ঢাকা, শনিবার,২৫ মার্চ ২০১৭

থেরাপি

হাড়কিপ্টে পল্টু ভাই

মাহবুবুর রশিদ

১৬ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

যদি কোনো দিন পরীার খাতায় উদাহরণসহ কিপ্টে লোকের সংজ্ঞা আসে তাহলে, আপনারা আমাদের পল্টু ভাইকে অনুসরণ করতে পারেন। কারণ কিপ্টে, হাড়কিপ্টে, কঞ্জুস, কৃপণ যাই বলেন সব লণই আছে তার মাঝে। যার একটি বাস্তব প্রমাণ হলো, বিগত ১৭ বছর ধরে তিনি ডায়াবেটিসের অজুহাত দেখিয়ে চিনি ছাড়া চা খান। শুধুই চা বললে ভুল হবে! তিন বেলা ভাতের বদলে মাত্র এক বেলা ভাত খান, তাও নাকি পেটের েিদর যন্ত্রণায়। পল্টু ভাইয়ের হাতে সব সময় এক বোতল পানি থাকে। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদের ভালো একটি পরামর্শ জুড়ে দিলেন। ভাইয়ের সাফ কথা পানির মধ্যে নাকি সব ধরনের ভিটামিন আছে। তার মুখ থেকে একটি স্লোগান প্রায়ই আমরা শুনে থাকি ‘বেশি করে পানি খান’ ‘ভাতের ওপর চাপ কমান’। তবে সমস্যা একটাই পল্টু ভাই যে, মহা কিপ্টে লোক তা তিনি মোটেই মানতে নারাজ। একদিন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই আপনি এত কিপ্টে কেন? হুংকার ছুড়ে বললেন, আমি আবার কিপ্টে হলাম কবে? আমি তো অপচয় মোটেই পছন্দ করি না, কারণ অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আরেকটি মহৎ ডায়লগ শোনাগেল তার মুখ থেকে। তিনি মোটেই অপচয় করেন না, একেবারে সত্যি কথা। যার আরেকটি বাস্তব প্রমাণ, অপচয় ঠেকাতে তিনি গত কয়েক বছর থেকে সাবান দিয়েই শেভিং ক্রিম ও টুথপেস্টের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাইয়ের জীবনে স্মরণীয় করে রাখার মতো একটি মজার ঘটনা আছে। উনার অনুমতি নিয়ে ঘটনাটা আপনাদের বলছি। বিয়ের দিন শ্বশুরবাড়িতে বিয়ের গেট আটকে ধরলেন পল্টু ভাইয়ের শ্যালক-শ্যালিকারা, তারা নাকি টাকা না দিলে গেট ছাড়বে না। আমরা ভাইয়ের কানে কানে ঘটনাটা শুনালাম। তিনি আমাদের ওপর ভীষণ রেগে যান। রাগতস্বরে বললেন, তোমরা আমার পরে লোক টাকা ছাড়া কিভাবে গেট পার হওয়া যায়, এই পরামর্শ আমাকে বাতলে দাও। আমরা সবাই লজ্জায় মুষড়ে পড়ে গেলাম। নতুন মেহমান বাড়িতে কী করব, কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। এ দিকে পল্টু ভাই রাগে-ােভে বিষধর সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছেন। মিনিট পাঁচেক অপোর পরও যখন টাকা ছাড়া গেট খোলা হলো না। ভাই কনেপকে অনেকটা হুমকি দিয়ে আমাদের বললেন... চলো বাড়ি ফিরে যাই, বিয়ে করব না। যাদের বাড়িতে বিয়ের আগেই টাকা দিয়ে ঢুকতে হয়, তাদের বাড়িতে বিয়ের পর যে কী হবে...। যেই বলা সেই কাজ। আমাদের নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলেন। একপর্যায়ে কথাটি পল্টু ভাইয়ের শ্বশুর-শাশুড়ির কানে গেল। বিয়ে বাড়িতে শুরু হলো হইচই। সবার মুখে একই কথা বর নাকি চলে যাচ্ছে! বরকে সবাই অনেক কাকুতি-মিনতি করলেন। বললেন, গেটে কোনো টাকা লাগবে না, আপনি চলে আসেন। কে শোনে কার কথা। বর কিছুতেই রাজি নন। হঠাৎ করে পল্টু ভাইয়ের পাত্রী কাঁদতে কাঁদতে এসে তার সামনে হাজির... এই তুমি চলে যাচ্ছ... আমাকে সাথে নিবা না। টুকটুকে লাল চেহারা দেখে পল্টু ভাই বললেন... ও তুমি। তাহলে তুমি আগে গেটে আসলা না ক্যান। জানু... তুমাকে তো টাকা দিয়েও গেট পার হতে আমার কোনো আপত্তি ছিল না। পল্টু ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখে আমরাসহ বিয়েবাড়ির সবাই হাসতে হাসতে নাজেহাল হলাম।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫