ঢাকা, শনিবার,২৫ মার্চ ২০১৭

চট্টলা সংবাদ

জন্মদিনে পিএইচ ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজান

জীবনে চাওয়া-পাওয়া বলতে আর কিছু নেই

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

১৬ মার্চ ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

জীবনে চাওয়া-পাওয়া বলতে আর কিছু নেই। যতটুকু আল্লাহর কাছে চেয়েছি তার চেয়ে বরং বেশিই পেয়েছি। তাই শেষ দিনগুলোতে মানুষকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়েই যেন মরতে পারি। জন্মদিনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে পিএইচ ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন তার চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির ছায়া। গত ১২ মার্চ রাত ৮টায় নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ৭৪তম জন্মদিনের আয়োজন করা হয় সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছানো ব্যবসায়ী সুফি মিজানের। সেখানে তিনি হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। মানুষকে আজীবন ভালোবেসে গেছেন যে সুফি মিজান, জন্মদিনে সেই মানুষদের ভালোবাসাই বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি হয়ে ধরা দিয়েছে।
প্রথাগত ব্যবসায়ী না হলেও এই অঙ্গনে প্রবেশ করে নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে সুফি মিজান পৌঁছে গেছেন সাফল্যের শীর্ষে। তবে নিজেকে শুধু ব্যবসায়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি এ শিল্পপতি। সুফিতত্ত্ব, সংস্কৃতির জন্য খ্যাতিমান এ শিল্পপতির রয়েছে প্রগাঢ় ভালোবাসা। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মহৎ গুণ রয়েছে সমাজের সবমহলের শ্রদ্ধার আসনে থাকা এ ব্যক্তির।
জীবনের শুরুটা তত ভালো ছিলেন না তিনি। উচ্চ মাধ্যমিক পড়া অবস্থায় জীবিকার খোঁজে নারায়ণগঞ্জের জালাল জুট ভ্যালি কোম্পানিতে ১০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন তিনি। এরপর তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের চট্টগ্রামের লালদীঘি শাখায় জুনিয়র কার্কের চাকরিতে বেতন ছিল তার ১৬৭ টাকা। বেশি দিন এ চাকরি করা হয়নি তার। ১৯৬৭ সালে ব্যাংক পাল্টে যোগ দেন তৎকালীন ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের (পূবালী ব্যাংক) চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় জুনিয়র অফিসার হিসেবে। এতে বেতন দাঁড়ায় ৮০০ টাকা। এভাবে সাত বছর ব্যাংকে চাকরি করেন তিনি। এরপর ১৯৭২ সালে ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি ব্যবসায়ের শুরুর মাধ্যমে। ১৪৮৩ টাকা মূলধন ছিল ব্যবসায় পাতার প্রথম খুঁটি। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ব্যবসায় বাড়িয়েছেন দ্রুত। বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় সাফল্যের মুখ দেখেছেন ক্যারিশমেটিক বিসনেসম্যান মিজানুর রহমান। যিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত সুফি মিজান নামে। বর্তমানে তার শিল্পপরিবার পিএইচপিতে ২৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। ‘বিন্দু থেকে সিন্ধু গড়া এ ব্যবসায়ীর এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ১০ হাজারের বেশি কর্মী। ঢেউটিন, ফোটগ্লাস, কোল্ড রোল, শিপইয়ার্ড এবং নির্মাণাধীন গাড়ি সংযোজন প্রতিষ্ঠানসহ ২৩টি প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে বার্ষিক টার্নওভার পাঁচ হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছর সরকারকে রাজস্ব দেন ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা।
গত ১২ মার্চ ছিল সুফি মিজানুর রহমানের জন্মদিন। তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। আমদানি-রফতানি নিয়ে শুরু করা ৭৪ বছর বয়সী এ ব্যবসায়ী মানুষটির বয়স যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে পিএইচপি ফ্যামিলি।
বাংলাদেশে বর্তমানে যে ক’টা সত্যিকারের করপোরেট হাউজ গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে পিএইচপি অন্যতম। পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান সুফি মিজানের জীবন ঘিরে সুফিচর্চা, আধ্যাত্মিকতা আর আধুনিক মানুষের সুন্দর সহাবস্থান। তার আট সন্তান। প্রত্যেকেই উচ্চশিতি। পিএইচপি ফ্যামিলির সব ক’টা শিল্প উদ্যোগ তারাই এখন এগিয়ে নিচ্ছেন।
সুফিতত্ত্ব, সংস্কৃতির প্রতি খ্যাতিমান এ শিল্পপতির রয়েছে প্রগাঢ় ভালোবাসা। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মহৎ গুণ আছে সবার শ্রদ্ধার আসনে থাকা এ ব্যক্তিটির। জানা গেছে, ১৯৮২ সালে সীতাকুণ্ডে একটি শিপইয়ার্ড স্থাপনের মাধ্যমে শিল্প জগতে যাত্রা শুরু করেন সুফি মিজানুর রহমান। তারপর ১৯৮৪ সালে মংলা ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়ার্কস নামে দেশের প্রথম বিলেট তৈরির কারখানা স্থাপন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ঢাকায় ঢেউটিন কারখানা, ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামের কুমিরায় সিআর (কোল্ড রোল) কয়েলের কারখানা স্থাপন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২২ জুলাই প্রতিষ্ঠা হয় পিএইচপি ফ্যামিলি। এরপর সুফি মিজানুর রহমান ২০০৪ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে গড়ে তোলেন অত্যাধুনিক ফোট কাচের কারখানা। মালয়েশিয়ার গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি প্রোটনের সাথে একত্র হয়েই বাংলাদেশে প্রোটন গাড়ি তৈরি করবে পিএইচপি। নগরের গ্রিনভিউ এলাকায় প্রায় সমাপ্তির পথে এ গাড়ি কারখানা প্রকল্পের কাজ। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে যে মানুষটি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন, জন্মদিনে সেই মানুষটির কণ্ঠে পিতার প্রতি আজন্ম কৃতজ্ঞতার কথা।
সুফি মিজান বলেন, বাবাই আমার প্রেরণার উৎস। বাবাই আমাকে শিখিয়েছিলেন, তুমি যদি ব্যবসায়ের কৌশল জানো, টাকা তোমার পেছনে দৌড়াবে। ঠিক তাই হয়েছে এখন।

 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫