সামরিক ব্যয় বেড়ে চলেছে। কয়েক বছর ধরে যে বিষয়টা বদলে গেছে তা হলো ২০০০-এর দশকের চেয়ে এখন অস্ত্র আমদানি খাতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আমদানি করা অস্ত্র কোথায় প্রয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে? পাশ্চাত্যের দেশগুলো আফগানিস্তান ও ইরাকে তাদের অস্ত্র ব্যবহার করছে। আর কয়েকটি দেশ পুরনো বিবাদের রেশ ধরে পেশিশক্তি প্রদর্শনের উপায় মনে করছে অস্ত্র আমদানি। এসব দেশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে শক্তি প্রদর্শন সম্ভব বলে মনে করছে না। আবার আমেরিকা আগের মতো এখন আর বিশ্বের পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছে না। এতে করেও অন্যদের অস্ত্র কেনায় বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে। এ কারণেই দক্ষিণ চীন সাগরে সীমান্ত থাকা ভিয়েতনাম ২০০৭-২০১১ সালের চেয়ে ২০১২-১৬ সময়কালে তিন গুণ বেশি অস্ত্র কিনেছে। সৌদি আরবের বেড়েছে ২১২ ভাগ, কাতারের ২৪৫ ভাগ।
তবে সরবরাহকারী পক্ষের চাপও অস্ত্র বিক্রি বাড়িয়ে দিচ্ছে। শতাধিক দেশে অস্ত্র রফতানিকারী আমেরিকা এই বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে। প্রযুক্তি যতই উন্নত হচ্ছে, তত উন্নত অস্ত্রের প্রয়োজন পড়ছে। ফলে পুুরনো অস্ত্র বাদ দিয়ে নতুন কিছুর সন্ধানে নামতেই হচ্ছে। লাভ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির অস্ত্র বিক্রি করে ২০০৮ সালের চেয়ে ২০১৫ সালে রফতানি বেড়েছে ৪২ ভাগ। অন্য আরো কয়েকটি দেশও লাভজনক বাজার দেখতে পাচ্ছে। যে চীন ১৯৯০-এর দশকে পাশ্চাত্যের সরঞ্জাম ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল, তারা এখন শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র রফতানিকারক। নানান ধরনের অস্ত্র তারা বিক্রি করছে। দক্ষিণ কোরিয়া বিমান বিক্রি করছে ল্যাটিন আমেরিকায়, রাশিয়াও ¯œায়ুযুদ্ধের ঐতিহ্যমণ্ডিত ব্যবসায়ে মনোযোগী হয়েছে।
প্রচলিত অস্ত্রের বিস্তারও উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করছে। সংযত করার মতো পরিবেশও তেমন কার্যকর নয়। পরমাণু অস্ত্র বিক্রির ওপর বেশ কড়া বিধিবিধান আছে। কিন্তু প্রচলিত অস্ত্রে তেমন কিছুই নেই বলতে গেলে। কেবল এটুকু নিশ্চিত হতে হয়, দায়িত্বহীন ব্যবহারকারীরা যাতে তা হাতে না পায়। আবার পরমাণু অস্ত্রও বিক্রির ওপর যেসব বিধিনিষেধ আছে, সেটার কার্যকারিতাও প্রমাণিত নয়। জাতিসঙ্ঘ-নেতৃত্বাধীন অস্ত্রবাণিজ্য চুক্তিটির বয়স মাত্র দুই বছর। এটাই বিশ্বব্যাপী অস্ত্র প্রতিযোগিতার লাগাম টেনে ধরার প্রথম প্রয়াস। তবে চীন ও রাশিয়া এখনো এতে সই করেনি, আমেরিকাও অনুমোদন করেনি। অথচ এই তিন দেশ মিলে বিশ্বের মোট অস্ত্রের ৬০ ভাগের বেশি রফতানি করে।
আবার ইইউ কোড অব কন্ডাক্ট অন আর্মস এক্সপোর্টের মতো বিদ্যমান আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাগুলো প্রচলিত অস্ত্র বিক্রির লাগাম টানতে ব্যর্থ হয়েছে শোচনীয়ভাবে। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক অঞ্চলে এ ধরনের কোনো চুক্তিই নেই। এ দিকে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে পরিকল্পনার কথা গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছেন, তাতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ভয়াবহ রকমের বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামীতে অস্ত্রমেলার পাশাপাশি অস্ত্রব্যবসাও হবে রমরমা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫